1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জাহানারা ইমামকে মনে রাখতেই হবে: সেলিনা হোসেন

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম৷ এভাবেই তাঁর পরিচিতি সারা বাংলাদেশ জুড়ে৷ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে হারিয়েছেন ছেলেকে৷ জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেও দমে যাননি তিনি৷ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মুক্তি যুদ্ধের চেতনায় অনড় ছিলেন৷

default

মুক্তিযুদ্ধের নান স্মৃতি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন জাহানারা ইমাম

এভাবেই তাঁর পরিচিতি সারা বাংলাদেশ জুড়ে৷ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে হারিয়েছেন ছেলেকে৷ জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেও দমে যাননি তিনি৷ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মুক্তি যুদ্ধের চেতনায় অনড় ছিলেন৷

১৯২৯ সালের ৩ মে জন্ম গ্রহণ করেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম৷ রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্ম হলেও, উচ্চ শিক্ষালাভে কোন ধরণের বাধার মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁকে৷ ১৯৪২ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৪৭ সালে বি এ পাশ করেন তিনি৷ এরপরে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা৷ ১৯৪৮ সালে বিয়ে করেন প্রকৌশলি শরিফুল আলম ইমাম আহমেদকে৷ এরপরেও থেমে থাকেনি তাঁর শিক্ষা জীবন৷ ১৯৬০ সালে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বি এড করেন তিনি৷ উচ্চতর শিক্ষার জন্যে ১৯৬৪ সালে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফুলব্রাইট স্কলারশিপ দেওয়া হয়৷ সেখান থেকে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ সম্পন্ন করেন তিনি ১৯৬৫ সালে৷

১৯৭১ সাল৷ ২৫-শে মার্চ-এর সেই কালো রাতের পরে, বহু তরুণ যোগ দেন মুক্তি যুদ্ধে৷ জাহানারা ইমামের ছেলে রুমিও মুক্তি যুদ্ধে যোগ দেন৷ মা হিসেবে জাহানারা ইমামও সবসময়ে ছেলের অমঙ্গল আশঙ্কায় অস্থির থাকতেন৷ নয়মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলার সময়ে জাহানারা ইমাম ডায়েরি লেখেন৷ যেখানে তিনি যুদ্ধ সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব অনুভূতি তুলে ধরেন৷ কিন্তু রুমি ধরা পড়েন৷ আর ফিরে আসেননি মায়ের কাছে৷ উল্টো পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ধরে নিয়ে যায়৷ ফিরে আসেন যখন, তখন তিনি এক ভগ্ন মানুষ৷ স্বামীর অকাল মৃত্যু দেখতে হয় জাহানারা ইমামকে৷ প্রাণপ্রিয় পুত্র হারানোর শোক সইতে হয় তাঁকে৷

১৯৮৬ সালে জাহানারা ইমাম ‘‘একাত্তরের দিনগুলি'' শিরোনামে তাঁর ডায়রিটি প্রকাশ করেন৷ তাতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশের ভেতরে নিষ্ঠুর দলন, দমন ও সন্ত্রাসের যে ছবি এঁকেছেন জাহানারা ইমাম, সেটা তাঁকে রাতারাতি বিখ্যাত করে ফেলে৷ ১৯৮১ সালে জাহানারা ইমামের মুখে ক্যান্সার ধরা পরে৷ কিন্তু কোন কিছুই তাঁর কর্মকাণ্ডকে থামিয়ে রাখতে পারেনি৷ তিনি গল্প, উপন্যাস এবং ডায়েরি লেখা অব্যাহত রাখেন৷

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ অকুতোভয় এই নারী ১৯৯২ সালে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি গঠনে সক্রিয় ভূমিক রাখেন৷ এই চেতনাকে সমুন্নত রাখাই হয়ে ওটে তাঁর জীবনের বীজমন্ত্র৷ তাঁরই নেতৃত্বে তৈরি হয় গণ-আদালত৷ তাঁর সঙ্গে যোগ দেন আরো ২৪ জন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী৷ এ ছিল আসলে এক বড় ধরণের প্রতিবাদ৷ কিন্তু জাহানারা ইমামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়৷ মৃত্যুর আগেও তা প্রত্যাহার করা হয়নি৷ ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন প্রয়াত হন এই নারী৷ রেখে গেছেন মুক্তি যুদ্ধের চেতনার এক অম্লান উত্তরাধিকার৷

শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য লেখক সেলিনা হোসেন৷ তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, স্বাধীন বাংলাদেশে দক্ষিণপন্থী মৌলবাদী অপশক্তির দাপট উপেক্ষা করে জাহানারা ইমাম যেভাবে লড়াই চালিয়েছেন, এই শক্তিটা তিনি কোথা থেকে আহরণ করেন? তিনি বললেন, ‘‘শহীদ জননী জাহানারা ইমাম মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই স্বাধীনতার পক্ষে এক প্রবল শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন৷ এই শক্তি তিনি নিজের ভেতরের জেদ এবং প্রজ্ঞা থেকে আহরণ করেছিলেন৷ জয় করেছিলেন৷ তাঁর ভেতরের সাহস এবং প্রজ্ঞা থেকেই সব কিছুকে উপেক্ষা করার বাসনা তাঁর মধ্যে ছিল, মৌলবাদী শক্তি তাঁর কাছে কোন ব্যাপার ছিল না৷''

উত্তরকালের প্রজন্ম জাহানারা ইমামকে কতটুকু মনে রাখবে? এই প্রশ্নের জবাবে লেখক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘‘জাহানারা ইমামকে মনে রাখতেই হবে৷ তিনি যে কারণে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন, সেই কারণগুলো যদি বহমান থাকে, যে মৌলবাদী শক্তি বারবার উত্থান ঘটিয়ে এই দেশের জনজীবনকে ব্যহত করে এবং এই দেশের জনজীবনে যে প্রবাহমান ধারা, যে সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট, যে মানবিক বৈশিষ্ট, তাকে প্রতিহত করে, তবে উত্তরকালের জনগোষ্ঠীর জাহানারা ইমামকে মনে রাখতেই হবে৷ মনে না রেখে উত্তরকালের জনগোষ্ঠীর কোন উপায় নেই৷''

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়