1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মধ্যপ্রাচ্য

ট্রাম্পের অনুরোধে ফিলিস্তিনের উন্নয়নে ইসরায়েলের উদ্যোগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সৌদি আরব থেকে ইসরায়েল যাচ্ছেন৷ তার আগে তাঁকে ‘আস্থা গড়ার মতো কিছু’ উপহার দিতে ইসরায়েলের কাছে অনুরোধ রেখেছেন তিনি৷

Auslandreise US-Präsident Trump in Saudi-Arabien - Rede (Getty Images/AFP/M. Ngan)

সৌদি আরবে মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে রবিবার ফিলিস্তিনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ফিলিস্তিনিদের ক্রসিং পারাপারের সময়সীমা বৃদ্ধিমূলক কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা৷

দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ট্রাম্প মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করবেন৷ তার আগে ইসরায়েলের কাছে তিনি তাঁকে ‘কনফিডেন্স-বিল্ডিং মেজার্স’ অর্থাৎ আস্থা গড়ার মতো কিছু উপহার দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন৷ তার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ যেমন, পশ্চিম তীরের দক্ষিণ দিকে ফিলিস্তিনি শিল্পাঞ্চলের প্রসার বাড়ানোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে৷ এছাড়া ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে অবস্থিত অন্যতম ব্যস্ত ক্রসিং ‘শার এফরাইম’ দিয়ে পারাপারের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে৷ ফলে যে ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলে কাজের অনুমতি আছে, তাঁরা এখন থেকে দিনের যে কোনো সময় ঐ ক্রসিং পার হতে পারবেন৷

ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশ এলাকায় বসতি গড়তে ফিলিস্তিনের অনুমতি দেয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে৷ এর আগে ঐ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য অনুমতি পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের দৈনিক হারেৎস৷

সোমবার বিকেলে ট্রাম্পের জেরুসালেমে পৌঁছানোর কথা৷ এরপর তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন৷

প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প পূর্ব জেরুসালেমে অবস্থিত ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ পরিদর্শনে যাবেন৷ এ নিয়ে ক'দিন ধরেই বিতর্ক চলছে৷ কারণ, পূর্ব জেরুসালেম ইসরায়েলের মধ্যে পড়ে কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে চাননি মার্কিন কর্মকর্তারা৷

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পূর্ব জেরুসালেম ও পশ্চিম তীর দখল করে৷ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনও তার অনুমোদন দেয়নি৷

পরবর্তীতে পূর্ব জেরুসালেমকে যুক্ত করে ইসরায়েলর পুরো জেরুসালেম শহরটি তাদের রাজধানী বলে দাবি করে৷ এদিকে ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুসালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ দেশের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে৷

ট্রাম্পের অসংগতিমূলক বক্তব্য

নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প সৌদি আরব, ইসলাম ও মুসলমানদের সমালোচনা করে কট্টর বক্তব্য দিলেও রবিবার মুসলিম বিশ্বের নেতাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে নরম সুর দেখা গেছে৷ ২০১৬ সালের মার্চে ব্রাসেলসে সন্ত্রাসী হামলার পর ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘স্পষ্ট করে বললে, মুসলমানদের নিয়ে আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমাদের দেশে আসা মুসলমানদের নিয়ে সমস্যা হচ্ছে৷’’ তবে রবিবারের বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন ‘আরব, মুসলিম ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরীহ মানুষ’৷

ভিডিও দেখুন 01:01

নারীদের দাস হিসেবে গণ্য করায় এবং সমকামীদের হত্যা করায় প্রচারণার সময় সৌদি আরবের কড়া সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প৷ এমনকি টুইন টাওয়ারে হামলার পেছনে সৌদিরা দায়ী বলেও মন্তব্য করেছিলেন৷ তবে এবার সৌদি আরব সফরে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি সবসময় আপনাদের (সৌদি) দয়ার কথা শুনেছি, আপনাদের দেশের চমৎকারিত্বের কথা শুনেছি৷ কিন্তু আসলে শব্দ দিয়ে এই পবিত্র ভূমির বিশালতার কথা প্রকাশ করা যাবে না৷’’

নির্বাচনি প্রচারণার সময় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে ক্লিন্টন ফাউন্ডেশনের জন্য দান গ্রহণ করায় হিলারি ক্লিন্টনের সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প৷ তবে এবার জানা গেল, ট্রাম্প কন্যা ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ইভানকা ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘ওমেন এন্ট্রেপ্রেনিউর্স ফান্ড’-এ ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়ার অঙ্গীকার করেছে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত৷

মুসলিম বিশ্বের নেতাদের উদ্দেশে আবেগপূর্ণ বক্তব্য

রবিবার সৌদি আরবে ট্রাম্প প্রায় ৫০টি মুসলিমপ্রধান দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন৷ এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে শনিবার সৌদি আরব পৌঁছেন৷

সন্ত্রাসী তথা জঙ্গিদের ‘সরে যেতে বাধ্য করতে’ আরব ও ইসলামিক নেতাদের প্রতি আবেগঘন আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প৷ এক্ষেত্রে সবাইকে এক হতে এবং ইসলামি জঙ্গিদের পরাজিত করতে যার যার দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে৷ তবে শান্তির যাত্রা শুরু হয় এইখানে, এই প্রাচীন ভূমিতে, এই পবিত্র ভূমিত৷’’

মুসলিম বিশ্বের নেতাদের ট্রাম্প বলেন, ‘‘সুন্দরতর ভবিষ্যৎ তখনই সম্ভব যখন আপনারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের চলে যেতে বাধ্য করতে পারবেন৷’’

পুরো বক্তব্যে তিনি ‘ব়্যাডিক্যাল ইসলামিক টেররিজম’ শব্দটি একবারও ব্যবহার করেননি৷ নির্বাচনি প্রচারণার সময় তিনি এর বহুল ব্যবহার করেছিলেন৷

জেডএইচ/এসিবি (এএফপি, রয়টার্স)

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন