1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জ্যাজ সংগীত জগতের এক অসাধারণ প্রতিভা চেট বেকার

মার্কিন ট্রাম্পেট বাদক, সুরকার ও গায়ক চেট বেকার জ্যাজ সংগীত জগতে এক অতি পরিচিত নাম৷ তাঁর ট্রাম্পেটের প্রাণবন্ত, কাব্যিক আর কোমল সুরধ্বনি মুগ্ধ করেছিলো জ্যাজ সংগীত জগতের শিল্পী ও অনুরাগীদের৷

Chet Baker, jazz

এক অসাধারণ প্রতিভা চেট বেকার

তেইশ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮৮ সালের ১৩ই মে অত্যন্ত দুঃখজনক ভাবে প্রাণ হারান এই খ্যতিমান শিল্পী৷

১৯৫২ সালে গ্যারি মালিগ্যান কোয়ার্টেট এর সাথে, ব্রডওয়ে মিউজিক্যাল ‘বেব্স ইন আর্মস'এর সংগীত ‘মাই ফানি ভ্যালেন্টাইন' ট্রাম্পেটে পরিবেশন করে চেট বেকার জ্যাজ সংগীত জগতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷ এই সংগীত রচনা করেন লরেন্স হার্ট এবং সুরারোপ করেন রিচার্ড রজার্স ১৯৩৭ সালে৷ চেট বেকার এই ব্রডওয়ে ব্যালাডকে অমর করে তোলেন তাঁর ট্রাম্পেটের কোমল সুর দিয়ে৷

একই বছর চেট বেকার যোগ দেন মালিগ্যান এর বাদক দলে৷ এ সময় বেকারের ট্রাম্পেট এবং মালিগ্যান এর ব্যারিটোন স্যাক্সোফোন, জ্যাজ সংগীতে এনে দেয় এক নতুন ধারা৷ তাঁদের যৌথ উদ্যোগে রচিত একটি উল্লেখযোগ্য কোয়ার্টেট ‘সেক্সটেট'৷ সেই সাথে এতে যোগ দেন বিখ্যাত স্যাক্সোফোন বাদক লি কোনিৎস৷

১৯৫৩ সালে প্যাসিফিক জ্যাজ রেকর্ডস থেকে মুক্তি পায় তাঁর অ্যালবাম ‘চেট বেকার সিংস'৷ বেকারের অবিস্মরণীয় কণ্ঠে বিষাদময় সংগীত, জ্যাজ ঐতিহ্যবাদীদের বিচলিত করে৷ এই অ্যালবামের একটি বিখ্যাত গান ‘আই গেট অ্যালং উইদাউট ইউ ভেরি ওয়েল'

চেট বেকারের জন্ম ওকলাহোমার ইয়েল শহরে ১৯২৯ সালে৷ বাবা ছিলেন পেশাদার গিটার বাদক৷ ছোট বেলায় বেকার গির্জায় বৃন্দ সংগীতে অংশ নিয়েছেন নিয়মিত এবং ট্রাম্পেটের আগে বাজিয়েছেন ট্রম্বোন৷ ১৯৪৬ সালে হাই স্কুল শেষ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন৷ সেনাবাহিনীর বাদক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি৷ এর পর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কলেজে সংগীত শিক্ষার জন্য ভর্তি হলেও তা ছেড়ে দিয়ে আবার সেনাবাহিনীর তালিকায় নাম লেখেন৷ কিন্তু জ্যাজ সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ হারিয়ে যায়নি৷ সেনাবাহিনীতে শিক্ষা শেষ করে তিনি ফিরে আসেন সংগীত জগতে৷ ৫০ দশকে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিকশিত হয় এক নতুন আঙ্গিকের জ্যাজ৷ ৪০ দশকের সেই দ্রুত লয় বা পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া সংগীত পরিবেশনা এই নতুন জ্যাজ শৈলীতে একেবারেই অনুপস্হিত ছিল৷ চেট বেকার হয়ে ওঠেন এই জ্যাজ সংগীতের প্রতীক৷ তাঁর ধীর ছন্দে, সুক্ষ্ম এবং কাব্যিক শৈলীতে সংগীত পরিবেশনা জ্যাজ সংগীতে এনে দিয়েছিল এক নতুন মাত্রা৷ ৭০ দশকের শেষার্ধ থেকে বেশির ভাগ সময় তিনি কাটিয়েছেন ইউরোপে৷

কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল কিছুটা ছন্নছাড়া৷ মাদকাসক্তির কারণে জীবনে বহু ঝঞ্ঝাটে পড়তে হয়েছে তাঁকে৷ হেরোইন এর সাথে জড়িত থাকায় তাঁকে জেল খাটতে হয়েছে ইটালিতে৷ মাদকাসক্তির কারণে ব্রিটেন এবং তদানিন্তন পশ্চিম জার্মানি থেকেও বহিষ্কৃত হয়েছিলেন তিনি৷ এবং তারই পরিণতি, আমস্টারডামের এক হোটেলের জানালা থেকে পড়ে ৫৮ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন এই সংগীত প্রতিভা৷ তাঁর বিখ্যাত সংগীত ‘স্যাড ওয়াক' যেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেরই প্রতিধ্বনি৷

প্রতিবেদন: মারুফ আহমেদ

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক