1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

জার্মান সংসদ নির্বাচনে অভিবাসী ভোটারদের অবস্থান

জার্মানির আগামী সংসদীয় নির্বাচনে বিদেশি বংশোদ্ভূত ভোটারের সংখ্যা ৫০ লক্ষেরও বেশি হবে৷ তাঁরা কাকে ভোট দেবেন, সেটা নির্ভর করে অনেকটা তাঁদের পূর্বপুরুষরা কোন দেশ থেকে এসেছেন তার ওপর৷

হুয়ান ডিয়াস কিউবান অ্যামেরিকান৷ তাঁর মা-বাবা ফিদেল কাস্ত্রোর শাসনামলে কিউবা থেকে অ্যামেরিকায় পালিয়ে যান৷ প্রেমের টানে এখন বার্লিনে থিতু হয়েছেন হুয়ান৷ সাত বছর ধরে জার্মান নাগরিক তিনি৷ ‘জটিল এক পরিচিতি'৷ ‘‘আমি এখানকার পাসপোর্ট নিয়েছি, কেননা চ্যান্সেলর ও সংসদীয় নির্বাচনের ভোটাভুটিতে আমিও অংশ নিতে চাই৷'' জানান হুয়ান৷

সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন না

ফেডারেল পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০১১ সালে জার্মানিতে বসবাসরত বিদেশি বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ৷ এর মধ্যে প্রায় এক তৃতীংয়াশ আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন৷ ২০১১ সালে এক লক্ষ অভিবাসী জার্মান নাগরিকত্ব পেয়েছেন৷ তাই ভবিষ্যতে অভিবাসী ভোটারের সংখ্যা আরো বাড়বে৷ তবে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকলেই যে সবাই ভোট দেবেন এমন কোনো কথা নেই৷ অভিবাসন সংক্রান্ত ফেডারেল দপ্তরের ২০১২ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে ভোট দেওয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম৷ ২০০৯ সালের নির্বাচনে ৭৩.৩ শতাংশ অভিবাসী ভোটার ভোট দিয়েছিলেন৷ অন্য ভোটারদের মধ্যে এই হার ছিল ৮১. ৫ শতাংশ৷

ভোট না দেওয়া? কিউবান অ্যামেরিকান জার্মান হুয়ান ডিয়াসের কাছে এই প্রশ্নই ওঠে না৷ ‘‘পোস্টকার্ডে ভোট দেওয়ার খবরটা এলে মনে হয় চমত্কার৷'' বলেন হুয়ান৷ ভোট দেওয়ার অধিকার এক মৌলিক অধিকার৷ তা কোনো ভাবেই হেলায় হারাতে চান না তিনি৷

অভিবাসীরা সাধারণত বড় বড় দলকে ভোট দেন

হুয়ানের মতো ভোটাররা সাধারণত এসপিডি ও সিডিইউ-এর মতো বড় বড় দলগুলিকে ভোট দিয়ে থাকেন৷ জার্মান অর্থনৈতিক গবেষণা ইন্সটিটউটের সমাজবিজ্ঞানী ইনগ্রিড টুচি জানান, অভিবাসীদের অধিকাংশই দুই বড় পার্টিকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন৷ তবে ৫০ ও ৬০-এর দশকে দক্ষিণ ইউরোপ, সাবেক যুগোস্লাভিয়া ও তুরস্ক থেকে তথাকথিত অতিথি শ্রমিক হিসাবে যারা জার্মানিতে এসেছিলেন, তারা সাধারণত সামাজিক গণতন্ত্রীদের ভোট দিয়ে থাকেন৷ আর শীতল যুদ্ধের পর প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে জার্মান বংশোদ্ভূত যে সব মানুষ জার্মানিতে এসেছেন, তাদের মধ্যে সিডিইউ ও সিএসইউ-এর মতো রক্ষণশীল দলগুলিকে ভোট দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়৷

সিডিইউ জার্মান বংশোদ্ভূতদের অভিবাসন ও তাদের এই সমাজে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে বিশেষভাবে তৎপর হয়েছিল৷ অনেকটা সেই কারণেই এই রাজনৈতিক দলটির প্রতি একটা আনুগত্য অনুভব করে জার্মান বংশোদ্ভূত অভিবাসীরা৷

দূরত্ব গড়ে ওঠে দুই পক্ষেই

অন্যদিকে খ্রিষ্টীয় ইউনিয়নের কিছু রাজনীতিকের মন্তব্য ও আচরণে অতিথি শ্রমিকদের প্রতি অবজ্ঞাসূচক মনোভাব প্রকাশ পায়৷ বলেন ইনগ্রিড টুসি৷ যার ফলে দুই পক্ষেই একটা দূরত্ব গড়ে ওঠে৷

সমাজবিজ্ঞানী টুচির গবেষণায় জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি আনুগত্যের ব্যাপারে অভিবাসীদের ধর্ম, শিক্ষা, কিংবা পেশার ভূমিকা খুব একটা বড় নয়৷ অবশ্য তাঁর মতে, এ বিষয়ে আরো গবেষণা হওয়া প্রয়োজন৷ কেননা তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে দেখা গেছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের অভিবাসীদের ১৮ শতাংশ সবুজ দলের প্রতি আকৃষ্ট৷ আর ৪০ শতাংশ এসপিডি ও সিডিইউকে পছন্দ করে৷ এদিক দিয়ে যারা বিদেশি বংশোদ্ভূত নয়, তাদের সঙ্গে খুব একটা পার্থক্য নেই তরুণ প্রজন্মের অভিবাসীদের৷ জানান গবেষক টুচি৷

হুয়ান ডিয়াস সেপ্টেম্বরে কাকে ভোট দেবেন, সেটা এখনও স্থির করেননি৷ অতীতে একজন সিডিইউ-এর রাজনীতিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন তিনি৷ সবুজ দলের বেশ কিছু বৈঠকে অংশ নিয়েছেন৷ বার্লিনে প্রায় সব পার্টির রাজনৈতিক আলাপ আলোচনায় যোগ দিয়েছেন৷ তাই বলা যায় সব দলের সঙ্গেই তাঁর সম্পৃক্তি রয়েছে৷

আগে জার্মানরা তাঁকে বলতো, ‘‘তুমি তো বিদেশি৷ তোমার কোনো কিছু বলার অধিকার নেই৷'' এই কথা তাঁকে ক্ষুব্ধ করতো৷ আর আজ কাগজে কলমেই এই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ হাস্যোজ্জ্বল কন্ঠে জানান হুয়ান ডিয়াস৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন