1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’’ - ভরা এ তরী

নদীপ্রধান বাংলাদেশে স্টিমার যাত্রার এক মনোজ্ঞ ছবি স্থান পেয়েছে জার্মানির সাপ্তাহিক ‘ডি ৎসাইট’ পত্রিকায়৷ প্রতিবেদক ডিটমার টেলসার প্রায় ৬০০ যাত্রীর সঙ্গে নদীবক্ষে তাঁর স্টিমার যাত্রায় যেন উপনিবেশ আমলের এক আমেজ পেয়েছেন৷

French, sailor, Bangladesh, France, boat, historic, solo, sailor, French, jute, ঠাঁই, নাই, ঠাঁই, নাই, ভরা, তরী, Newspaper, Germany, South Asia, বাংলাদেশ, ঢাকা, জার্মানি, পত্র-পত্রিকা, খবর,

ফাইল ছবি

পিঠে রুকসাক ঝোলানো ট্যুরিস্টদের জন্য প্যাডেল স্টিমারে চেপে কোথাও যাওয়া এখন বাংলাদেশ বেড়ানোর অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে৷ বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা সুন্দরবন ঘুরে দেখার সঙ্গেই নদীপথে যাত্রার সুযোগটাকে যুক্ত করে দেয়৷ ‘ডি ৎসাইট' সাপ্তাহিক পত্রিকার সংবাদদাতা যে স্টিমারে চড়েছেন তার নাম লেপচা৷ তিনি লিখছেন:

ঢাকা থেকে খুলনা পৌঁছতে এই স্টিমারের সময় লাগে প্রায় ৩০ ঘন্টার মত৷ তিন দিন পরেই আবার ফিরে আসে রাজধানীতে৷ ফার্স্ট ক্লাসে একবারের যাত্রার ভাড়া ইউরোর হিসেবে ১১ ইউরো৷ আর থার্ড ক্লাসের একখানা টিকিটের দাম এর এক-দশমাংশের বেশি হবে না৷ বাংলাদেশে অবশ্যই যাতায়াতের আরও দ্রুত, আরও আধুনিক বাহন আছে৷ সত্যি বলতে এই রকেট স্টিমারগুলো খুব সুন্দর জাহাজ নয়৷ যেমন ধরা যাক লেপচা৷ তার আকৃতি অনেকটা গোলগাল হাউসবোটের মত৷ জাহাজের প্যাডেল করার চাকার ওপরে টিনের আবরণ কেমন অদ্ভুত আকারের৷ তা সত্ত্বেও এ দেশে স্টিমারে করে যাত্রাটা তুলনামূলকভাবে আনন্দকর৷ দশ বর্গমিটার আয়তনের ছোট্ট কেবিনে রয়েছে এয়ার কন্ডিশনার, হাত মুখ ধোয়ার বেসিন এবং একখানা বেডসাইডটেবিল৷ বালিশ, চাদর, পর্দায় নীল রং'এ স্টিয়ারিং হুইল আঁকা৷ এ হল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জল পরিবহন সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি'র লোগো৷

লেপচা রকেট স্টিমারের সারেঙ আব্দুস সালাম৷ বয়স ৫১৷ দীর্ঘ সাদা দাড়ি তাঁর৷ কন্ঠ কোমল৷ প্রতিবেদক ডিটমার টেলসার তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন:

৩৪ বছর ধরে নদীতে স্টিমার চালাচ্ছেন তিনি - তার মধ্যে ১৭ বছর সারেঙ হিসেবে৷ বছরখানেক আগে এ কাজ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন৷ তাঁর ছেলে নদীতে ডুবে মারা যায়৷ জাহাজ কোম্পানি তাঁকে স্থলে কাজ দিতে চেয়েছিল৷ কিন্তু তিনি স্টিমার চালানো ছাড়েন নি৷ ‘‘ স্টিমারে যখন থাকি, অন্য সব ভাবনা আসে মাথায়'', বলেন সালাম৷ সব বন্দরেই ভিড়েছে তাঁর জাহাজ৷ দুর্ঘটনা ঘটে শুধু একবারই৷ জাহাজ তীরে ভেড়ার আগেই এক যাত্রী লাফ দিয়ে ডাঙায় নামতে গিয়েছিল৷ আর একটু হলেই স্টিমার তাকে পিষে ফেলত৷ রজধানীতে আদালতে হাজির হতে হয়েছিল সারেঙকে৷ জজ অবশ্য তাঁকে বেকসুর খালাস করে দেন৷

স্টিমারে দড়ি দিয়ে প্রথম আর তৃতীয় শ্রেণীর মধ্যকার সীমানা চিহ্ণিত৷ চোখ এড়িয়ে যায় নি সেটাও ‘ডি ৎসাইট' পত্রিকার প্রতিবেদকের৷ তিনি লিখেছেন:

সস্তার জায়গাগুলোতে নেই কোন কেবিন বা বসার চেয়ার৷ খোলা ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে বসে আছে নারী পুরুষ শিশু সবাই৷ এত বেশি লোক এত ঘন হয়ে বসে থাকলেও সবকিছু অবাক করবার মত শান্ত৷ ডেকের এক জায়গায় কাপড় দিয়ে ঢাকা আছে কমলা রং'এর লাইফ বেল্ট৷ একটি কিয়স্কে বিক্রি হচ্ছে পানীয় আর কেক বিস্কুট৷ বসে থাকা মানুষদের ভীড়ের মধ্যে এক যুবক কী যেন বলে যাচ্ছে৷ হয় ধর্মের কথা আওড়াচ্ছে নয়ত বিক্রি করতে চায় কিছু৷ অধিকাংশ মানুষ অবশ্য মুখ ফিরিয়ে আছে অন্যদিকে৷

ভাষান্তর: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ