1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

টঙ্গীতে বয়লার বিস্ফোরণে নিহত অনেক, ভবন ধসে পড়েছে

ঢাকার অদূরে টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় শনিবার ভোরে ট্যাম্পাকো লিমিটেড নামের একটি প্যাকেজিং কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে৷ তারা বিস্ফোরণে দগ্ধ এবং চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন৷

Bangladesh Dhaka - Feuerwehr löscht Brand bei Fabrik

বিস্ফোরণে পাঁচতলা ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে৷ ভবনটিতে বিস্ফোরণের সময় তিনশ'র মতো শ্রমিক ছিলেন৷ ধসে পড়া ভবনের নীচে অনেকে আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে৷ গাজীপুর ও ঢাকা মেডিক্যালে প্রায় অর্ধশত আহত শ্রমিককে ভর্তি করা হয়েছে৷

এই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রত্যক্ষদর্শী এবং হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা৷ শনিবার সকাল ছয়টায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা৷ এই রিপোর্ট লেখা অবধি সেখানে ২৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল৷

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া কয়েকজন শ্রমিক জানান, কারাখানটিতে প্রতিদিন তিন শিফটে কাজ হয়৷ প্রতি শিফটে কমপক্ষে ১৫০ জন শ্রমিক কাজ করে৷ বয়লার বিস্ফোরণের সময় কারখানাটিতে পুরোদমে কাজ চলায় ধারণা করা হচ্ছে তখনও অন্তত ১৫০ শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন৷ তবে কতজন শ্রমিক বের হতে পেরেছেন এবং কতজন ভেতরে আটকা পড়েছেন তা এখনো নিশ্চিত নয়৷

গাজীপুরের সিভিল সার্জন আলী হায়দার খান জানান, টঙ্গী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ১৭ জনের লাশ রাখা হয়েছে৷ এছাড়াও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি আছেন কয়েকজন৷ আর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ২৩ জনকে ভর্তি করার পর পাঁচ জন মারা গেছেন বলে জানান ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান৷ তিনি জানান, নিহতরা পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছেন৷ নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে৷

ফায়ার সার্ভিসের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা পলাশ মণ্ডল জানান ‘‘শনিবার ভোর ৬টা ৫ মিনিটের দিকে কারখানায় নীচতলায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে৷ এরপর কারখানায় আগুন ধরে যায়৷ বয়লারের তেল এবং কারখানার কেমিক্যালের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে৷ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে৷ বিস্ফোরণের পর ভবনটি ধসে পড়েছে৷''

অডিও শুনুন 02:52

‘‘দুর্ঘটনার পর কারখানার মালিক বা কর্মকর্তাদের কাউকে দেখা যায়নি’’

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, ‘‘আশেপাশের ভবনগুলোতে আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা৷ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশেপাশে অবস্থান নিয়েছে এবং উত্‍সুক জনতাকে সরিয়ে দিয়েছে৷ যাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায় তার জন্য সচেষ্ট রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷''

এদিকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পরিচালক এসএম আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকারের বিধান অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহতদের দুই লাখ এবং আহতদের এক লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে৷ তবে ব্যাংক বন্ধ থাকায় ঈদের আগে এই অর্থ হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না৷

প্রসঙ্গত, কারখানাটির মালিক মকবুল হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য৷ ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিক রায়হানুল ইসলাম আকন্দ জানান, ‘‘দুর্ঘটনার পর কারখানার মালিক বা কর্মকর্তাদের কাউকে দেখা যায়নি৷ ১৯৭৬ সালে সালে তৈরি এই ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরে প্যাকেজিং কারাখানার কাজ চলে আসছিল৷''

এদিকে, পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে৷ প্রাথমিকভাবে অবহেলা ও ভবন এবং বয়লারে ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া গেছে৷

কারখানায় কেনো এত আগুন? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও