1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জুলিয়া রবার্টসের নতুন ছবি ইট, প্রে, লাভ...

খাও, প্রার্থনা কর আর ভালবাসো – ইট, প্রে, লাভ – এই হল ছবির নাম৷ বলা হচ্ছে খেতে হলে চলে যাও ইটালিতে, প্রার্থনা করতে ভারতে আর ভালবাসার সন্ধান চাইলে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে৷ তাহলে, আমরা যারা জার্মানিতে বসে আছি, আমাদের কী হবে ?

default

ইট, প্রে, লাভ ছবিতে জুলিয়া রবার্টস এবং জাভিয়ার বার্ডেম

ইট, প্রে, লাভ – হলিউডের ছবি৷ মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টস৷ আরে, মনে পড়ছে না ? হ্যাঁ, প্রিটি ওম্যান৷

ছবির ঘটনাটি এরকম : এলিজাবেথ গিলবার্টের জীবন পরিপূর্ণ৷ নিজের বাড়ি, সুদর্শন স্বামী আর বেশ ভাল বেতনের চাকরি – আর কী চাই ? কিন্তু তারপরও সব থেকেও কী যেন নেই৷ এলিজাবেথ খুঁজতে থাকে অদৃশ্য সেই বস্তুকে৷ জীবনে কী আছে অথবা জীবনে আর কী থাকা চাই ? ব্যাস স্বামী-সংসার-ক্যারিয়ার শিকেয় তুলে এলিজাবেথ বেরিয়ে পড়লেন বিশ্ব ভ্রমণে৷

জুলিয়া রবার্টসের ভাষ্যে : ‘‘ছবির শুরুতে দেখা গেছে এলিজাবেথের জীবনের বিভিন্ন জটগুলো খুলতে শুরু করেছে৷ তখন সবকিছু হাসি-তামাশার মধ্যে দিয়ে পার হয়েছে৷ যখন সে বুঝল এসবের কোন অর্থ নেই তখনই সে বিবাহ-বিচ্ছেদের দিকে এগিয়ে যায়৷ পরিবর্তন আসে জীবনে৷ তখন সে জীবনকে নতুন করে সাজানোর কথা ভাবে৷ সব কিছু পেছনে ফেলে সে বেরিয়ে পড়ে এক বছরের জন্য৷ ভ্রমণ করে নিজের পছন্দমত জায়গায়, খুবই গোপন কিছু উদ্দেশ্য নিয়ে৷''

অর্থাৎ এলিজাবেথ পরিবর্তন চায়, একঘেয়েমির জীবন থেকে মুক্তি চায়৷ চায় আনন্দ, ভালবাসা, নীরবতা, প্রেম আর এক প্লেট স্প্যাগেটি৷ স্প্যাগেটি কেন ? কারণ এলিজাবেথ গিলবার্টের প্রথম স্পট এবং স্টপ ইটালির রোম৷

Indien Julia Roberts Eat Pray Love

ইট, প্রে, লাভ ছবির একটি দৃশ্য

পেট ভরে খাওয়া হল স্প্যাগেটি, পিৎসা আর জেলাতো অর্থাৎ আইসক্রিম৷ এখন কী করা যায় ? এত ভাল খাওয়া-দাওয়ার জন্য তো সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেওয়া জরুরি৷ প্রতিদিন যেন এমন পেট ভরে খাওয়া যায়৷ সেই জন্য প্রার্থনা করতে হবে৷ জীবনে রয়ে গেছে অপূর্ণ কিছু বাসনা৷ সেগুলো পূরণ করতে হবে৷ শুরু করতে হবে প্রার্থনা দিয়ে৷ এলিজাবেথ চলে যান ভারতে৷ একটি আশ্রমে৷ শুরু হল প্রার্থনা৷ পরিচয় হল রিচার্ডের সঙ্গে৷

জুলিয়া রবার্টসের কথায়, ‘‘খুবই কঠিন এক সময়ের মধ্যে দিয়ে এলিজাবেথ সময় পার করে৷ আবেগ-ভালবাসা আর মুক্তির আকাঙ্খা সবকিছুই তাড়া করে৷ প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সে ভ্রমণ করে৷ বিবাহ-বিচ্ছেদের পর সে ভ্রমণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে৷ বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়৷ কী করতে হবে কোন কিছুরই তাল খুঁজে পায়না সে৷ ভারতে সে স্থানীয় পরিবেশের মধ্যে একেবারে হারিয়ে যায়৷ এসব কিছুই আমাকে অপূর্ব সুযোগ দিয়েছে এলিজাবেথের ভূমিকাকে নিঁখুতভাবে তুলে ধরার৷''

প্রার্থনার শক্তি, নীরবতা, সবার মাঝে শান্তি – এসব দেখে মুগ্ধ হন এলিজাবেথ৷ তিনি খুঁজে পান নিজেকে৷ বলা যেতে পারে আশ্রম তাঁকে নতুনভাবে বাঁচতে শেখায়৷ কিন্তু একা একা তো বেঁচে থাকা কঠিন৷ চাই সঙ্গী, পাশে চাই প্রিয়জনকে৷ এলিজাবেথ ভারতের আশ্রম ছেড়ে চলে যান ইন্দোনেশিয়ার বালিতে৷ কিন্তু সেখানে কেউ কী অপেক্ষা করে আছে এলিজাবেথের জন্য ?

ছিল এবং আছে৷ অপেক্ষা করে আছে ফেলিপে৷ নতুনভাবে ভালবাসতে শিখল এলিজাবেথ৷ জীবনে আর কিছু বাকি রয়ে গেল কী ?

ছবিটি তৈরি করা হয়েছে একটি বেস্টসেলারের ওপর ভিত্তি করে৷ লেখিকা এলিজাবেথ গিলবার্ট৷ তিনি তাঁর জীবনের আনন্দ-ভালবাসা এবং হৃদয়ের হাহাকার ছড়িয়ে দিয়েছেন বইয়ের পাতায় পাতায়৷ বইয়ের পাতা থেকে তা তুলে আনা হয়েছে রুপালি পর্দায়৷ জুলিয়া রবার্টস জানান, ‘‘প্রতিটি মুহূর্তেই দেখানো হয়েছে এলিজাবেথ কোথায় যাচ্ছে৷ সব দৃশ্যই তুলে ধরা হয়েছে৷ আমার মনে হয় প্রতিটি মানুষের জীবনেই এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত আসে যখন সবাই নিজেকে প্রশ্ন করে – এটাই কি আমি চেয়েছিলাম বা আমি যা চেয়েছি তা কি পেয়েছি ? আমি কে ? আমি কোথায় যেতে চাই ? এসব প্রশ্ন যে কোন মানুষকে আকৃষ্ট করবে৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক