1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে নানা বিতর্ক

আর্থিক ও অর্থনৈতিক সংকটের আগে পর্যন্ত শিল্পোন্নত দেশগুলির গোষ্ঠী জি-এইট একাই ছড়ি ঘোরাতো৷ বিপদে পড়ে মঞ্চে আনতে হলো বিশ্বের বাকি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলিকেও৷

default

জি-টোয়েন্টি দেশগুলির সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা কার্যকর করা সম্ভব নয়, এবিষয়ে আজ আর কোনো সন্দেহ নেই৷ তবে ২০টি দেশের মধ্যে ঐক্যমত গড়ে তোলাও বেশ কঠিন কাজ, যেমনটা কঠিন কোনো সম্মিলিত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা৷

সাফল্যের খতিয়ান

২০০৮ সালের পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সৌলে পঞ্চম জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে এর আগের সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তার একটা খতিয়ান নেওয়া হবে৷ ভবিষ্যতে আর্থিক ও অর্থনৈতিক সংকট এড়াতে শীর্ষ নেতারা ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের যে কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন, তা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে৷ এর আওতায় ব্যাঙ্কগুলিকে যথেষ্ট মূলধন মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে অসময়ে তারা সরকারের সহায়তা ছাড়া নিজেরাই সংকটের ধাক্কা সামলাতে পারে৷ ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যেই এই কাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার কথা৷ এবারের সম্মেলনে এই মর্মে কিছু নতুন সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে৷

G20 G-20 Seoul Oxfam International Aktivisten NO FLASH

শীর্ষ সম্মেলন মানেই বিক্ষোভ – সৌলেও কোনো ব্যতিক্রম হচ্ছে না

নতুন চ্যালেঞ্জ

ইতিমধ্যে বেশ কিছু নতুন সমস্যাও যোগ হয়েছে, দেখা দিচ্ছে নতুন বিতর্ক৷ সংকট কাটিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতি পেতে শুরু করলেও তার প্রভাব কর্মসংস্থানের উপর তেমন পড়ছে না৷ কর্মসংস্থান না বাড়লে বাজারের উপরেও তার বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ বাজার অর্থনীতির সুযোগ-সুবিধা পুরোদমে কাজে লাগালেও চীন তার মুদ্রা ইউয়ান'এর বিনিময় মূল্য কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রেখেছে৷ ফলে রপ্তানি বাণিজ্যে বাড়তি সুবিধা হচ্ছে সেদেশের৷ বাকিরা চীনকে মুদ্রার উপর নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে৷ বুধবারই ইউয়ানের সর্বোচ্চ বিনিময় মূল্য দেখা যাচ্ছে৷ সমালোচকদের মতে, বড় সম্মেলনের আগে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে চীন এমনটা করে থাকে৷ অন্যদিকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক গত সপ্তাহে আরও প্রায় ৬০,০০০ কোটি ডলার সরকারি বন্ড কিনে নেওয়ায় জার্মানি সহ অন্যান্য দেশ অসন্তোষ প্রকাশ করছে৷ এর ফলেও ডলারের বিনিময়মূল্য কমে যাওয়ায় ওয়াশিংটন বাড়তি সুবিধা পাবে বলে অভিযোগ উঠছে৷

মৌলিক মতপার্থক্য

প্রশ্নটা অনেকটা যেন ‘ডিম আগে, না মুরগি আগে'? অ্যামেরিকা যেমন যে কোনো মূল্যে অর্থনীতিকে চাঙা করার বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, জার্মানির মতো অন্য অনেক দেশ বাজেট ঘাটতি কমানো, স্থিতিশীল ও টেকসই উন্নয়ন, মুদ্রা ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের উপর সরকারি হস্তক্ষেপ কমানোর উপর জোর দিচ্ছে৷ তাছাড়া মুক্ত বাণিজ্যের পথে বাধা সৃষ্টি করার বিষয়েও সাবধান করে দিচ্ছে ভারতের মতো দেশ৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ