‘ট্রাম্প নৈতিকভাবে প্রেসিডেন্ট হবার অযোগ্য’ | বিশ্ব | DW | 16.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

যুক্তরাষ্ট্র

‘ট্রাম্প নৈতিকভাবে প্রেসিডেন্ট হবার অযোগ্য’

এবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কোমি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প নৈতিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের অযোগ্য৷ ট্রাম্প মহিলাদের ‘মাংসের টুকরো’ হিসেবে গণ্য করেন বলেও দাবি করেছেন কোমি৷

রবিবার এবিসি নিউজ টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে কোমি এসব মন্তব্য করেন৷ ট্রাম্প কোমিকে বরখাস্ত করেন গতবছর৷ এফবিআই তখন ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনি অভিযানের সঙ্গে রুশযোগাযোগের অভিযোগ তদন্ত করছিল৷

বরখাস্ত হবার পর এটাই ছিল কোমির প্রথম বড় সাক্ষাৎকার৷

ট্রাম্প কোমি ও তাঁর ‘এ হায়ার লয়ালটি’ বা ‘উচ্চতর আনুগত্য’ বইটির ক্রুদ্ধ সমালোচনা করে টুইটারে কোমিকে ‘স্লাইমবল’ বা ‘নোংরার হদ্দ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাঁকে ‘‘ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট এফবিআই প্রধান’’ আখ্যা দিয়েছেন৷ রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি বলেছে যে, কোমি তাঁর ‘‘বই বিক্রির জন্য যা খুশি বলতে রাজি’’ এবং তাঁর সাক্ষাৎকারটি প্রমাণ করে যে, ‘‘তাঁর উচ্চতর আনুগত্য একমাত্র নিজের প্রতি৷’’

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ‘অযোগ্যতা’

কোমি বলেছেন, ‘‘তাঁর মানসিক অদক্ষতা বা বয়সের কারণে মতিভ্রম সম্পর্কে যা বলা হয়, তা আমি বিশ্বাস করি না৷ শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে উনি প্রেসিডেন্ট হবার অযোগ্য বলে আমি মনে করি না৷ উনি নৈতিকভাবে প্রেসিডেন্ট হবার অযোগ্য বলে আমি মনে করি৷ নৈতিকভাবে উনি প্রেসিডেন্ট হবার অযোগ্য৷’’

‘‘আমাদের প্রেসিডেন্টকে শ্রদ্ধার প্রতিমূর্তি হতে হবে এবং দেশের অন্তরতম মূল্যবোধকে মেনে চলতে হবে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সত্যবাদিতা৷ এই প্রেসিডেন্ট তা করতে সমর্থ নন৷’’

আইনের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি

ট্রাম্প যে কোমিকে হোয়াইট হাউসের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন সম্পর্কে এফবিআই-এর তদন্ত সমাপ্ত করতে বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে ‘‘বাস্তবিক আইনের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির কিছু হদিশ আছে,’’ বলে কোমির ধারণা৷ ট্রাম্প উভয়ের মধ্যে এ ধরনের কোনো বার্তালাপের কথা অস্বীকার করলেও তা বাস্তবিক ঘটেছিল বলে কোমি বারংবার দাবি করেছেন৷ তবে ফ্লিন মামলায় তিনি তদন্তকারী বা সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন না, শুধুমাত্র সাক্ষী ছিলেন, কোমি এ কথাও উল্লেখ করেছেন৷

রাশিয়া প্রসঙ্গ

রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সংযোগের ব্যাপারে গুপ্তচর বিভাগের অপ্রক্রিয়াজাত খবরাখবর সম্বলিত একটি ‘ডসিয়ের’ বা দলিল আছে বলে কোমির বিশ্বাস৷ তিনি বলেন যে, তিনি গোড়া থেকেই ব্রিটিশ গুপ্তচর বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার স্টিলের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে প্রতীত ছিলেন৷

নারীর প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি

‘‘যে ব্যক্তি মহিলাদের সম্পর্কে এমনভাবে কথাবার্তা বলেন ও তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন যেন তাঁরা শুধুমাত্র মাংসের টুকরো; যিনি গুরুত্বপূর্ণ বা অকিঞ্চিৎকর বিষয়ে একটানা মিথ্যাভাষণ করে থাকেন, এমন একজন ব্যক্তি নৈতিক বিচারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবার উপযোগী নন৷ এবং এটা (আমার) নীতিগত মন্তব্য নয়,’’ বলেন কোমি৷

আনুগত্য

‘‘উনি এফবিআই প্রধান হিসেবে আমার ব্যক্তিগত আনুগত্য দাবি করেছিলেন৷ আমার আনুগত্য মার্কিন জনগণ ও সংবিধানের প্রতি হওয়ার কথা,’’ কোমি মন্তব্য করেন৷ উত্তরে ট্রাম্প টুইটার করেন, ‘‘আমি কোনোদিন কোমির কাছ থেকে ব্যক্তিগত আনুগত্য চাইনি৷ এমনকি আমি এই মানুষটাকে প্রায় চিনি না বলা চলে৷ ওঁর অন্যান্য নানা অসত্যের মধ্যে আরো একটি৷’’

এসি/এসিবি (এএফপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়