1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের আশা-দুরাশার ১৬ বছর

একদিনের ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ সমীহ জাগানো অবস্থানে যেতে পারলেও টেস্টে এখনও তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি৷ তবে এরমধ্যেও বিশ্বকে কিছু রেকর্ড উপহার দিতে পেরেছে টাইগাররা৷ জিতেছে শততম টেস্টটিও৷

২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ৷ প্রতিপক্ষ ছিল ভারত৷ শুরুতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে সব উইকেট হারিয়ে ৪০০ রান করেছিল টাইগাররা৷ বাংলাদেশের পক্ষে আমিনুল ইসলাম বুলবুল করেছিলেন ১৪৫ রান৷ প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসের সেই সাফল্য চমকে দিয়েছিল সবাইকে৷ কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই সাফল্য ধরে রাখা যায়নি৷ ফলে মাত্র ৯১ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল দুর্জয় বাহিনী৷

তারপর থেকে গত ১৬ বছরে ১০০টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ৷ শ্রীলঙ্কায় কলম্বোর পি সারা ওভালের টেস্টটি ছিল টাইগারদের শততম টেস্ট৷ হিসেবে অভিষেকের ১৬ বছর ৪ মাস ৬ দিন পর বাংলাদেশ শততম টেস্ট খেলতে নেমেছিল৷ ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো-র দেয়া পরিসংখ্যান বলছে, টাইগাররাই সবচেয়ে কম সময়ে শততম টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে৷ শ্রীলঙ্কার সময় লেগেছিল ১৮ বছর তিন মাস ২৯ দিন৷

এখন পর্যন্ত খেলা ১০০টি টেস্টের ন’টিতে জিতেছে বাংলাদেশ৷ এক্ষেত্রে একমাত্র নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে আছে টাইগাররা৷ কারণ একই সংখ্যক টেস্ট খেলে কিউইরা জিতেছিল মাত্র সাতটি টেস্টে৷ ভারত জিতেছিল ১০টি, আর জিম্বাবোয়ে ১১টিতে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল৷ তবে পরাজয়ের হিসেবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ৷ ১০০টি টেস্টের মধ্যে ৭৬টিতে হেরেছে তারা৷

এদিকে, সদ্য সমাপ্ত শততম টেস্টকে ঘিরে বাংলাদেশের টেস্ট অতীত নিয়ে আলোচনা হচ্ছে৷ ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে কেন এখনও বাংলাদেশ আশানুরূপ ফল পায়নি তার কারণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে৷

বাংলাদেশের জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ টেস্ট ক্রিকেটকে ‘রিয়েল ক্রিকেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর উন্নয়নে ‘অনেক বড় পরিকল্পনা দরকার’ বলে মনে করছেন৷ তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন টেস্টে ‘মোটামুটি’ খেলছে৷ এই পর্যায় থেকে উপরে যেতে গেলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মান উন্নয়ন করতে হবে বলে জানান তিনি৷

অডিও শুনুন 02:50

‘‘বাংলাদেশ এখন টেস্টে ‘মোটামুটি' খেলছে’’

‘‘লংগার ভার্সন ক্রিকেটটা যতটা কম্পিটিটিভ হওয়া দরকার, আমি বলতে চাচ্ছি, যত ভালো কন্ডিশনে খেলা দরকার, ততটা আমরা এখনও তৈরি করতে পারিনি,’’ ডয়চে ভেলেকে বলেন ফারুক আহমেদ৷ তিনি বলেন, বাংলাদেশে উইকেটগুলো খুবই ‘ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি' করে তৈরি করা হয়, সেখানে বোলারদের জন্য কিছুই থাকে না, বিশেষ করে পেস বোলারদের জন্য৷ এছাড়া পর্যাপ্ত মাঠের অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি৷

বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের উন্নতির কথা বললেন৷ ‘‘আমাদের লঙ্গার ভার্সনকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে৷ এটাকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করলে আমরা আরো ভালো করব৷ আমাদের বুঝতে হবে লঙ্গার ভার্সন ভালো খেললেই আমরা শর্ট ভার্সনে ভালো খেলব৷ টি-টোয়েন্টিতে ভালো খেললে কিন্তু লংগার ভার্সনে ভালো খেলার স্কোপ নেই,’’ ডয়চে ভেলেকে বলেন দুর্জয়৷ এছাড়া ফারুক আহমেদের মতো দুর্জয়ও টেস্ট উপযোগী উইকেট তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন৷

এই দুই সাবেক ক্রিকেটারই বেশি বেশি টেস্ট খেলার উপর গুরুত্ব আরোপ করলেও বিভিন্ন কারণে অন্যান্য দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে টেস্ট খেলতে আগ্রহী হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন৷ ফারুক আহমেদ বলেন, ‘‘ক্রিকেটিং নেশন হিসেবে আপনি যদি ছোট হন, তাহলে বড় দেশগুলো আপনার সঙ্গে অত বেশি খেলতে চায় না৷ এখানে একটা আর্থিক ব্যাপার থেকে যায়৷ ধরুন, অস্ট্রেলিয়া যদি বাংলাদেশের সঙ্গে খেলে তাহলে টিভিস্বত্ত্ব বলেন, দর্শক সংখ্যা বলেন, এগুলো বেশি আসে না৷’’ তবে তিনি আশা করছেন বাংলাদেশ ভবিষ্যতে টেস্টে ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে এই সমস্যার সমাধান হবে৷

টেস্টে বাংলাদেশের কয়েকটি রেকর্ড

  • সোহাগ গাজী: বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি এক ম্যাচে সেঞ্চুরির পাশাপাশি হ্যাট্রিকও করেছেন৷ ২০১৩ সালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত টেস্টে এই সাফল্য পান তিনি৷
  • আবুল হাসান: ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্টে দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নেমে নিজের অভিষেকে এক ইনিংসে ১১৩ রান করেন৷ ইতিহাসে এমন ব্যাটসম্যান আছেন আর মাত্র একজন৷
  • মোহাম্মদ আশরাফুল: সবচেয়ে কম বয়সি টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান৷ ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক করতে নেমে এই সাফল্য (১১৪ রান) পান তিনি৷ তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর ৬১ দিন৷
  • মেহেদী হাসান মিরাজ: ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে অভিষেক করতে নেমে ১৯ উইকেট নেন৷ এর চেয়ে বেশি উইকেট নেয়া (অভিষেকে ও দুই টেস্টের সিরিজে) আর কোনো ক্রিকেটার বিশ্বে নেই৷
  • এনামুল হক জুনিয়র: ২০০৫ সালে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে এক টেস্টে মাত্র ১৮ বছর ৪০ দিন বয়সে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন এই বা-হাতি বোলার৷ এত কম বয়সে ১০ উইকেট নেয়ার সাফল্য বিশ্বে আর কারও নেই৷

টেস্টে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রথম

  • প্রথম টেস্ট ম্যাচ: ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ৷ অধিনায়ক ছিলেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়৷
  • প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি: প্রথম টেস্ট ম্যাচেই আমিনুল ইসলাম বুলবুল ১৪৫ রান করেছিলেন৷
  • প্রথম টেস্ট জয়: ২০০৫ সালে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ২২৬ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ৷
  • প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়: ২০০৫ সালে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ জিতেছিল ১-০তে৷
  • বিদেশে একমাত্র সিরিজ জয়: ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ ২-০তে জয়৷
  • সর্বোচ্চ রান: ২০১৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬৩৮ রান৷
  • প্রথম দ্বিশতক: ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০ রান করেছিলেন মুশফিক রহিম৷
  • সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট: ২০১৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব আল হাসান জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে এই সাফল্য পান৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়