1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

টিকে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত জার্মান ক্লিনিকগুলি

বিশ্বব্যাপী জার্মান স্বাস্থ্যব্যবস্থার সুনাম থাকলেও এখন এটা টলমল হয়ে পড়েছে৷ বিশাল খরচের ভার ও কঠোর প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে গিয়ে বেআইনি কার্যকলাপের দিকেও ঝুঁকে পড়ছে কিছু ক্লিনিক৷

মৃতব্যক্তির দেহ থেকে হার্টের পেসমেকার অন্য কোনো রোগীর দেহে স্থাপন করা যেতে পারে৷ এতে পেসমেকার স্থাপনের খরচ অর্ধেক হয়ে যায়৷ বিমাসংস্থাগুলির এক্ষেত্রে খুশি হওয়ার কথা৷ কিন্তু তারা এইভাবে খরচ বাঁচানোর পক্ষপাতী নয়৷ তবে বিশেষজ্ঞরা মনে এটা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র৷ অদূর ভবিষ্যতে এই ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে হবে সংশ্লিষ্টদের৷ প্রতিবছর ২০০,০০০ বিদেশি রোগীর চিকিৎসা করা হয় জার্মান ক্লিনিকগুলিতে৷ তাঁরাও নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন৷

অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে

‘‘ক্লিনিকগুলির অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে৷'' জানান এসেনের অর্থনৈতিক ইন্সটিটিউট, আরডাব্লিউআই-এর বোরিস আইগুরৎস্কি৷

জার্মানির প্রতি দুটির মধ্যে একটি ক্লিনিক লোকসানে পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্মুখীন হচ্ছে৷ কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে এই প্রবণতা৷ অনেক ক্লিনিক একেবারে বন্ধও হয়ে গিয়েছে৷ বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ অপর্যাপ্ত চিকিৎসার মুখে পড়ছে৷ কাছাকাছি ক্লিনিক না থাকায় কোনো কোনো এলাকার মানুষজনকে এমন সব ক্লিনিকে যেতে হয়, যেখানে যেতে ২০ মিনিটেরও বেশি সময় লেগে যায়৷ হার্ট অ্যাটাকের মতো অসুখবিসুখ হলে এত দূরে যেতে যেতে মৃত্যুর কবলে পড়তে হয় রোগীদের৷ এছাড়া এ সব ক্লিনিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যাও কম থাকে৷

অপ্রয়োজনীয় অপারেশন

আর্থিক দিক দিয়ে টিকে থাকার জন্য কিছু ক্লিনিক রোগীদের এমন কিছু অপারেশনের পরামর্শ দেন, যেসব অপ্রয়োজনীয় ও খরচসাপেক্ষ৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই দুরবস্থার কথা স্বীকার করেন না৷ কিন্তু অনেক ডাক্তার এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে বলে জানিয়েছেন৷ ডাক্তারদের অনেক সময় চাপ দেওয়া হয় ক্লিনিকের লাভের জন্য সচেষ্ট হতে৷ এই নির্দেশ মানা না হলে তাঁদের শাখা বন্ধ হয়ে যাবে এবং সেই সাথে কাজটিও হারাতে হবে৷ এই রকম হুমকিও দেওয়া হয়৷

এই অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় অপারেশনের সংখ্যা বাড়ছে৷ সিজারিয়ান করে সন্তান প্রসবের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ ধাত্রীর সাহায্যে বাড়িতে সন্তান প্রসব করানো হলে ৮০০ ইউরো খরচ হয়৷ ক্লিনিকে একটি স্বাভাবিক প্রসব হলে বিমা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া যায় ২,০০০ ইউরো৷ সিজারিয়ান করলে ক্লিনিকটি পায় ৩,০০০ ইউরো৷

নিতম্ব ও হাঁটুর অপারেশনও বেশ লোভনীয়৷ এইসব অপারেশনের সংখ্যার দিক দিয়ে ওইসিডিভুক্ত দেশগুলির মধ্যে জার্মানি দ্বিতীয় স্থানে৷

প্রয়োজন আরেকটি মতামত

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ফল্কার পেন্টার বলেন, ‘‘এইরকম অপারেশন করার পরামর্শ দেওয়া হলে চেষ্টা করতে হবে দ্বিতীয় আরেকটি মতামত নেওয়ার৷''

এই ধরনের অপারেশন ক্ষতিকর নয়৷ কিন্তু এতে অহেতুক ঝুঁকি নেওয়া হয়৷ অনেক সময় চিকিৎসায় ভুলও হয়ে যায়৷ এছাড়া বিষয়টি আরো মারাত্মক হয়ে দাঁড়ায়, যখন দালালরা বিদেশ থেকে রোগীদের এনে জার্মান ক্লিনিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে৷ অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি আইন আদালত পর্যন্তও গড়ায়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়