1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

টিকটিকির পায়ের প্রযুক্তি আসছে রোবটের পায়ে

‘স্পাইডার ম্যান’ ছবির কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে৷ কিভাবে সে বিশাল বিশাল ভবনের দেয়াল বেয়ে তরতর করে উঠে যেত একেবারে উপরে? কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কি তা সম্ভব? কেন নয়?

default

রহস্যময় টিকটিকির পা

ঘরের মধ্যে আমরা প্রায় টিকটিকি দেখে থাকি৷ সমান দেয়াল বেয়ে কিভাবে সে ঘুরে বেড়াচ্ছে, দেয়ালের এক কোণ থেকে আরেক কোণে ছুটে যাচ্ছে, কিন্তু পড়ে যাচ্ছে না৷ আবার মৌমাছি কিংবা পোকা মাকড়ও দেয়াল বেয়ে চলা ফেরা করতে পারে৷ কিন্তু কখনো পড়ে যায় না৷ এর রহস্য কী? সেটা জানতে বিজ্ঞানীরা দিনের পর দিন গবেষণা করে যাচ্ছেন৷ তারা জানতে পেরেছেন, অনেক পোকা মাকড়ের শরীর থেকে এক ধরণের রস বের হয় যা তাদেরকে সমান দেয়াল কিংবা কাঁচের ওপর আটকে রাখতে সাহায্য করে৷ সবার বেলায় কিন্তু এরকম হয় না৷ বিশেষ করে টিকটিকির বেলায় সেটি আশ্চর্য রকমের এক ব্যাপার৷

টিকটিকির পায়ের রহস্য

জার্মানির কিল শহরে অবস্থিত ক্রিশ্চিয়ান আলব্রেখ্ট ইউনিভার্সিটির জুওলজিক্যাল ইন্সটিটিউটে এই নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানী স্টানিস্লাভ গর্ব৷ গুবরে পোকা, মাকড়সা এবং টিকটিকি কিভাবে দেয়ালে শক্তভাবে আটকে থাকে এবং সহজেই চলাফেরা করতে পারে তা তিনি উদঘাটন করেছেন৷ গবেষকরা ইলেকট্রনিক মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে দেখতে পেয়েছেন যে, টিকটিকির পায়ের তালুর চামড়ার নীচে রয়েছে হাজার হাজার ভাঁজ৷ সেই ভাঁজের মধ্যে রয়েছে কোটি কোটি লোমের গুচ্ছ৷ এবং সেই একেকটি গুচ্ছ আবার মিলিয়ন মিলিয়ন তন্তুর সমন্বয়ে গঠিত যেগুলোর বৈজ্ঞানিক নাম ‘সিটেই'৷

28.01.2011 DW-TV Projekt Zukunft Gecko

একেকটি ‘সিটেই' ২০০ ন্যানোমিটার পুরু এবং মাথাটা চ্যাপ্টা, যেগুলো একমাত্র ইলেকট্রনিক মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করেই দেখা সম্ভব৷ পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যে এইসব ‘সিটেই' যখন দেয়াল কিংবা সমান কাঁচের সংস্পর্শে আসে তখন দুইয়ের মধ্যে এক ধরণের সংযোগ স্থাপিত হয়; পদার্থবিদ্যার ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ভ্যান ডার ওয়ালস ইন্টারেকশন'৷ মিলিয়ন মিলিয়ন তন্তুর শক্তিই প্রাণীটিকে সমান দেয়াল থেকে আলাদা করতে বাধা দেয়, ফলে সে পড়ে যায় না৷ বিজ্ঞানী স্টানিস্লাভ গর্ব তাঁদের গবেষণার ব্যাপারে বলেন, ‘‘পর্যবেক্ষণ, এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা আমরা ইদানিং ভুলে যাচ্ছি৷ হ্যাঁ, অবশ্যই পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে, তবে তার আগে প্রকৃতির কাছে যেতে হবে এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে যে প্রাণীরা কীভাবে নড়াচড়া করছে৷ আমরা জীববিজ্ঞানের এই পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞানের অনেক পদ্ধতি ব্যবহার করছি৷ জীব বিজ্ঞানে এভাবে প্রযুক্তিকে টেনে নিয়ে আসার বিষয়টি বেশ চমৎকার৷''

জীব বিজ্ঞান ও পদার্থ বিজ্ঞানের সমন্বয়

টিকিটিকি ও পোকার পায়ের গঠন নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে দেখতে পেয়েছেন কীভাবে জীব বিজ্ঞান এবং পদার্থ বিজ্ঞান এক সূত্রে গেঁথে গেছে৷ এই সূত্র অনুসরণ করে বিজ্ঞানী স্টানিস্লাভ গর্ব ও তাঁর দল এক নতুন ধরণের টেপ আবিষ্কার করেছেন যার নাম দেওয়া হয়েছে গেকো টেপ৷ এই নতুন টেপ কাচের ওপর শক্ত হয়ে আটকে থাকতে পারে এমনকি বেশ ওজনও সইতে পারে৷ টেপটি সরিয়ে নেওয়ার পর কাচের ওপর আর কোন ছাপ থাকে না, অনেকটা টিকটিকি কিংবা পোকা মাকড় যেমন কোন ছাপ না রেখেই দেয়াল এবং কাচের ওপর চলাফেরা করে৷

বিজ্ঞানী গর্ব এর নতুন এই টেপ নিয়ে কাজ করছে জার্মানির ইলমেনাউ শহরের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি৷ তারা একটি ছোট্ট রোবটে এই টেপ ব্যবহার করেছে এবং সেটি ঢালু কাচের ওপর চলাফেরা করছে৷ সেখানকার গবেষক হারমুট ভিটে বললেন, ‘‘ রোবটের পায়ের সাদা জিনিসটি হচ্ছে গেকো টেপ৷ এটি পুরোপুরি টিকটিকির পায়ের মত নয়৷ কিন্তু তার মানে এই নয় যে এটিকে চামড়ার এবং সবুজ রং-এর হতে হবে৷ এটাতে কেবল কিছু সূত্র অনুসরণ করা হয়েছে৷''

বিজ্ঞানীরা আপাতত এই টেপকে রোবটের পায়ে পরাতে চাচ্ছেন যাতে করে বাড়ির ছাদে থাকা সোলার প্যানেল পরিষ্কার করার জন্য রোবটকে ব্যবহার করা যায়৷ এছাড়া একইভাবে বড় বড় ভবনের বাইরের দেয়াল পরিষ্কার করার বিষয়টিও তাদের মাথাতে রয়েছে৷ তবে সবচেয়ে বড় বিস্ময় হবে যদি এই টেপ মানুষের জুতোয় পরানো সম্ভব হয়৷ হয়তো ভবিষ্যতে দেখা যাবে, সিনেমার পর্দায় ‘স্পাইডারম্যান' নয়, জলজ্ব্যান্ত মানুষই ঘরের দেয়াল বেয়ে হেটে বেড়াচ্ছে!

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, আপাতত সেই পর্যায়ে যাওয়ার কথা তারা ভাবছেন না৷

প্রতিবেদন: রিয়াজুল ইসলাম

সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়