1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

টোকিও’র গভর্নর ইস্তানবুলকে গাল দিলেন

২০২০ সালের অলিম্পিক্স কোন শহরে হওয়া উচিত, তা নিয়ে ‘সুস্থ’ প্রতিযোগিতা চলছে৷ প্রার্থীদের মধ্যে যেমন টোকিও আছে, তেমনি আছে ইস্তানবুল৷ এর মধ্যে টোকিওর আবেদন কমিটির চেয়ারম্যান নাওকি ইনোসে অত্যুৎসাহী হয়ে একটু বেশি বলে ফেলেছেন৷

গত সপ্তাহান্তে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে ইনোসে বলেছেন, ‘‘ইসলামি দেশগুলির মধ্যে একমাত্র বন্ধন হল আল্লাহ৷ নয়তো তারা সারাক্ষণ পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ করছে৷ এছাড়া ওদের মধ্যে শ্রেণিবিভাগ আছে৷''

ইনোসে আরো যোগ করেন: ‘‘অ্যাথলিটদের জন্যে সেরা জায়গা কোনটা হবে?'' টোকিও না ইস্তানবুল? ‘‘দু'টি দেশকে তুলনা করলে (দেখা যাবে) ওদের এখনো অবকাঠামো, সর্বাধুনিক স্টেডিয়াম ইত্যাদি তৈরি করা বাকি৷''

২০২০ সালের অলিম্পিক্স অনুষ্ঠানের জন্য যে তিনটি শহর প্রতিযোগী, সেগুলি হল টোকিও, ইস্তানবুল ও মাদ্রিদ৷ টোকিও এর আগে একবার অলিম্পিক্সের আয়োজন করেছে: ১৯৬৪ সালে৷ সেই প্রথমবার অলিম্পিক্স এশিয়ার কোনো শহরে অনুষ্ঠিত হয়৷ ইস্তানবুল এর আগে পাঁচবার প্রার্থী হয়েও অলিম্পিক্স অনুষ্ঠানের সুযোগ পায়নি৷

Naoki Inose

টোকিওর আবেদন কমিটির চেয়ারম্যান নাওকি ইনোসে

টোকিও'র এবারকার আবেদন ও তার যোগ্যতার সপক্ষে একটি বড় যুক্তি হল, প্রতিযোগিতার সব স্টেডিয়াম, হল ইত্যাদির অধিকাংশই তৈরি৷ এছাড়া ভেন্যুগুলির ৮৫ শতাংশ অ্যাথলিটদের অলিম্পিক ভিলেজের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকবে৷

সবই ভালো কথা, এবং পূর্ত থেকে প্রযুক্তিতে জাপানিদের দক্ষতা ও সক্ষমতার কথা স্মরণে রেখেই বলা চলে, নাওকি ইনোসে'র বক্তব্যগুলিতে স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের নিতান্ত অভাব ঘটেছে৷ দৃশ্যত আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিও সেটাকে সেভাবেই দেখেছে এবং ই-মেইল মারফৎ ইনোসে'র মন্তব্যের অর্থ জানতে চেয়েছে৷ ওদিকে তুরস্কের ক্রীড়ামন্ত্রী ইনোসে'র মন্তব্যগুলিকে ‘‘অন্যায় এবং হতাশাব্যঞ্জক'' বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, ঐ সব মন্তব্য ‘‘অলিম্পিক আন্দোলনের প্রেরণা ও মূল্যবোধের সঙ্গে খাপ খায় না''৷

ইনোসে স্বয়ং কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন: ‘‘আমি ক্ষমা চাইছি৷ আমার মন্তব্য মুসলিম দেশগুলির মানুষদের মনে ভুলবোঝাবুঝির সৃষ্টি করেছে৷ কাজেই আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি৷'' ইনোসে এ'ও বলেন যে, এই অভিজ্ঞতা তাঁর পক্ষে মঙ্গলজনক হবে এবং তিনি এখন বুঝতে পেরেছেন, কতদূর অবধি যাওয়া চলে অথবা চলে না৷ এখন থেকে তিনি নাকি আইওসি'র নির্দেশাবলী মেনে চলবেন৷

কাজেই ঘটনাটা আইওসি'র এথিক্স কমিশন অবধি না পৌঁছনোরই কথা৷ কিন্তু সব ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা-প্রতিযোগিতার বখেড়া মেটার পরেও যে প্রশ্নটি থেকে যায়, সে'টি হল: টোকিও'র গভর্নরের মতো একজন শিক্ষিত মানুষ ও উচ্চ কর্মকর্তার মনে এ'ধরনের একটা বৈষম্যমূলক চিন্তা আসে কী করে? অথবা কোন লাভের আশায় তিনি এই ধরনের মন্তব্য করে থাকতে পারেন?

ঠিক এখানেই অলিম্পিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা আবার নতুন করে অনুভব করা যায়৷

এসি / এসবি (এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন