1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘টোয়েন্টিসিক্স-ইলেভেন’: ৬ বছর পর

নাইন-ইলেভেন: নিউ ইয়র্ক; থ্রি-ইলেভেন: মাদ্রিদ; সেভেন-সেভেন: লন্ডন৷ বিশ্বের অভিশপ্ত সন্ত্রাসী আক্রমণগুলির তালিকায় ২০০৮ সালে যোগ হয় মুম্বই৷ সে আক্রমণে প্রাণ হারান অন্তত ১৬৪ জন মানুষ, সেই সঙ্গে ন’জন আততায়ী৷

পাকিস্তানে নিষিদ্ধকৃত লস্কর-ই-তৈয়বা গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দশ জন তরুণ ‘ফেদাইন' সমুদ্রপথে এসে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী বলে পরিচিত মুম্বই শহরে চার দিন ধরে তাণ্ডব চালায়৷ সব মিলিয়ে ১২টি গুলিচালনা এবং বোমাবাজির ঘটনা৷ নিহতদের মধ্যে ২৮ জন বিদেশি, যারা মোট দশটি বিভিন্ন দেশের নাগরিক৷

আক্রমণ চলে দক্ষিণ মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাসে; ওবেরয় ট্রাইডেন্ট হোটেলে; তাজ মহল প্যালেস অ্যান্ড টাওয়ার হোটেলে; বিদেশি পর্যটকদের প্রিয় লিওপোল্ড কাফে-তে; মহিলা এবং শিশুদের চিকিৎসাকেন্দ্র কামা হাসপাতালে; নরিমান হাউস ইহুদি সমাজকেন্দ্রে; মেট্রো সিনেমায়; টাইমস অফ ইন্ডিয়া ভবন এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের পিছনের একটি গলিতে৷ মুম্বইয়ের মাজাগাঁও বন্দর এলাকায় একটি বিস্ফোরণ ঘটে, এছাড়া ভিলে পার্লে এলাকার একটি ট্যাক্সিতে৷

২৮শে নভেম্বর সকালের মধ্যে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী এক তাজ মহল হোটেল ছাড়া বাকি সব ক'টি অকুস্থল নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়৷ ২৯শে নভেম্বর ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডস-এর সদস্যরা তাজ হোটেলকেও মুক্ত করে: বাদবাকি আততায়ীরা সকলেই নিহত হয়৷ আদত আততায়ীদের মধ্যে একমাত্র যাকে জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়, সে ছিল আজমল কাসব, পাকিস্তানি নাগরিক৷ কাসবকে তার বিচারের পর ২০১২ সালে ফাঁসি দেওয়া হয়৷

মুম্বই আক্রমণের প্রস্তুতি পর্বের নানা খুঁটিনাটি জানা গেছে কাসবের জেরা থেকে৷ জেরায় কাসব স্বীকার করে যে, আক্রমণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে পাকিস্তানের সরকারি আইএসআই গুপ্তচর বিভাগের সংযোগ ছিল৷ পরে মার্কিন নাগরিক ডেভিড হেডলির বয়ানেও এই তথ্যের সমর্থন পাওয়া যায়৷ মুম্বই আক্রমণের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলেছে বহু দেশে, আক্রমণের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে ব্যক্তিবর্গকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভারতে, পাকিস্তানে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে৷ ভারত ও পাকিস্তান, উভয়পক্ষ থেকেই তদন্তে অসহযোগিতা কিংবা নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে৷ তবে পাকিস্তানি তরফে কোনো ‘সরকারি সংস্থার' আক্রমণে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি৷

মুম্বই সন্ত্রাসের ফলে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাময়িকভাবে তার নিম্নতম পর্যায়ে পৌঁছায়৷ ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় এমনকি ঘোষণা করেন যে, ভারত পাকিস্তানে অবস্থিত বিভিন্ন ‘সন্ত্রাস শিবিরের' উপর হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করতে পারে৷ আক্রমণের তদন্তে পাকিস্তান সহযোগিতা করছে না, এই অজুহাতে ভারত পাকিস্তানকে আক্রমণ করতে পারে – এই যুক্তি দেখিয়ে পাকিস্তান সীমান্তে আরো সৈন্য পাঠায় – এবং পরে প্রত্যাহার করে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন