1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জি-টোয়েন্টি

জি-টোয়েন্টি সম্মেলনের কড়া প্রতিবাদ করছে যাঁরা

জার্মানিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক আগমনের আগেই শুরু হয়েছে প্রতিবাদ৷ জি-টোয়েন্টি সম্মেলনকে ঘিরে উত্তাল হামবুর্গ৷ চলুন দেখে নেই সম্মেলনের প্রতিবাদকারী কারা এবং কেনই বা তাঁরা প্রতিবাদ করছেন৷

হামবুর্গের রাস্তাঘাট এবং নদীতে আগামী সপ্তাহান্তে অস্বাভাবিক ভিড় থাকবে৷ জি-টোয়েন্টি সম্মেলনকে ঘিরে বেশ কয়েকটি প্রতিবাদী গ্রুপ বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রগুলোর নীতির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে৷ এরমধ্যে কয়েকটি কর্মসূচির সময়সীমা এবং স্থান আগেই ঘোষণা করা হয়েছে৷

জি-টোয়েন্টি: স্বাগত নয়

১৭০টির মতো সংগঠন হামবুর্গে শনিবার, ৮ জুলাই, সকাল এগারোটায় ‘‘জি-টোয়েন্টির বদলে সীমান্ত ছাড়া সংহতি'' শীর্ষক এক বিক্ষোভের আয়োজন করেছে৷ ‘‘শীতল এবং নিষ্ঠুর বৈশ্বিক পুঁজিবাদ প্রত্যাখ্যান'' করার উদ্দেশ্যে ঘোষিত এই কর্মসূচিতে জার্মানির মূল বিরোধী দলগুলো অংশ নেবে৷ পাশাপাশি বিভিন্ন শান্তিপন্থি আঞ্চলিক গ্রুপও থাকছে কর্মসূচিতে৷

বিক্ষোভকারী জোটের অনলাইনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রতিবাদ মূলত বিশ্বের ৬৫ মিলিয়ন শরণার্থীর জন্য ইউরোপের সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া, বর্ণবাদ এবং প্রকাশ্যে বিদ্বেষ বেড়ে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের অনস্বীকার্য এবং আশঙ্কাজনক বাস্তবতা এবং বিশ্বে ক্রমবর্ধমান অসাম্যতার বিরুদ্ধে৷

Hamburg vor G20 Treffen (DW/Jenny Witt)

হামবুর্গে জি-টোয়েন্টির আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ

প্রতিবাদকারীরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘‘৭ এবং ৮ জুলাই এ সব মানবিক এবং সামাজিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী রাজনীতিবিদরা হামবুর্গে সমবেত হবেন৷ নিজেদের বাৎসরিক সম্মেলনে জি-টোয়েন্টির শির্ষ নেতারা অভিবাসনের কারণগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করবেন, যদিও সেখানে যেসব দেশ থেকে শরণার্থীরা আসছেন তাঁদের কোনো প্রতিনিধি থাকবে না৷ সেখানে আফ্রিকার সঙ্গে একটি পার্টনারশিপ নিয়ে আলোচনা হবে, অথব সম্মেলনে বলতে গেলে সেই মহাদেশের কোনো উপস্থিতিই নেই৷''

জি-টোয়েন্টি: দোজখে স্বাগতম – রেড জোনে হানা

শনিবার বিকেল চারটায় আরো উগ্রপন্থি এক বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছে হামবুর্গের কেন্দ্রে৷ শহরের নৈরাজ্যবাদী, ফ্যাসিবাদী বিরোধী হটস্পটখ্যাত সেন্ট পাউলি ফিসমার্কট ঘিরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে৷ বিক্ষোভকারীরা চাচ্ছেন পুঁজিবাদের পুরনো এবং নতুন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক কেন্দ্র হিসেবে হামবুর্গকে তুলে ধরতে৷

এই বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের আশঙ্কা বেশি রয়েছে৷ আন্দোলনকারীরা ইতোমধ্যে শহরে পুঁজিবাদ বিরোধী ক্যাম্প গড়া নিয়ে নগর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধী জড়িয়েছে৷ বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে৷ আন্দোলনকারীরা এমনও ঘোষণা দিয়েছেন যে, বিক্ষোভের আগে পুলিশ তাদের কোনোরকম তল্লাশি করতে চাইলে তাতেও বাধা দেয়া হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

‘পুঁজিবাদের সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা'

হামবুর্গের বন্দর জেলা ভিলহেল্মসবুর্গে ‘‘পুঁজিবাদের মসৃন বিকাশে প্রতীকী বাধা'' সৃষ্টির উদ্দেশ্যে শুক্রবার এক প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে৷ তবে আয়োজকরা ঠিক কিভাবে এই বাধা সৃষ্টি করবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি৷ ধারণা করা হচ্ছে, তারা হামবুর্গ বন্দরের কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন৷ এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ওয়েবসাইটের ঠিকানা ‘‘শাটডাউন-হামবুর্গ ডটঅর্গ৷''

জি-টোয়েন্টি প্রতিবাদের বহর: গ্রিনপিস, ক্যাম্প্যাক্ট, বুন্ড, অক্সফাম

জার্মানির কয়েকটি প্রভাবশালী পরিবেশবাদী গোষ্ঠী মিলে দুই জুলাই জলবায়ু পরিবর্তন রোধে জি-টোয়েন্টিকে আরো সক্রিয় হতে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে৷ এসময় প্রতিবাদকারীরা একটি চলমান জাহাজে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের একটি ছবি ঝুলিয়ে দেয় এবং ইংরেজিতে ‘অ্যান্ড সিএন' লিখে দেয়৷ একপর্যায়ে পুলিশ অবশ্য তাদের জাহাজের কাছ থেকে হটিয়ে দেয় এবং ম্যার্কেলের ছবি জাহাজ থেকে সরিয়ে ফেলে৷ পরিবেশবাদী এই গোষ্ঠীগুলো সম্মেলনের সময় এরকম আরো প্রতিবাদ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে৷

বৈশ্বিক সংহতি সমাবেশ

এদিকে, ৭৭টি আন্তর্জাতিক এনজিও, বামপন্থি রাজনৈতিক দল, থিঙ্কট্যাংক এবং শ্রমিক সংগঠন পাঁচ এবং ছয় জলাই হামবুর্গে দুই দিনব্যাপী বিকল্প সামিটের ঘোষণা দিয়েছে৷ আন্দোলনরত এই গোষ্ঠীর দাবি যে, তারা সমাজে বৈষম্য সৃষ্টিকারী এক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে তারা এই সামিট করছেন৷

উল্লেখ্য, জি-টোয়েন্টি সামিটকে কেন্দ্র করে হামবুর্গে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা৷ শহরে মোট বিশ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে৷ ধারণা করা হচ্ছে, সম্মেলন চলাকালে লক্ষাধিক প্রতিবাদকারী শহরে জড়ো হতে পারেন৷

বেন নাইট/এআই

সংশ্লিষ্ট বিষয়