1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

টিমোশেঙ্কোর বিদায় কিয়েভে, থাকল সম্ভাবনা সূত্র

নাফটোগাস প্রধানকে পদচ্যুত করে ইউক্রেইনের সরকার উল্টে গেল বুধবার৷ প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া টিমোশেঙ্কো চলে গেলেন বটে, কিন্তু বড় জোটে ফিরে আসার সম্ভাবনার পথ খুলে রেখেই গেলেন তিনি৷

default

বিদায়বেলায়৷ ইউলিয়া টিমোশেঙ্কো

প্রত্যাশামতই সংসদে আনা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বেশ জোরেশোরেই পাশ হয়ে গেল কিয়েভে বুধবার৷ প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া টিমোশেঙ্কোর পাশ্চাত্ত্যপন্থী মন্ত্রিসভার পতন ঘটেছিল মঙ্গলবার আর ইউলিয়ার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এল বুধবার৷ রুশপন্থী রাষ্ট্রপতি ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ এবার নিজের পছন্দের সরকার গড়বেন স্বচ্ছন্দে৷

দ্বিতীয় দফার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যে তিনি হারতে পারেন এই ভাবনাটা ভাবা তো দূরস্থান, দূর দিগন্তে তেমন কোন সম্ভাবনাই দেখতে পান নি ইউলিয়া টিমোশেঙ্কো৷ প্রথম দফায় ফলাফল ছিল প্রায় ত্রিশঙ্কু৷ এরপর গোঁজ প্রার্থীদের নিজের দিকে টানতে খোলা প্রস্তাবও দিয়ে রেখেছিলেন ইউক্রেইনের নামজাদা কমলা বিপ্লবের অন্যতম নায়িকা ইউলিয়া৷ কিন্তু, কোন খেলাই খাটেনি৷ নির্বাচনের পর দেখা গেল, ইয়ানুকোভিচের পথই হয়ে গেছে ইউক্রেইনের পথ৷ আর সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেও পিছিয়ে আসতে হয়েছে ইউলিয়াকে কারণ, পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ফলাফল নির্ঝঞ্ঝাট৷

Russland Ukraine Energie Gas Pumpstation bei Kursk

ইউক্রেইনের প্রধান বিষয়, গ্যাস সরবরাহ

শেষ পর্যন্ত অনাস্থা প্রস্তাব এল সংসদে৷ ৪৫০ টি আসনের সংসদে ২৮৬ জনই ইউলিয়া এবং তাঁর সরকারের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন৷ ইউলিয়ার নিজের দল থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে গেছে মোট সাতটি ভোট৷ প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন, অনাস্থায় হেরে গেলে তিনি পর্যবেক্ষক সরকারের প্রধান হয়ে থাকতে চান না৷ অতএব সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যদি নতুন সরকার গড়তে ব্যর্থ হন সাসংদরা, তাহলে একটা ঝটিকা নির্বাচনের পর গড়ে উঠবে নতুন সরকার, নতুন মন্ত্রিসভা৷ আর ততদিন পর্যন্ত ইউক্রেইনের দায়িত্বভার সর্বতোভাবেই প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের ওপর৷

বিদায়ী টিমোশেঙ্কো সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনীতির চরম অধঃপতনের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার ভিত্তি জোরদার ঠিকই, তবে নতুন প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের সামনে সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, বলছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ৷ ইয়ানুকোভিচ নিজেও সেটা ভালোই জানেন৷ যে কারণে বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে একটা মহাজোট সরকার গড়া যায় কিনা তা তিনি ভাবছেন৷ যে সরকারে আবার ভূমিকা নিতে পারবেন হয়তো ইউলিয়া টিমোশেঙ্কো৷

তবে, ইউক্রেইনের যে ইস্যুটিকে নিয়ে আদৌ ইউরোপের মাথাব্যথা, সেই গ্যাস সরবরাহের গতি ঠিক থাকলেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন খুশি৷ কেননা, ইউক্রেইনের মাধ্যমেই রাশিয়ার থেকে আসা আশি শতাংশ গ্যাস পৌঁছয় ইউরোপের ঘরেদোরে৷ কিন্তু যাওয়ার ঠিক আগে ইউলিয়া টিমোশেঙ্কো সরকার একটি কাজ করে গেছে৷ বুধবার আস্থাভোটের আগে সকালের দিকে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ইউক্রেইনের গ্যাস সংস্থা নাফটোগ্যাসের প্রধান ওলেগ ডুবিনাকে পদচ্যুত করে দিয়েছে এই বিদায়ী সরকার৷ যার অর্থ, রাশিয়ার গাজপ্রমের সঙ্গে নাফটোগ্যাসের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে কিছুটা কাঠখড় পোড়াতেই হবে ইয়ানুকোভিচকে আপাতত৷

প্রতিবেদন- সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা - আরাফাতুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়