1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

জীবশরীরের অংশ ‘ছেপে' নিলেই তো হয়!

ভেষজ বা প্রসাধন তৈরির জন্য প্রতিবছর পরীক্ষাগারে কোটি কোটি ইঁদুর, খরগোশ ও কুকুর প্রাণ দিয়ে থাকে৷ কিন্তু জীবশরীরের টিস্যু ‘মুদ্রণ' বা ‘প্রিন্ট' করে তার ওপর ঠিক একই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো যায়, বলছেন জার্মান বিজ্ঞানীরা৷

প্রতিবছর ১০ থেকে ৩০ কোটি মেরুদণ্ডী প্রাণী ল্যাবোরেটরির এক্সপেরিমেন্টে প্রাণ হারায়৷ বিশেষ করে ইঁদুর, সেই সঙ্গে খরগোশ ও কুকুর জাতীয় প্রাণীদের নতুন ওষুধ কিংবা চিকিৎসা পদ্ধতি পরীক্ষা করার কাজে ব্যবহার করা হয়৷ তারপর তাদের মেরে ফেলে, কেটেকুটে অনুসন্ধান করে দেখা হয়৷

জীবজন্তু নিয়ে পরীক্ষা বহুক্ষেত্রে আবশ্যক হতো না, যদি সেগুলি কোষ অথবা হিস্টয়েড, অর্থাৎ জীবশরীরের কোষসমষ্টি নিয়ে করা যেত৷ ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারফেসিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বা আইজিবি-র ড. বর্শার্স বলেন: ‘‘আমরা জীবশরীরের টিস্যু ‘মুদ্রণ' বা ‘প্রিন্ট' করতে চাই৷ কারণ আমরা পরীক্ষাগারে জীবজন্তু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিকল্প সৃষ্টি করতে চাই৷ রাসায়নিক, প্রসাধন দ্রব্য ইত্যাদি আজও প্রায়ই জীবজন্তুদের উপর পরীক্ষা করা হয়৷ তাই কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট টিস্যু নিয়ে পরীক্ষা করা গেলে ভালো হতো৷ এছাড়া যে সব রোগীর টিস্যুতে কোনো খুঁত রয়েছে, ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য বিকল্প টিস্যুও তৈরি করা যেতে পারে৷''

‘ছাপার' কালি

‘বিও-টিনটে', মানে ‘বায়োলজিকাল কালার' বা ‘জৈবিক রং'-এর মুখ্য উপাদান হলো জেলাটিন৷ এটি সাধারণত একটি জেলি, যা দিয়ে মুদ্রণ করা সম্ভব নয়৷ তাই একে মুদ্রণের উপযোগী করে তোলার জন্য জেলি করার প্রক্রিয়াটিকে রাসায়নিকভাবে বদলে নিতে হয়, যাতে ছাপার সময়ে জেলাটিন তরলই থাকে৷ এছাড়া জীবন্ত কোষের সঙ্গে এই জেলাটিন যোগ করা হলে, সেটা যাতে কোনো ক্ষতি না করে – সেটাও দেখতে হবে৷ ড. বর্শার্স বলেন:

‘‘‘বায়ো-কালার'-কে কোষগুলোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে, জীবন্ত কোষগুলি যে পরিবেশে থাকে, তার সঙ্গে মানানসই হতে হবে একে৷ এই জীববিজ্ঞানগত শর্তগুলোর সঙ্গে রয়েছে প্রযুক্তিগত শর্ত: যেমন ঐ ‘জৈবিক রং' প্রিন্টার বা মুদ্রণযন্ত্রে ব্যবহারের উপযোগী হওয়া চাই; তার ঠিক সেই পরিমাণ ঘন হতে হবে, জেলি হয়ে গেলে চলবে না, আবার একেবারে তরল হয়ে গেলেও চলবে না৷''

হাড় থেকে শুরু করে চর্বি

বিজ্ঞানীরা এই জেলাটিনকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে এমনভাবে বদলে নিতে পারেন, যাতে তা থেকে সৃষ্ট জেল বিভিন্ন ঘনত্বের হতে পারে এবং বিভিন্নভাবে সম্প্রসারিত করা চলে৷ জীবশরীরের স্বাভাবিক টিস্যুতেও ঠিক এই দু'টি বৈশিষ্ট থাকে: শক্ত হাড় থেকে শুরু করে নরম চর্বি পর্যন্ত৷

স্টুটগার্টের ল্যাবোরেটরিতে রাখা প্রিন্টারগুলো অফিসে রাখা সাধারণ প্রিন্টারের মতোই: কার্ট্রিজ থেকে শুরু করে নজল অবধি৷ তা সত্ত্বেও কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ তফাৎ আছে৷ ড. বর্শার্স বলেন:

‘‘কার্ট্রিজে হিটিং লাগানো আছে, যাতে কালির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়৷ আর প্রিন্টারে একটা ‘আল্ট্রাভায়োলেট' বা অতিবেগুনি রশ্মির ল্যাম্প লাগানো আছে, যা দিয়ে কালিগুলোর ক্রস-লিংকিং সম্ভব৷ এছাড়া শীততাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়৷ এ সব এমন জিনিস, যা অফিসের প্রিন্টারে কাজে লাগে না৷''

জেলাটিনকে যদি এখন – ধরা যাক – শিরা বা ধমনীর জীবন্ত কোষের সঙ্গে মেশানো হয়, তাহলে এই বায়োকলর বা জৈবিক রং দিয়ে এবার মুদ্রণ করা যাবে৷ মুদ্রিত কোষগুলি মিলে পরে ধমনী অথবা শিরা সৃষ্টি করবে, যা আশেপাশের টিস্যুকে পুষ্টি জোগাবে৷ অতিবেগুনি আলো তরল জেলাটিনকে আবার ঘন জেলির মতো করে তোলে, যা কোষগুলির বৃদ্ধির জন্য একটি স্থান বা কাঠামো সরবরাহ করে৷ ড. বর্শার্স বলেন যে, দীর্ঘমেয়াদি সূত্রে বিজ্ঞানীরা চান:

‘‘কার্টিলেজ বা উপাস্থি গড়তে – যা স্তরের উপর স্তর বসিয়ে তৈরি করতে হয়৷ আমরা হাড় তৈরি করতে চাই – যা একটি অতীব জটিল টিস্যু – এবং একটি রক্তপ্রবাহ প্রণালী৷ আমরা ত্বকের উপরের স্তরগুলিকে সাবকিউটেনাস ফ্যাট, অর্থাৎ ত্বকের নীচের মেদের সঙ্গে সমন্বয় করতে চাই৷''

বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো: একটি কার্যকর ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ প্রক্রিয়া আবিষ্কার করা, যা শরীরের যাবতীয় কোষ সহ এই জেলাটিনকে একাধিক স্তরে ‘মুদ্রণ' বা ‘প্রিন্ট' করতে পারবে৷ পরে যখন জেলাটিন শক্ত হয়ে আসবে, তখন জটিল সব টিস্যু গঠিত হবে – কোষগুলি নিজেদের সেইভাবে সাজিয়ে নেবার ক্ষমতা রাখে বলে৷ এভাবে একদিন পরীক্ষাগারে প্রাণীহত্যার আর কোনো প্রয়োজন পড়বে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক