1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

জিহাদে অংশ নিচ্ছেন জার্মান নারীরাও

অন্যান্য যুদ্ধের মতো সিরিয়া যুদ্ধেও মুসলিম নারীদের অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে৷ তাঁরা লড়াই করছেন ‘পবিত্র যুদ্ধ' বা জিহাদের জন্য৷ এই যুদ্ধে জার্মানি থেকে আসা মেয়েদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে৷

default

অনেক যুদ্ধে মুসলিম নারীদের অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে

বোরকা বা হিজাব পরে মেয়েরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন, এই দৃশ্য আকৃষ্ট করে মানুষকে৷ ইন্টারনেটে অসংখ্য ক্লিক আসে, পত্রপত্রিকার সংস্করণ বেড়ে যায়৷ ‘‘জিহাদে অংশগ্রহণকারিণীদের ব্যাপারে একটা মুগ্ধতা দেখা যায় মানুষের মধ্যে৷'' বলেন বার্লিনের বিজ্ঞান ও রাজনীতি ফাউন্ডেশনের ইসলাম বিশেষজ্ঞ গিডো শ্টাইনব্যার্গ৷

এই ধরনের প্রবণতা গত বছরগুলিতে বার বারই লক্ষ্য করা গিয়েছে৷ সংঘটিত হচ্ছে প্যালেস্টাইন, ইরাক ও চেচনিয়ায় নারীদের দ্বারা আত্মঘাতী হামলা৷ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মেয়েরা যুদ্ধে অংশ নিলে মিডিয়ার নজর কাড়ে বেশি৷

যুদ্ধে যোগ দিচ্ছেন অল্পবয়সি নারীরা

জার্মানির সংবিধান সুরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিরিয়ায় আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ৮০,০০০ বিদ্রোহীর মধ্যে ৩০০ জন জার্মানি থেকে আসা৷ এর মধ্যে সম্ভবত ৪০ জন নারী৷ অবশ্য সঠিক সংখ্যাটা জানা যায়নি৷ কেননা জার্মানি থেকে সিরিয়ায় গেলেই কেউ যে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন, এমন কথা নেই৷

এছাড়া অনেকেই আবার তাড়াতাড়ি জার্মানিতে ফিরে আসেন৷

লক্ষণীয় যে, যুদ্ধে অংশ নেওয়া মেয়েদের মধ্যে অনেকেই খুব অল্পবয়সি৷ গত বছর কন্সটানৎস শহরের হাইস্কুলের ছাত্রী সারাহ-এর ঘটনাটি সংবাদের শিরোনাম হয়েছিল৷

১৫ বছর বয়সি এই ছাত্রী তুরস্কের ওপর দিয়ে সিরিয়ায় যায় ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে৷ ইন্টারনেটের মাধ্যমে অস্ত্রসহ ছবি দেখিয়ে মেয়েদের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায় সে৷ এই প্রসঙ্গে জঙ্গিবাদ বিশেষজ্ঞ হলগার শ্মিট বলেন, ‘‘ঘটনাটি এত সংবেদনশীল এই কারণে, সম্ভবত এই মেয়েটি সবচেয়ে কমবয়সি, যে সংকটপূর্ণ অঞ্চলে গিয়ে যুদ্ধে সক্রিয় হওয়ার কথা জানিয়েছে৷''

Symbolbild Deutsche Frauen im Syrienkrieg

‘মেয়েদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার একটি বড় কারণ হলো প্রতিশোধস্পৃহা’

মেয়েদের সহায়ক শক্তি হিসাবে দেখা হয়

ইসলাম বিশেষজ্ঞ শ্টাইনব্যার্গ অবশ্য বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে চান না৷ তাঁর মতে, মেয়েটি নিজেকে অস্ত্রসহ দেখালেও তা কোনো সিরিয়াস ট্রেনিং কিনা এতে বোঝা যায় না৷ ইরাক ও প্যালেস্টাইনের মতো সিরিয়ায় আত্মঘাতী হামলা এখন পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায়নি৷''

বহু মুসলিম যোদ্ধা মেয়েদের শুধু সহায়ক শক্তি হিসাবে দেখতে চান, সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করাটা পছন্দ করেন না৷ ইন্টারনেটে ভিডিও প্রচারণার মাধ্যমে পুরুষদের নৈতিক সাহস ও সমর্থন দেওয়া হয়৷

তবে অন্যান্য ইসলাম বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র৷ খুব শিগগিরই হয়তো খবর শোনা যাবে, নারী আত্মঘাতী হামলাকারীরা সিরিয়ায় জিহাদে অংশ নিচ্ছেন৷

প্রতিশোধস্পৃহা

জঙ্গিগ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত কারণেই মেয়েরা জিহাদে অংশগ্রহণ করে থাকেন৷ যেমন ইরাক, প্যালেস্টাইন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে৷

মেয়েদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার একটি বড় কারণ হলো প্রতিশোধস্পৃহা৷ স্বামী, পুত্র বা কোনো নিকট আত্মীয় হারিয়ে অনেক মেয়েই প্রতিশোধ নিতে চান যুদ্ধে যোগ দিয়ে৷ চেচনিয়ার যুদ্ধে তথাকথিত ‘কৃষ্ণ বিধবাদের' কথা শোনা যায়৷ সেখানে রুশ সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধে নিহতদের বিধবা স্ত্রীদের অনেকেই আত্মঘাতী হামলায় জড়িয়ে পড়েন৷

আবার অনেক মেয়ে মনে করেন ‘কাফের' বা বিধর্মীদের বিরুদ্ধে ইসলামের জন্য লড়লে পাপ মোচন বা গুণাহ মাফ হবে৷

দায়িত্ব সবারই

সংবিধান সুরক্ষা দপ্তরের মতে, জিহাদ থেকে জার্মানিতে ফিরে আসা নারী পুরুষ বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারেন৷

তাঁরা প্রচণ্ড ভাবাদর্শ তাড়িত, সম্ভবত ট্রমার শিকারও৷ তাই জার্মানিতে সহিংস হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা অসম্ভব নয় তাঁদের পক্ষে৷ তাই জার্মান মেয়েদের ইসলামি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ব্যাপারটি ইদানীং জনসমক্ষে তুলে ধরা হচ্ছে৷ জঙ্গিবাদ বিশেষজ্ঞ শ্মিট বলেন, ‘‘তাদের তরফ থেকে আসা ঝুঁকিটা একেবারে কম নয়৷ এ জন্যই ‘ফেডারেল সংবিধান সুরক্ষা দপ্তর' অর্থাৎ জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এই ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়৷''

জিহাদ থেকে ফিরে আসা মানুষদের খুঁজে বের করে তাঁদের অপরাধকর্ম তথা চরমপন্থা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করাটাই হবে আগামী বছরগুলিতে জার্মানির জন্য একটা বড় কাজ৷ এ ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বন্ধুবান্ধব, সমাজকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষাকারীদের৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়