1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জি-টোয়েন্টি

জি-টেয়েন্টি: মতবিরোধে পূর্ণ এক সম্মেলন

৭ জুলাই হামবুর্গে মিলিত হচ্ছেন জি-টোয়েন্টি নেতারা৷ তাঁরা এমন এক সময়ে এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন, যখন তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ তুঙ্গে রয়েছে৷ অতীতে জি-টোয়েন্টির কোনো সম্মেলনে এই অবস্থা হয়নি৷

জার্মান চ্যান্সেলর হিসেবে গত ১২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলন আয়োজনের অভিজ্ঞতা ভালোই রয়েছে তাঁর৷ ২০০৭ সালে জার্মানির বাল্টিক সি রিসর্ট হাইলিগেনডামে জি-সেভেন বৈঠকের আয়োজন করা হয়৷ ২০১৫ সালে বাভারিয়ার এলমাওতে সি-সেভেনের আরেকটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়৷ এখন হামবুর্গে আয়োজিত হচ্ছে বড় ধরনের আরেকটি বৈঠক, জি-টোয়েন্টি সামিট, যার সভাপতিত্বের দায়িত্বে বর্তমানে রয়েছে জার্মানি৷ বিশ্বের বিশটি ধনী এবং উন্নয়নশীল দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন৷

হামবুর্গের এই সম্মেলনেটি চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ৷ ম্যার্কেল নিজেই স্বীকার করেছেন সেকথা৷ তিনি বলেন, ‘‘চলতি বছর বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে জি-টোয়েন্টি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷ আমি এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর কথা বলবো: সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, সংরক্ষণবাদ–  এসবই আমাদের অ্যাজেন্ডায় রয়েছে৷ বিশ্ব বর্তমানে এক অস্থির অবস্থার মধ্যে রয়েছে, ঐক্যের অভাব স্পষ্ট৷'’

তিন ক্ষমতাধর পুরুষ

বিশ্বে ঐক্যের অভাব স্পষ্ট করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন এবং তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এর্দোয়ান৷ আর এই তিন নেতাই জি-টোয়েন্টি বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন এবং এটাও পরিষ্কার যে, তিন নেতাই বৈঠকে নিজেদের অ্যাজেন্ডা এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবেন৷ এর্দোয়ান চাচ্ছেন হামবুর্গে জি-টোয়েন্টির পাশাপাশি তুর্কিদের সঙ্গে সমাবেশ করতে, যা জার্মানি ইতোমধ্যে ‘না’ করে দিয়েছে৷ তা সত্ত্বেও তিনি অন্য কোনোভাবে সমাবেশের আয়োজন করেন কিনা তা দেখার বিষয় রয়েছে৷

ট্রাম্প এই বৈঠককে পুটিনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ হিসেবে নিচ্ছেন৷ তাঁদের মধ্যে আলোচনার বিষয় অনেক৷ ইউক্রেন সংকট, সিরিয়া যুদ্ধের পাশাপাশি রাশিয়ার উপরে নানা নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন নির্বাচনে সেদেশের প্রভাব বিস্তারের বিষয় তো রয়েছেই৷

জলবায়ু নিয়ে বিতর্ক

জি-টোয়েন্টি সামিটে ট্রাম্পের কাছে আলোচনার অবশ্য আরো বিষয় রয়েছে৷ স্টিলের বাড়াবাড়ি রকমের উৎপাদনের বিরুদ্ধে উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করবেন তিনি, এমনকি এজন্য নিষেধাজ্ঞার দিকেও যেতে পারেন৷ আর এটাও পরিষ্কার যে, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার যে ঘোষণা ট্রাম্প দিয়েছেন, তার নড়চড় হবে না৷ ম্যার্কেল এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, ‘‘যেহেতু প্যারিস চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সেহেতু আমরা হামবুর্গে আলোচনা সহজ হবে আশা করতে পারি না৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মধ্যে ব্যবধান স্পষ্ট এবং সেটা আমি লুকাতে গেলে তা অসততা হবে৷ আমি সেটা করবো না৷ কেউ যদি মনে করে যে, বিচ্ছিন্নতাবাদ আর সংরক্ষণবাদের মাধ্যমে এই সমস্যার (জলবায়ু পরির্বতন) মোকাবিলা করা যাবে, তাহলে সে বড় ভুল করবে৷''

ভিডিও দেখুন 01:05

হামবুর্গে জি-টোয়েন্টি: হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

আরো যা আছে আলোচনায়

জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াই, নারী নীতি এবং স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনা হবে সম্মেলনে৷ এসব বিষয়ে অবশ্য ঐক্মত্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদী ম্যার্কেল৷ শরণার্থী নীতি নিয়ে আলোচনাতেও মতবিরোধ তেমন একটা হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে৷ পাশাপাশি মুক্তবাণিজ্য নিয়েও জোটের একটি শক্ত অবস্থান চান ম্যার্কেল৷

যদিও সম্মেলনে আফ্রিকার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে নেই, তবে আলোচনায় থাকছে আফ্রিকাও৷ আফ্রিকায় উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত রেখেই বিভিন্ন খাতে সরকারি এবং বেসরকারী তরফ থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর পক্ষে জি-টোয়েন্টির সভাপতিত্বকারী দেশ জার্মানি৷ এটা সম্ভব হলে ইউরোপের উপর শরণার্থীদের চাপ কমবে বলেও আশা করা হচ্ছে৷

উল্লেখ্য, হামবুর্গ সম্মেলন কভার করতে বিশ্বের ৬৫টি দেশের প্রায় পাঁচ হাজার সাংবাদিক অ্যাক্রেডিটেশন সম্পন্ন করেছেন৷ এই সম্মেলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেও শহরটিতে হাজির হচ্ছেন বেশ কয়েক হাজার প্রতিবাদকারী৷ আর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে বিশ হাজারের মতো পুলিশ সদস্য৷ সবমিলিয়ে সপ্তাহান্তে এই বৈঠকের দিকেই নজর থাকবে গোটা বিশ্বের৷

সাবিনা কিনকার্ৎস/এআই

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়