1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জিহাদিদের ফাঁদে পা দিলে চলবে না

সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলামিক স্টেট বা আইএস সম্পর্কে পশ্চিমা জগতের আরও ভালো কৌশলের প্রয়োজন রয়েছে৷ তাছাড়া কোনো অবস্থায় নিজস্ব ভাবাদর্শ বিসর্জন দেওয়া উচিত হবে না বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের টর্স্টেন বেনার৷

গত রবিবার স্বঘোষিত ‘ইসলামিক স্টেট' সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরও এক পণবন্দির শিরশ্ছেদের ভিডিও প্রকাশ করেছে৷ এবার তাদের শিকার এক মার্কিন উন্নয়ন সাহায্য কর্মী৷ কয়েক মিনিটের মধ্যে খবরটি পশ্চিমা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল৷ সিএনএন-এর মতো সংস্থায় তা হয়ে উঠলো ‘ব্রেকিং নিউজ'৷ ডয়চে ভেলে থেকে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর শিরোনামে স্থান পেল খবরটি৷ এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, আইএস-এর এমন সচতুর জনসংযোগের চালের মুখে এটাই সঠিক আচরণ কি না৷ শিরশ্ছেদ যতই ভয়ংকর ঘটনা হোক না কেন, বিশ্ব রাজনীতির খবরের তালিকার শীর্ষে তা শোভা পায় না৷ একটি হত্যার ঘটনা ইরাক ও সিরিয়ার পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আনে না, যেখানে আইএস তার খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়৷ আরও মারাত্মক বিষয় হলো, শিরশ্ছেদের প্রতিটি ঘটনাকে সংবাদ শিরোনামে স্থান দিয়ে আমরা আইএস-এর জনসংযোগ কৌশলের ফাঁদে পা দিচ্ছি৷

প্রতিশোধ, খ্যাতি ও প্রতিক্রিয়া

আয়ারল্যান্ডের গবেষক লুইজ রিচার্ডসন-এর মতে, যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মতো আইএস-ও তিনটি বিষয় নিয়ে ব্যস্ত – প্রতিশোধ, খ্যাতি ও প্রতিক্রিয়া৷ প্রতিশোধ নেবার এক্তিয়ার তাদের নিজেদের হাতেই রয়েছে৷ তবে খ্যাতি ও প্রতিক্রিয়ার উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না৷ তাহলে আমরা কেন শিরশ্ছেদের ঘটনা ফলাও করে তুলে ধরে আইএস-এর জন্য বিনা খরচে বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করি?

Thorsten Benner GPPi Global Public Policy Institute Porträt

ডয়চে ভেলের সম্পাদক টর্স্টেন বেনার

পশ্চিমা বিশ্বের সংবাদ মাধ্যম যদি ভবিষ্যতে শিরশ্ছেদের ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব না দেবার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আইএস-এর ‘পাবলিক রিলেশনস'-এর চাল ভেস্তে যাবে৷

এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া৷ দূর্ভাগ্যবশত কিছু পশ্চিমা দেশ এ ক্ষেত্রে এমন সব পরামর্শ নিয়ে ভুল পথে এগোচ্ছে, যাতে হিতে বিপরীত হয়৷ যেমন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইন্টারনেটকে জিহাদিদের এক ধরনের ‘ওয়াইল্ড ওয়েস্ট' বলে মনে করেন৷ তাই ইন্টারনেটের উপর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দেখতে চান তিনি৷ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘‘ইন্টারনেটকে বল্গাহীন শাসনহীন এলাকা হতে দেওয়া চলবে না৷'' ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউ-এর নতুন প্রধান রবার্ট হ্যানিগ্যান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ফেসবুক ও টুইটার সন্ত্রাসবাদীদের নতুন কন্ট্রোল রুম হয়ে উঠেছে৷ ক্যামেরন আর মনে করেন, সেন্সরশিপ চালিয়ে ইন্টারনেট থেকে চরমপন্থি কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলা কোম্পানিগুলির ‘সামাজিক দায়িত্ব' হওয়া উচিত৷

তথ্য সংগ্রহের কাজে সোশাল মিডিয়া

তাঁরা সবাই ভুলে যাচ্ছেন, যে সেই একই সোশাল মিডিয়া ঘেঁটেই সন্ত্রাসবাদীদের সম্পর্কে অনেক তথ্য সংগ্রহ করা যায়৷ জেরেমি শাপিরো ও ড্যান বাইম্যান নামের দুই মার্কিন বিশেষজ্ঞ তা স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছেন৷ গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কমপক্ষে জিহাদিদের ‘রিক্রুটমেন্ট'-এর গুরুত্বপূর্ণ পথগুলি সম্পর্কে জানা উচিত৷ আরও এক ধাপ এগিয়ে তারা বর্তমান ও সম্ভাব্য জিহাদিদের সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ভুল তথ্য সরবরাহ পারে৷ সেন্সরের থাবা আরও প্রসারিত করলে সে সব কিছুই সম্ভব হবে না৷

আরও মারাত্মক পরামর্শ এসেছে ব্রিটিশ জিসিএইচকিউ ও মার্কিন এফবিআই-এর শীর্ষ কর্তাদের কাছ থেকে৷ তাঁরা সরকার, গোয়েন্দা সংস্থা ও বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির মধ্যে আরও নিবিড় সহযোগিতার ডাক দিয়েছেন৷ জিসিএইচকিউ প্রধান হ্যানিগ্যান টেক কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদীরা তাদের পরিষেবার অপব্যবহার করছে৷ অথচ তারা এ কথা গোপন করছে৷ তাঁর ক্রোধের অন্যতম কারণ এনক্রিপশন টুলস, যার ফলে সরাসরি আড়িপাতা কঠিন হয়ে ওঠে৷ হ্যানিগ্যান বলেন, অতীতে তথ্যের আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এমন এনক্রিপশন বা পরিচয় গোপন করার প্রযুক্তি হাতে গোনা কিছু দক্ষ অপরাধী ও রাষ্ট্রের হাতে সীমাবদ্ধ ছিলো৷ আজ মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলি প্রায় সব ক্ষেত্রেই এনক্রিপশন প্রয়োগ করছে৷ ফলে তা সবার নাগালে চলে এসেছে৷ এফবিআই প্রধান জেমস বি কমি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘‘এনক্রিপশন আমাদের সবাইকে অত্যন্ত অন্ধকার এক জগতে নিয়ে যাবে৷'' হ্যানিগ্যান ও কমি চান, এনক্রিপশন হয় পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক, অথবা তার চাবি খোলার প্রযুক্তি গোয়েন্দা সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়া হোক৷ অথচ নজরদারি এড়াতে এনক্রিপশন আজ সাংবাদিক, সরকার বিরোধী ও নাগরিকদের একমাত্র হাতিয়ার৷

নিজস্ব আদর্শ জলাঞ্জলি দিলে চলবে না

আইএস ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বাস্তব চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে, তার প্রেক্ষাপটে এই সব হাতিয়ার নিষিদ্ধ করা বা সেগুলি ভোঁতা করে দেওয়া হবে এক ভুল প্রতিক্রিয়া৷ নাইন ইলেভেনের পর আমরা যেমন হ্যানিগ্যান ও কমি-র মতো মানুষদের একপেশে অ্যাজেন্ডার জন্য ব্ল্যাংক চেক লিখে দিয়েছিলাম, এবার সেটা করা উচিত হবে না৷ মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পশ্চিমা গণতন্ত্রগুলি নিজের পায়ে কুড়ুল মারতে পারে না৷ ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম'-এর এক দশক পর এটাই মূল শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন