1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

জেনেভায় সব পক্ষের জয়, বিশেষ করে বাস্তববুদ্ধির

রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করছে৷ ডয়চে ভেলের সম্পাদক ব্যার্ন্ড রিগ্যার্টের মতে এই ফলাফলকে জেনেভা আলাপ-আলোচনার ‘ব্রেক-থ্রু’ বলে গণ্য করা চলে৷

জেনেভা থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার ঘোষণা এলো ইস্টারের শান্তিবাণীর মতো: এ বছরে আবার ইউরোপে এবং রাশিয়ার সনাতনপন্থি গির্জার ইস্টার পরব একই দিনে পড়েছে৷ কাজেই জেনেভার ঐকমত্য এক হিসেবে প্রতীকী বলা চলে৷

Hans-Gert Pöttering

ডয়চে ভেলের সম্পাদক ব্যার্ন্ড রিগ্যার্ট

অবশ্য সে ঐকমত্য ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তার বাস্তবায়নের লক্ষণ দৃষ্টিগোচর হওয়া চাই: যেমন বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সেই সঙ্গে ইউক্রেনের অপরাপর বেআইনী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ; পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনে দখলীকৃত সরকারি কার্যালয়গুলি দখলমুক্ত করা, ইত্যাদি৷ সব পক্ষই ‘ডি-এসক্যালেশন' বা উত্তেজনা প্রশমন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এমনকি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ-ও৷

অপরদিকে ইউক্রেন তার সংবিধানে এমন একটি রাষ্ট্রের পরিকল্পনা নথিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা রুশভাষী নাগরিকদের পক্ষে অনুকূল হবে – যদিও জেনেভা বৈঠকের আগেই কিয়েভ সরকার সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ ইউক্রেনের চরম দক্ষিণপন্থিদেরও তাদের অস্ত্রশস্ত্র জমা দিতে হবে৷ যে কোনো ধরনের ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইউক্রেন সরকার৷

সবচেয়ে বড় কথা হলো, রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনে সৈন্য পাঠাবে না, বলে কথা দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ৷ মস্কো নতুন কিয়েভ সরকারকে স্বীকার পর্যন্ত করে না, তা সত্ত্বেও লাভরভকে জেনেভায় দেখা গেছে একটি অপ্রত্যাশিত ভূমিকায়: এখানে তিনিই ছিলেন শান্তির পারাবত৷ দৃশ্যত রুশ তরফ অবশেষে উপলব্ধি করেছে যে, ইউক্রেনে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা শেষমেষ রাশিয়ার পক্ষে লাভের বদলে লোকসানই ডেকে আনবে৷

ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংগঠন ওএসসিই-র পর্যবেক্ষকরা ইউক্রেনে উত্তেজনা প্রশমন ও নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন৷ রাশিয়া যে এই শর্তটি মেনে নিয়েছে, সেটা বাস্তবিক আশাব্যঞ্জক৷ অপরদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে, কেননা রাশিয়াকে দণ্ডদান করতে গিয়ে ইইউ-কেও কমবেশি মাশুল দিতে হত, অনেক সদস্যদেশের যা-তে আপত্তি ছিল৷ এছাড়া রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ আপাতত নিরাপদ হলো৷

জেনেভায় কূটনীতির জয় ঘটল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ কিন্তু এ জয়ের মূল্যও দিতে হচ্ছে: ক্রাইমিয়া এখন রাশিয়ার অংশ এবং ভবিষ্যতেও রাশিয়ার অংশ থাকবে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও ইউক্রেন নীরবে এই দখলদারি মেনে নিল, যদিও তা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী৷ বলতে কি, জেনেভা ঘোষণায় ক্রাইমিয়ার উল্লেখ পর্যন্ত করা হয়নি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়