1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

টিকা প্রতিরোধে ভাইরাসের কলাকৌশল

প্রতিবছর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নানা রকম রোগব্যাধিতে ভুগছে মানুষ, মারাও যাচ্ছে অনেকে৷ বহু ক্ষেত্রে ভাইরাস প্রতিষেধক টিকাতেও কাজ হচ্ছে না৷ কেননা ভাইরাসগুলি তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে চলেছে প্রতিনিয়ত৷

default

ভাইরাসগুলি তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে চলেছে প্রতিনিয়ত

নানা ধরনের সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে নতুন নতুন টিকা বের করা বিজ্ঞানীদের পক্ষে রীতিমত কঠিন হয়ে পড়েছে৷ কেননা কোনো কোনো ভাইরাস এতই চতুর যে, তারা কৌশলে জিন পরিবর্তন করে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পাশ কাটিয়ে যেতে পারে৷

এক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হল, নতুন ধরনের টিকা তৈরি করতে দীর্ঘদিন লেগে যায়৷ তবে টিকাটা যদি একবার কাজে লেগে যায়, তাহলে রোগ জীবাণুগুলিকে আয়ত্তে আনা কিংবা সমূলে ধ্বংস করাও সম্ভব৷ এ প্রসঙ্গে জার্মানির মাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউটের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগের প্রধান শ্টেফান কাউফমান বলেন, ‘‘এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল দৃষ্টান্ত হচ্ছে বসন্ত রোগ৷ দুঃখের বিষয়, এটাই এখনো পর্যন্ত একমাত্র ব্যাধি, যেটিকে টিকার মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে এবং এই একবারই আমরা এই রকম সাফল্যের মুখ দেখেছি৷''

ইমিউন বা রোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ কাউফমান বেশ কয়েক বছর ধরে যক্ষ্মা প্রতিরোধী টিকা তৈরিতে ব্যস্ত৷ যক্ষ্মা রোগ সৃষ্টি হয় ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে এবং এটি একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি৷

Prof. Stefan Kaufmann Meyer, Max-Planck-Institut Berlin

বসন্ত রোগ হচ্ছে একমাত্র ব্যাধি যা টিকার মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে : শ্টেফান কাউফমান

প্রতিবছর সারা বিশ্বে ২ লক্ষের মত মানুষ মারা যাচ্ছে এই অসুখে৷ বিশেষ করে এইডস বা এই জাতীয় সংক্রামক রোগে যাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা এমনিতেই দুর্বল, তাদেরই যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি৷ যক্ষ্মা প্রতিরোধে ৯ ধরনের টিকা এখন প্রস্তুতিপর্বে রয়েছে৷ এগুলির কোনোটি কাজে লাগবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছেনা৷ কাউফমান জানান, ‘‘সহজেই প্রতিরোধ করা যায় এমন সব রোগের টিকা তৈরি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে৷ কিন্তু জটিল অসুখ-বিসুখ – যেমন ম্যালেরিয়া, টিবি, বা এইডস প্রতিরোধী টিকা উদ্ভাবন করা সহজ নয়৷ এই সব রোগের জীবাণু অত্যন্ত জটিল ও কৌশলী৷ সাধারণত শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতাকে অনুকরণ করে প্রস্তুত হয় টিকা৷ কিন্তু এইডস-এর মত জটিল রোগ প্রতিষেধক টিকা প্রস্তুত করতে হলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার চেয়েও শক্তিশালী হতে হয় তাকে৷''

এছাড়া এই ধরনের ভাইরাস নিজেদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে থাকে অনবরত৷ একটি টিকা বের করতে না করতেই দেখা যায় যে, আর কাজে লাগছেনা সেটি৷ মাঝে মাঝে মাত্র ৫০ শতাংশ জীবাণু প্রতিরোধী শক্তি থাকে টিকার৷ সেটাও কিন্তু কম নয়৷ বলেন ভিয়েতনামের হো চি মিন শহরের ট্রপিক্যাল ব্যাধির ক্লিনিক প্রধান জেরেমি ফারার৷

এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‘নতুন টিকা বের করতে অবশ্য দীর্ঘ সময় লেগে যায়৷ তবে প্রচলিত টিকাকে রোগ প্রতিরোধের উপযোগী করে তুলতে বেশি সময় লাগেনা৷ কিন্তু শূন্য থেকে শুরু করতে হলে কয়েক দশকও গড়িয়ে যেতে পারে৷ বিপদটা হল এই যে, রাজনীতিবিদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা টিকার সাথে সাথে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মত ব্যাধিগুলোর বিনাশে অন্য কোনো পন্থার কথা আর চিন্তা করেননা৷ যেমন কোনো অসুখের টিকা বের হলে তাঁরা মশারি, ওষুধ বা আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি নিয়ে আর মাথা ঘামাননা৷''

Deutschland Gesundheit Impfung Schweinegrippe

সমস্যা হচ্ছে নতুন ধরনের টিকা তৈরি করতে দীর্ঘদিন লেগে যায়

প্রশ্ন উঠতে পারে, নতুন টিকা বের করতে কয়েক দশক সময় লাগাটা কি খুবই প্রয়োজনীয়? অনেক গবেষকই মনে করেন, ‘না'৷ প্রায়ই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এত দীর্ঘ সময় লেগে যায়, অভিযোগ করেন ব্রিটেনের খ্যাতনামা মহামারি বিশেষজ্ঞ স্যার রিচার্ড পেটো৷ তিনি উষ্মার সঙ্গে বলেন, ‘‘নিয়ম কানুনের বেড়াজালে পড়ে আমার সম্ভাবনাময় অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষাই নষ্ট হয়ে গেছে৷ যারা কখনও গবেষণা করেননি, তারাই এসব বিধি নিষেধ চালু করেছেন৷ অনেক কিছুর কোনো অর্থই হয়না৷ অন্য দিকে গত ২০ বছরে চিকিৎসা ক্ষেত্রে গবেষণার খরচপাতিও দশ গুণ বেড়েছে৷ যাতে কারোই লাভ হয়না৷''

টিকা যে তাড়াতাড়িও বের করা যায়, তার প্রমাণ মিলেছে সোয়াইন ফ্লুর সময়৷ কয়েক মাসের মধ্যে সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে বাজারে এসে যায় টিকা৷ আমলাতান্ত্রিক কোনো জটিলতা ছাড়া পরীক্ষা নিরীক্ষাগুলি দ্রুত করা সম্ভব হয়েছে৷ সোয়াইন ফ্লু আমাদের দেখিয়েছে, প্রয়োজন হলে অতি দ্রুতও টিকা উদ্ভাবন করা যায়৷ টিকা বিশেষজ্ঞ রিপো রিপোউলি বলেন, ‘‘আমি মনে করি, এটা এক উত্তম দৃষ্টান্ত যে, প্রয়োজন হলে আমরা দ্রুতও কাজ করতে পারি৷ তবে শুধু জরুরি অবস্থার সময় নয়, সারা বিশ্বের মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষা করতে হলে অন্যান্য সময়ও এরকমটি হওয়া প্রয়োজন৷ আমি মনে করি, এটা সম্ভবও৷''

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদক: সঞ্জীব বর্মন