1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মুক্তিযুদ্ধ

ঝালকাঠির বীর সাহসী মুক্তিযোদ্ধা শেফালী রানী

গ্রামের এক কৃষক পরিবারে বড় হলেও নিজের দৃঢ় মনোবলের কারণে বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে মহাবিদ্যালয়ে পা দেন ঝালকাঠির সাহসী নারী শেফালী রানী৷

১৯৫৪ সালের ১০ই অক্টোবর ঝালকাঠিতে জন্ম গ্রহণ করেন শেফালী রানী৷ পিতা রাখাল রায় এবং মা জ্ঞানদা রায়৷ ১৯৭১ সালে চাখার এ কে ফজলুল হক কলেজের ছাত্রী ছিলেন শেফালী রানী৷ কিন্তু পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করার কাজ সম্পন্ন হলেও যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় তখন আর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি৷ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছুদিন পর আত্মীয় স্বজনের সাথে ভারত চলে যান শেফালী৷

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একদিনের ঘটনা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিল অনেক৷ এর মধ্যে আমাদের বাড়িতে একদিন ২০/২৫ জন অতিথি এসে হাজির৷ তো আমি সবার জন্য চুলায় ভাত চাপিয়েছি৷ ঠিক এই মুহূর্তেই গুলির আওয়াজ৷ এমনকি আমাদের ঘরের মধ্যে পর্যন্ত গুলি আসতে শুরু করেছে৷ তখন পাশের বাগানের মধ্যে ভাতের পাতিল লুকিয়ে রেখে আমরা দূরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছি৷ এছাড়া আমরা পেয়ারাবাগানে মাটির নিচে বাঙ্কার করে থাকতাম৷ সেখান থেকে ১৮/২০ জনের দল পরিকল্পনামাফিক অপারেশনে বের হতাম৷ একদিন সেখান থেকে ২০ হাত দূরে আমরা পাক বাহিনীদের দেখলাম এবং তাদের কথাও শুনতে পাচ্ছিলাম৷ তবে সৌভাগ্যবশত সেদিন তারা আমাদের বাঙ্কার পর্যন্ত আসেনি৷''

কিছুদিন পর কলকাতা গিয়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কার্যালয় খুঁজে বের করেন তিনি৷ সেখানে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এবং মতিয়া চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করে নিজের আগ্রহের কথা জানান৷ এমনকি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে দিনের পর দিন ঘুরেছেন তিনি৷

Freiheitskämpferin Shefali Rani

সাহসী মুক্তিযোদ্ধা শেফালী রানী

ডিডাব্লিউ এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে শেফালী রানী জানান, ‘‘আটদিন ধরে পায়ে হেটে কলকাতায় গিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিই৷ সেখানে ডা. বিধানচন্দ্র রায় একটি বাংলাদেশ অফিস খুলেছিলেন৷ আমি সেখানে রোজ যেতাম৷ সেখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে যেতে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করি৷ তিনি আমাকে পরের দিন অভিভাবক সাথে নিয়ে মহেন্দ্র রায় লেনের এক ঠিকানায় যেতে বলেন৷ তবে তিনি থাকতেন থিয়েটার রোডে৷ তাঁর লিখে দেওয়া ঠিকানা অনুসারে পরের দিন আমি গোবরা প্রশিক্ষণ শিবিরে গিয়ে হাজির হই৷ সেখানে আমাদেরকে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং পরে আত্মরক্ষার জন্য বন্দুক চালনা থেকে শুরু করে নানা কৌশল শেখানো হয় আমাদেরকে৷ সেখানে প্রায় সাড়ে তিনশ' মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়৷ এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলে একেকটি ব্যাচকে একেক জায়গায় কাজে পাঠানো হতো৷ সেখানে আমাদের হোস্টেল সুপার হিসেবে ছিলেন মতিয়া চৌধুরী৷ আমাদের ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর আমাদেরকে পরের দিন একটি হাসপাতালে পাঠানোর জন্য পরিকল্পনা করা হয়৷ কিন্তু সেইদিনই বিজয় মিছিল শুরু হয়ে যায়৷ আমাদের বিজয় অর্জিত হয়৷ আমরা তখন মহেন্দ্র রায় লেন থেকে বিজয় মিছিল করে ধর্মতলা পর্যন্ত গিয়েছি৷ মতিয়া চৌধুরী আমাদের সাথে মিছিলে ছিলেন৷''

দেশ স্বাধীন হলে ঝালকাঠিতে ফিরে চাখার এ কে ফজলুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন শেফালী রানী৷ এরপর তাঁর বিয়ে হয়ে যায়৷ তিনি যশোরে এবং ডুমুরিয়ায় দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছুদিন শিক্ষকতা করেছেন তিনি৷ তবে বাবা, ভাই এবং স্বামীর অনিচ্ছার কারণে সরকারি চাকুরি কিংবা শিক্ষকতা পেশাতেও খুব বেশিদিন কাজ করা হয়নি তাঁর৷ বরং সংসার জীবনের দিকেই তাঁকে মনোযোগ দিতে হয়েছে সম্পূর্ণভাবে৷

দেশ স্বাধীন হওয়ার তিন দশক পরে তিনি ১৯৭১ সালে পাওয়া তাঁর কাগজপত্র নিয়ে সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করলে ২০০৬ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন৷ ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ নারী মুক্তিযোদ্ধাকে সন্মাননা পদক দেওয়া হয়৷ সেখানে অন্যান্যের সাথে শেফালী রানীর হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ লস্কর৷

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: আরাফাতুল ইসলাম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও