1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

‘ট্যাবলেট যুদ্ধ’ শুরু হয়ে গেছে

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে হয়ে গেল কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো বা সিইএস৷ প্রতি বছর জানুয়ারিতে বসে এই মেলা৷ সারা বছর ধরে যেসব ইলেকট্রনিক পণ্য মানুষের নজর কাড়বে, সেগুলোর একটা ঝিলিক দেখা যায় এই মেলায়৷

default

লাস ভেগাসে কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো

এতদিন পর্যন্ত মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল টেলিভিশন সেট৷ কে কতো সুন্দর আর প্রযুক্তি সমৃদ্ধ টিভি বানাতে পারে - সেটাই দেখানো হতো মেলাতে৷ কিন্তু সেই দিন আর নেই৷ এখন চলছে ইন্টারনেট প্রযুক্তির যুগ৷ হবেই বা না কেন ? আমাদের জীবনটাকেতো ইতিমধ্যেই অনেক সহজ করে দিয়েছে ইন্টারনেট৷ সেটাকে আরও সহজ করা যায় কীভাবে, সেই জিনিসই দেখিয়েছে কোম্পানিগুলো৷

Flash-Galerie Time Magazin Best Inventions of 2010 Square

স্মার্ট ফোন

যেমন ধরুন আপনি বাজার করছেন৷ কিন্তু ফ্রিজে দুধ বা ডিম আছে কি না, সেটা আপনার মনে নেই৷ আবার বাসায় কেউ নেই যে দেখে আপনাকে জানাতে পারবে তথ্যটি৷ তখন নিরূপায় হয়ে আপনাকে আন্দাজের উপর ভর করে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷ যেটা ভুলও হতে পারে, আবার সঠিকও হতে পারে৷ কিন্তু আপনাকে এই সমস্যা থেকে রেহাই দিতে ‘এলজি' নিয়ে আসছে একটি ফ্রিজ, যেটা ঘরে থাকলে আপনি বাজার থেকেই খবর নিতে পারবেন ফ্রিজে কী কী আছে৷ অবশ্য এর জন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটা স্মার্ট ফোনের আর তার সঙ্গে বাড়িতে থাকতে হবে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক৷ শুধু তাই নয়, ফ্রিজের কোন অংশে আপনি কী জিনিস রেখেছেন, ফ্রিজ না খুলেই সেটা জানতে পারবেন৷

এবার স্মার্ট ওভেনের গল্প৷ এটা যুক্ত থাকবে একটা কম্পিউটার সার্ভারের সঙ্গে৷ তাহলে সে নিজে নিজেই কম্পিউটার থেকে বিভিন্ন রেসিপি ডাউনলোড করে রাখবে৷ ফলে আপনি যখন রান্না করতে যাবেন, তখন ওভেনের গায়ে থাকা মনিটরে ভেসে উঠবে আপনার কী কী প্রয়োজন সেই লিস্ট বা তালিকা৷ আর রান্না শেষ হলে ওভেন নিজে নিজেই আপনার স্মার্টফোনে বার্তা পাঠিয়ে দেবে৷ কী স্বপ্ন স্বপ্ন মনে হচ্ছে না তো?

এবার গাড়ির গল্প শোনাবো আপনাদের৷ জার্মান কোম্পানি ‘আউডি' একটি গাড়ি দেখিয়েছে মেলায়, যেটাতে বসে চালক তার চোখের সামনে থাকা কাঁচেই দেখতে পারবে গাড়ির গতি কতো এবং কোন দিকে যেতে হবে৷ এতদিন যে তথ্যগুলো জানার জন্য চালককে চোখ নীচে করে ড্যাশবোর্ডের দিকে তাকাতে হতো৷ এছাড়া মার্কিন কোম্পানি ‘ফোর্ড' এনেছে সম্পূর্ণ বিদ্যুতে চলবে এমন গাড়ি৷ আরেক মার্কিন কোম্পানি ‘জেনারেল মোটরস' এনেছে দুই সিটের এবং দুই চাকার গাড়ি৷ যেটা নিজে নিজেই পার্কিং করতে পারে৷ এমনতি স্মার্ট ফোন দিয়েই যাকে ডেকে নেয়া যাবে৷

এতক্ষণে নিশ্চয় সবার মনে একটা শব্দ গেঁথে গেছে৷ আর সেটা হলো স্মার্ট ফোন৷ আসলে সিইএস মেলার অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল স্মার্ট ফোন৷ বিশেষ করে ‘মটোরোলা' কোম্পানির ‘অ্যাট্রিক্স' নামের স্মার্ট ফোনটি নজর কেড়েছে সবার৷ এই ফোনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটা দিয়ে ল্যাপটপে চার্জ দেয়া যায়৷ মেলা শেষে দেখা গেল, স্মার্ট ফোন ক্যাটাগরিতে অ্যাট্রিক্সই সেরা বলে বিবেচিত হয়েছে৷

এক সময়ের নামকরা কোম্পানি মটোরোলা যেন এই মেলার মধ্য দিয়ে আবার সাফল্যের ধারায় ফিরে আসার ঘোষণা দিল৷ কারণ স্মার্ট ফোনের মতো তাদেরই তৈরি ট্যাবলেট কম্পিউটার ‘জুম' মেলার সেরা ট্যাবলেট কম্পিউটার বলে গণ্য হয়েছে৷

এবারের মেলায় ‘ট্যাবলেট যুদ্ধ' শুরু হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন৷ কারণ বেশ কয়েকটি কোম্পানির ট্যাবলেট কম্পিউটার এসেছে মেলায়৷ গত বছর আইপ্যাড বাজারে আসার পর, সেটার বিপুল জনপ্রিয়তা দেখে কোম্পানিগুলো ট্যাবলেট কম্পিউটার বানাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ আর তারই ফল দেখা গেছে এবারের সিইএস-এ৷

এবার একটু ভিন্ন খবর৷ ‘গ্রিনপিস' নামের পরিবেশবাদী সংগঠনটি মেলা উপলক্ষ্যে একটি তালিকা তৈরি করেছে৷ যার মাধ্যমে কোন পণ্যটি কেমন জ্বালানি-বান্ধব সেটা জানানো হয়েছে৷ তালিকা বলছে, ‘আসুস'এর তৈরি একটি কম্পিউটার মনিটর সবচেয়ে বেশি জ্বালানি-বান্ধব৷ মোট ২১টি কোম্পানিকে জরিপে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানায় গ্রিনপিস৷ এর মধ্যে ‘অ্যাপল' ও ‘ফিলিপস' সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি৷

উল্লেখ্য, চার দিনব্যাপী এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে সারা বিশ্বের প্রায় ২,৭০০ কোম্পানি৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ