1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জি-টোয়েন্টি

জি-টোয়েন্টি: বিশ্বের চোখ ট্রাম্প-পুটিন সাক্ষাতের দিকে

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের জন্য এই জি-টোয়েন্টি শীর্ষবৈঠক খুব সহজ হবে না৷ বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য ছাড়াও ট্রাম্প, পুটিনের মতো মহারথীদের সাক্ষাত গোটা জি-টোয়েন্টিকে অকিঞ্চিৎকর করে তুলতে পারে৷ 

একদিকে বিশ্ববরেণ্য নেতৃবৃন্দের বৈঠক, অন্যদিকে জি-টোয়েন্টি বিরোধীদের প্রতিবাদ ও মাঝে হাজার হাজার পুলিশ৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই পুঁজিবাদ বিরোধীদের সবচেয়ে উগ্র অংশ, তথাকথিত ‘ব্ল্যাক ব্লক' পথে নামে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা প্রায় হাজার খানেক আন্দোলনকারী৷ সব মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার মানুষের এই মিছিল রুখতে গিয়ে অন্তত ৭৬ জন পুলিশ আহত হন৷ 

জলবায়ু পরিবর্তন...

জলবায়ু পরিবর্তনও বিশ্বের উষ্ণায়ন এমন একটি প্রসঙ্গ, যেখানে জি-টোয়েন্টির একক সদস্যদেশগুলির মনোভাবে যত না মিল, তার চেয়ে বেশি অমিল পরিলক্ষিত হয়৷ আরো বড় কথা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন সংশ্লিষ্ট অধিবেশনটিতে উপস্থিত থাকবেন না৷ ট্রাম্প আর পুটিন ঠিক সেই সময় দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনায় ব্যস্ত থাকবেন – যার একটি অর্থ এও হতে পারে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গটিকে শীর্ষবৈঠকের চূড়ান্ত ঘোষণা থেকে পুরোপুরি বাদ দিতে চায়৷

জি-টোয়েন্টি শীর্ষবৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য শুধু জলবায়ু প্রসঙ্গ নিয়ে নয়, বিশ্ব বাণিজ্য বা অভিবাসন প্রসঙ্গেও ‘নানা ভাষা, নানা মত'৷ এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র সার্বজনীন ঐকমত্যে পৌঁছনোর প্রচেষ্টা পুরোপুরি জলাঞ্জলি দিতে পারে বলে কিছু কূটনীতিকের আশঙ্কা৷

‘নানা গোলযোগ'

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের ফলে বিশ্ব যে এখন ব্যাপক গোলযোগের মধ্য দিয়ে চলেছে, এ মন্তব্য স্বয়ং শীর্ষবৈঠকের আমন্ত্রণকর্ত্রী আঙ্গেলা ম্যার্কেলের৷ বৈঠকের নির্ঘণ্টে গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত নীতি, ডিজিটাল বিশ্বের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, আফ্রিকার জন্য বিনিয়োগ কর্মসূচি বা নারী অধিকারের সম্প্রসারণ৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এসবের গুরুত্ব রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাতের চেয়ে অনেক কম৷

বৃহস্পতিবার ওয়ারশ-তে ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় ও তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘স্থিতিশীলতা হানিকর ভূমিকার' কথা বলেন৷ কিন্তু দৃশ্যত ট্রাম্প পুটিনের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলার পরিকল্পনা করছেন না বা করেননি৷ তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার গত সপ্তাহে রিপোর্টারদের যা জানিয়েছেন৷ অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হ্যাকিং-এর প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হবে কিনা, তা অজ্ঞাত৷

অন্যান্য প্রসঙ্গ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে ট্রাম্পের আলাপ-আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার প্রসঙ্গটি নিশ্চয় করে স্থান পাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ পুটিনের সঙ্গে সাক্ষাতেও প্রসঙ্গটি আলোচিত হবার সম্ভাবনা আছে৷

সৌদি আরবের নেতৃত্বধীন একাধিক উপসাগরীয় দেশ যে কাতারকে কূটনৈতিক বিচারে একঘরে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ট্রাম্প সে বিষয়ে হামবুর্গে স্পষ্ট বক্তব্য রাখবেন, বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে৷

শীর্ষবৈঠকের সভাপতি জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ইতিপূর্বেই বলেছেন যে, তিনি যে কোনো মূল্যে একটি অর্থহীন, মোলায়েম চূড়ান্ত ঘোষণা কামনা করেন না৷ মূল্য বলতে যদি এই শীর্ষবৈঠকের ৩০ কোটি ইউরো খরচ বোঝায়, তাহলে হামবুর্গের দশম জি-টোয়েন্টিতে এখনও অনেক কাঠখড় পোড়ানো বাকি৷

ব্যার্ন্ড রিগ্যার্ট/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়