1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে কে?

সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে একটি আফগান মেয়ের মুখের ছবি ছাপা হয়৷ কোন সাধারণ ছবি নয়, অত্যন্ত ভয়ঙ্কর একটি ছবি৷ কারণ মেয়েটির নাক কেটে নেওয়া হয়েছে৷ কেটে নিয়েছে তালেবান৷ আফগানিস্তানে মেয়েদের অবস্থান এখন কোথায়?

Time, magazine, Afghan, woman, Aisha, টাইম, ম্যাগাজিন, আফগান, মেয়ে,

সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে ছাপানো আফগান মেয়ের মুখের ছবি

টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে যে মেয়েটির ছবি ছাপা হয়েছে সে মেয়ের নাম বিবি আয়েশা৷ বয়স ১৮৷ বিবি আয়েশার বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু স্বামী তার উপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালাতো৷ এই যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পেতে বিবি আয়েশা পালিয়ে চলে গিয়েছিল স্বামীর বাড়ি থেকে৷ তালেবান বিবি আয়েশাকে ধরে শাস্তি দেয়৷ শাস্তি হল নাক এবং কান কেটে দেওয়া৷ গত বছর আফগানিস্তানের দক্ষিণে অবস্থিত উরুজগান প্রদেশে এই ঘটনা ঘটে৷

বিবি আয়েশা এই মুহূর্তে অ্যামেরিকায় রয়েছেন৷ তাঁর মুখে সার্জারি করা হবে৷ চেষ্টা করা হবে নাক প্রতিস্থাপনের৷ গ্রসম্যান বার্ন সেন্টারে চিকিৎসাধীন বিবি আয়েশা৷ তবে কবে অপারেশন হবে তা এখনো জানা যায়নি৷

আফগান এই মেয়েটি সম্প্রতি নাড়া দিয়েছে বিশ্বকে৷ আফগানিস্তানে চলতি নৃশংসতা এবং নির্যাতনের কুত্সিত রূপ আরেকবার দেখা দিল ভয়ঙ্কর চেহারায়৷ বিতর্ক উঠেছে, আফগানিস্তানে মার্কিন হামলার কারণেই এমনটি ঘটছে৷ অনেকে বলছে, তালেবান ক্ষমতায় গেলে এ ধরণের আরো অনেক ঘটনা ঘটবে৷ তাই মার্কিন সেনাদের আরো বেশ কিছুদিন আফগানিস্তানে থাকা উচিত, যাতে তালেবান যেন কখনোই ক্ষমতায় না যেতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে পারে সেনারা৷

আফগান নারীরা আজ কোথায় ?

দীর্ঘ ৯ বছর যুদ্ধের পর আজ আফগান নারীর স্বাধীনতা কতটুকু ? সমাজে তাদের অবস্থান কোথায় ? ডয়চে ভেলের আফগান বিভাগে কাজ করছেন নাবিলা কারিমি৷ সম্প্রতি তিনি আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন৷ তিনি বললেন, ‘‘নারীদের অবস্থান ভাল হয়েছে নাকি খারাপ হয়েছে তা এক কথায় বলা মুস্কিল৷ আমরা যদি তালেবান শাসনামলের সঙ্গে এখনকার সময় তুলনা করি তাহলে বলতে হবে অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভাল৷ কিন্তু যদি দেখা যায় এই ৯ বছরে নারীরা কী অর্জন করতে পেরেছে – তাহলে বলতে হবে যে খুব সামান্যই অর্জিত হয়েছে৷ এবং এই অর্জন শুধুমাত্র বড় শহরে, যেমন কাবুল, হেরাত, মাজার-ই-শরীফেই দেখা যাবে৷ ছোট শহর বা গ্রামগুলোতে মেয়েদের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি৷ আগে যা ছিল এখনও তাই রয়ে গেছে৷ তবে ইদানিং মেয়েদের খবর আসছে পত্রিকায়৷ তারা এখন কথা বলছে খোলাখুলিভাবে৷ এখন এসব মহিলার বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তাদের মতামত, পাওয়া না পাওয়া সবই শোনা যায়৷ আগে এই সুযোগটি ছিল না৷''

বিবি আয়েশা নিজেই টাইম ম্যাগাজিনে ছবি তোলার জন্য রাজি হন৷ বিবি আয়েশার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘‘আমি চাই, সারা বিশ্ব দেখুক আফগানিস্তানে কী হচ্ছে৷ তালেবান ক্ষমতায় গেলে মেয়েদের কী দুর্দশা হবে, তা সবাই জানুক৷''

টাইম ম্যাগাজিন আরো লিখেছে যে, এ ঘটনা দশ বছর আগে ঘটেনি, ঘটেছে সম্প্রতি৷ অর্থাৎ দশ বছর আগে তালেবান যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন মেয়েদের ওপর এ ধরণের নির্যাতন চালানো হত না৷ এখন হচ্ছে কেন ? এই মুহূর্তে মার্কিন সেনারা যদি আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যায়, তাহলে এসব অসহায় মেয়েদের কীভাবে রক্ষা করা হবে ?

যুদ্ধবিরোধী অনেকেই বলছে, অসহায় বিবি আয়েশাকে ব্যবহার করা হচ্ছে৷ এর মধ্যে দিয়ে আফগানিস্তানে মার্কিন হামলাকে অনুমোদন করা হচ্ছে৷ আরো দীর্ঘদিন আফগানিস্তানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ বলা প্রয়োজন, ২০০১ সালে আফগানিস্তান আক্রমণের পর প্রায় ৪৩ শতাংশ অ্যামেরিকান এখন মনে করছে, আফগানিস্তানে যাওয়াটা ঠিক হয়নি৷ আফগানিস্তানে সেনা পাঠানো ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত৷

কে এই বিবি আয়েশা ?

বিবি আয়েশা নিজে কিন্তু কখনো টাইম ম্যাগাজিনের কথা শোনেননি৷ তিনি যখন কাবুলে আশ্রয় গ্রহণ করেন, তখন একজন লুকিয়ে তাঁর হাতে টাইম ম্যাগাজিনের একটি কপি দেয়৷ বিবি আয়েশার নিষ্পাপ ভাষ্য,‘‘আমি জানি না এই পত্রিকা অন্য কোন মেয়েকে সাহায্য করতে সক্ষম কিনা৷ আমি শুধু আমার আগের চেহারা ফিরে পেতে চাই৷''

বিবি আয়েশার বিয়ে হয়, যখন তাঁর বয়স ১৬৷ উরুজগান প্রদেশে তালেবান এবং স্থানীয়দের মধ্যে শান্তি চুক্তির একটি অংশ হিসেবে আয়েশা এবং তাঁর বোনকে তুলে দেওয়া হয় একটি পক্ষের হাতে৷ আয়েশার হবু স্বামী ছিল সেই পক্ষে৷ সে তখন আয়েশা এবং তাঁর বোনকে নিয়ে যায়৷ আয়েশা এবং তাঁর বোনকে ক্রীতদাসীর মত খাটায় শ্বশুড়বাড়ির লোকেরা৷ আয়েশা পালিয়ে যায়৷ কান্দাহারে আয়েশা ধরা পড়ে যায় তাঁর স্বামীর হাতে৷ তাঁর স্বামী এবং দেবর মিলে তাঁর কান এবং নাক কেটে নেয়৷

টাইম ম্যাগাজিনে বিবি আয়েশার ছবির মধ্যে দিয়ে কোন আফগানিস্তানকে আমরা দেখছি ? নাবিলা কারিমি সে প্রসঙ্গে বললেন,‘‘আমার মনে হয় আফগানিস্তানের যে কোন মানুষ বিবি আয়েশার বর্তমান চেহারা দেখে শিউরে উঠবে৷ এর সঙ্গে ইসলাম ধর্ম বা আমাদের সমাজ জীবনের কোন মিল নেই৷ এটা কতগুলো উগ্রপন্থী, অসুস্থ, হিংসাপরায়ণ লোকের কাজ৷ কোন সাধারণ মানুষ তা করবে না৷ এ ধরণের ঘটনা আগে ঘটেনি৷ এই ঘটনা দিয়ে প্রমাণ করা যায় না যে সব মেয়ের ভাগ্যেই এমনটি ঘটেছে৷ এ ধরণের উগ্রপন্থী মানুষ কম বেশি পৃথিবীর সব দেশেই রয়েছে৷''

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিবি আয়েশা জানান, ‘‘যখন আমার নাক এবং কান কেটে ফেলা হয়, তখন আমি অজ্ঞান হয়ে যাই৷ আমার মনে হচ্ছিল কেউ আমার মুখে বরফ শীতল পানি ঢেলে দিয়েছে৷ যখন আমি চোখ খুলি তখন আমি শুধু রক্ত দেখতে পাই৷ চারিদিক রক্তে ভেসে যাচ্ছে৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

ইন্টারনেট লিংক