1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জিএসপি স্থগিত হওয়াতে পোশাক শিল্পে উদ্বেগ, উত্‍কন্ঠা

পর্যাপ্ত সময় পেয়েও সুযোগ কাজে লাগায়নি বাংলাদেশ৷ যার পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের বজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক সুবিধা (জিএসপি) স্থগিত৷ এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে৷

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কোনো জিএসপি সুবিধা পায় না৷ তবে বাংলাদেশের এই তৈরি পোশাকই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির শীর্ষে৷ এরপরও পোশাক কারখানায় কাজের পরিবেশ এবং শ্রমিক স্বার্থ সুরক্ষার কোনো উন্নয়ন না ঘটায়, ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করলো৷ শুধু তাই নয়, তাদের কাঙ্খিত মান অর্জন না করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে৷

কেউ কেউ মনে করতে পারেন তাজরীন ফ্যাশানস এবং রানা প্লাজার ঘটনায় মোট ১,৩৪২ জন শ্রমিকের মৃত্যুর কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত৷ হয়ত এই মর্মান্তিক ঘটনা সিদ্ধান্ত ত্বরান্বিত করেছে৷ আসলে কিন্তু জিএসপি সুবিধা বাতিলের প্রশ্ন ওঠে পাঁচ বছর আগে ২০০৭ সালে৷

Bangladesch Rana Plaza Bergungsarbeiten Archiv 24.04.2013

শ্রমিক স্বার্থ সুরক্ষার কোনো উন্নয়ন না ঘটায় ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে

তবে তখনও ইস্যু ছিল পোশাক কারাখানায় কাজের পরিবেশ, শ্রমিক স্বার্থ এবং শ্রমিক নিরপত্তা৷ সিপিডি-র অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ সরকার এবং পোশাক প্রস্তুতকারকরা পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেননি৷ তারা যদি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতেন, তাহলে জিএসপি স্থগিতের মতো সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হতো না বাংলাদেশকে৷'' তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন এবং শ্রম আইনের ব্যাপারে ভালো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও, কারখানার পরিবেশ, শ্রমিকের নিরপত্তার ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি গত পাঁচ বছরে৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ৯৭ ভাগ পণ্য ১৯৭৬ সাল থেকে জিএসপি সুবিধা পেলেও তৈরি পোশাক পায় না৷ অথচ যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক৷ গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে মোট রপ্তানি ছিল ৪.৯১ মার্কিন ডলার৷ জিএসপি সুবিধায় রপ্তানি হয় মাত্র ২৫ মিলিয়ন ডলারের পন্য৷ তাই আর্থিক দিক দিয়ে জিএসপি সুবিধা মাত্র ০.৫৪ ভাগ ৷ কিন্তু ড. মোয়াজ্জেম বলেন, এই সুবিধা পাওয়া পণ্যের তালিকায় প্লাস্টিকসহ অপ্রচলিত পণ্য রয়েছে, যারা এখন প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে৷ এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি তৈরি পোশাক নেয়

বাংলাদেশ থেকে৷ এখন সেখানকার ক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তুললে, তা হবে বিপদের কারণ৷ একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে বিচেনায় নেয়, তাহলে সেখানে পোশাক রপ্তানিতেও নেতবিাচক প্রভাব পড়বে৷ প্রসঙ্গত, মোট পোশাকের ৬০ ভাগ যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে৷

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সহ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে তারা বিস্মিত হয়েছেন৷ তারা আশা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আরো সময় দেবে৷ তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বাজারে নেবিাচক প্রভাব পড়বে৷ বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক নিয়ে এক ধরনের নেতিবাচক ‘ইমেজ' তৈরি করবে সেখানকার নাগরিক এবং ক্রেতাদের মধ্যে৷

সিদ্দিকুর রহমানের কথায়, এক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ নারী৷ যুক্তরাষ্ট্রের এই দিকটি বিবেচনা করা উচিত ছিল৷ তাঁর মতে, সরকার এবং পোশাক কারখানার মালিকরা ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কাজ শুরু করেছে৷ এর মধ্যে ট্রেউ ইউনিয়ন আইন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে৷ গঠন করা হয়েছে শ্রমিদের বেতন বাড়াতে নতুন মজুরি বোর্ড৷ তবে তিনি স্বীকার করেন যে, কারখানার পরিবেশ এবং শ্রমিদের নিরাপত্তার বিষয়ে এখনও তারা সন্তোষজনক মান অর্জন করতে পারেননি, যদিও ইতিমধ্যেই সে ব্যাপারে কাজ শুরু হয়ে গেছে৷

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সিরজুল ইসলাম রনি৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, এর ফলে শ্রমিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ তাঁর দাবি, সব বিষয়ে উন্নতি না হলেও ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার ও বেতনের ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটেছে৷ তবে কারখানা ভবন, অগ্নি নিরাপত্তা, শ্রমিক নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে আরো অনেক কাজ করতে হবে৷

বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ৷ দেশটির রপ্তানি আয় প্রধানত এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল৷ চার হাজারেরও বেশি পোশাক কারাখানায় কাজ করেন ৪০ লাখ শ্রমিক, যাদের প্রায় সবাই নারী ৷ তাই এই শিল্পে কোনো ধরনের বিপর্যয় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে৷ ড. খন্দকার গোলাম মেয়াজ্জেম মনে করেন, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে জন্য বাংলাদেশকে তৈরি পোশাক শিল্পে কাজের পরিবেশ, শ্রমিক নিরপত্তা এবং শ্রমিক অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে৷ সিদ্দিকুর রহমান অবশ্য জানান যে, আন্তর্জাতিক মান অর্জন করে এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে সক্ষম হবেন তারা৷

এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জিএসপি স্থগিতের ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছে৷ বলেছে, এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিকাশমান বাণিজ্য নতুন করে বাধার মুখে পড়তে পারে৷ বিবৃতিতে জিএসপি স্থগিতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের কিছু নাগরিকের প্রচারণাকেই মূলত দায়ী করা হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন