1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মান শিক্ষকের সততার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ

মা, মাতৃভাষা আর মাতৃভূমি যে কতোটা আপন তা এ তিনের কোন একটি থেকে দূরে না গেলে বোঝা কঠিন৷ অথচ এই দূর প্রবাসে একান্ত এই তিন আপনকেই ছেড়ে থাকতে হয়৷ ফলে এই তিন আপনের প্রতি এক নিগূঢ় টান যেন আরো বেশি করে উদ্বেলিত করে৷

এ তো শুধু নিজের মা, মাতৃভাষা আর মাতৃভূমির কথা বললাম৷ কিন্তু জার্মান জাতি তাদের নিজেদের ভাষাকে যে কতোটা ভালোবাসে তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন৷ আমাদের জনদরদী রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে শিক্ষিত পেশাজীবীরা বাংলার সাথে ইংরেজি জুড়ে দেওয়া ছাড়া তো একটি বাক্যও গঠন করতে পারবেন কি না সন্দেহ রয়েছে৷ অথচ জার্মান জাতির সেই শীর্ষ ব্যক্তিটি থেকে শুরু করে ভবঘুরে পর্যন্ত সবার কাছে প্রথম এবং প্রধান মূল্যবোধ হলো একেবারে খাঁটি জার্মান ভাষায় কথা বলতে হবে৷ আর সেই জার্মান ভাষার সাথে একটু-আধটুও বিদেশি ভাষা যোগ করা চলবে না, জার্মান ভাষাবিদদের ঐকমত্যে স্বীকৃত শব্দ ছাড়া৷ তবে সম্প্রতি জার্মান ভাষাতেও কিছুটা বিদেশি শব্দের অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ আর তা নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে৷

যাহোক, ইংরেজি, ফরাসি কিংবা স্পেনীয় ভাষা কেউ জানলো কি না তাতে জার্মানদের কিছুই আসে যায় না৷ তবে মাতৃভাষাকে পুরোপুরি বক্ষে ধারণ করে, লালন করে তারপর আরো দুয়েকটি ভাষা শেখার চেষ্টা তাদের অনেকেরই রয়েছে৷

ভাষা নিয়ে এতো কথা বলার পেছনে আসলে অন্য কারণ রয়েছে৷ সেটি হলো, মাতৃভাষার প্রতি এতোটা ভক্তি থেকেই বুঝি ব্যাপারটা এখন এতোদূর গড়িয়েছে যে, জার্মানিতে কেউ বাস করতে আসবে আর জার্মান ভাষা জানবে না তা যেন হতেই পারে না৷ বাজার-ঘাট, পথ-প্রান্তর, দপ্তর-আদালত সব জায়গায়, বলতে গেলে, একমাত্র মাধ্যম জার্মান ভাষা৷ এমনকি দীর্ঘ দীর্ঘ দলিল, চুক্তিনামা কিংবা বিভিন্ন আবেদন পত্র সবই জার্মান ভাষায়৷ এগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ দুয়েকটির হয়তো অন্য ভাষায় অনুবাদ জুটতে পারে বহু কষ্টে৷ ফলে একটু দীর্ঘ সময় জার্মানিতে থাকতে হলে কারো ভাষা না শিখে উপায় নেই৷ তাই তাদের ভাষা শেখার বিদ্যালয় কিংবা বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে প্রায় সর্বত্রই৷

Ami Woo aus Südkorea liest am Dienstag (13.08.2002) in der Universität in Essen in einem deutschen Wörterbuch. Rund 70 Studenten aus verschiedenen Ländern nehmen an einem Spezialkurs Germanistik der Universität Essen teil. Seit dem ersten Kurs vor 14 Jahren haben sich in Essen mehr als 2000 Studenten aus aller Welt mit der deutschen Sprache beschäftigt. dpa/lnw (zu lnw-KORR: Was ist Lindenstraße? Wie Ausländer in Essen Deutschlehrer werden vom 16.08.2002)

জার্মান ভাষার অভিধান নিয়ে এক চীনা নাগরিক

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জার্মানির প্রতিনিধিত্বকারী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ডয়চে ভেলেতে অর্ধ শতাধিক দেশের মানুষের সমাগম৷ তাই সেখানেও চালু আছে বিনা পয়সায় জার্মান ভাষা শিক্ষার একাধিক কোর্স৷ এছাড়া ডয়চে ভেলের পাশেই রয়েছে সুউচ্চ দু'টি ভবনে জাতিসংঘ এবং জার্মান ডাক সংস্থার কার্যালয়৷ তাই এই এলাকায় বিদেশি মানুষের আনাগোনা একটু বেশিই৷ তাই এখানেই রয়েছে আরো একটি বেসরকারি ভাষা শেখার প্রতিষ্ঠান৷ ফলে জার্মানিতে এসেই প্রথম মাস থেকেই জার্মান ভাষা শেখার প্রক্রিয়ার সাথে নিজেকে জুড়ে নিতে হয়েছে৷ ফলে ইতিমধ্যে জার্মানির সাধারণ মানুষের মধ্যে তো বটেই শিক্ষকদের মাঝেও যে সততা চোখে পড়েছে তা অভাবনীয়৷

জার্মানদের সময়জ্ঞানের এমনিতেই বিশেষ খ্যাতি রয়েছে৷ কিন্তু মহান পেশায় জড়িত শিক্ষকদের সময়জ্ঞান ও সতর্কতার মাত্রাটা বোধ হয় আরো এক ধাপ উপরে৷ কোন শিক্ষককেই কখনও এক মিনিট পরে আসতে দেখা যায় না৷ বরং পাঁচ-দশ মিনিট আগে এসে তাঁরা পড়ানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করেন৷

এরকমই মহান এবং খুবই দক্ষ একজন শিক্ষকের একটি ঘটনা আমাদের প্রচণ্ড আলোড়িত করে৷ ডয়চে ভেলেতে আমাদের একেকটি ভাষা শেখার কোর্স চলে দিনে দেড় ঘণ্টা করে৷ আমাদের সেই মহান শিক্ষক সপ্তাহে একদিন পড়াতেন৷ কোন এক জরুরি প্রয়োজনে একদিন জানালেন সেদিন তিনি আমাদের এক ঘণ্টা পড়াবেন৷ আমরাও খুশি যে, ভালই হলো একটু আগেই ছুটি পেলাম আজ৷ পরের সপ্তাহেও তিনি জানালেন, সেদিনও এক ঘণ্টা পড়াবেন৷ কিন্তু তৃতীয় সপ্তাহে এসেও তিনি একইকথা বললেন৷ আমরা একটু আশ্চর্য হলাম যে, তিনি কি ফাঁকি দেওয়া শুরু করলেন? কিন্তু না৷ তিনি নিজেই তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য খুলে বললেন আসল হিসাব৷

তাঁর যুক্তি হচ্ছে, তিনি একদিন জরুরি প্রয়োজনে আধা ঘণ্টা কম পড়িয়েছেন৷ তাই তিনি তিন দিনই আধা ঘণ্টা করে কম পড়িয়ে তিন দিনে মোট তিন ঘণ্টা পড়িয়েছেন৷ যাতে করে এই তিন ঘণ্টার জন্য তিনি দেড় ঘণ্টা করে দুই দিন পড়ানোর সম্মানি ডয়চে ভেলের কাছ থেকে নিতে পারেন৷ অর্থাৎ তিনি তিন দিনই পড়িয়েছেন কিন্তু টাকা নিবেন দুই দিনের৷ কারণ তিন দিনে তিনি মোট দেড় ঘণ্টা অর্থাৎ একদিনের পড়া কম পড়িয়েছেন৷ তাঁর এই হিসাব শুনে আমরা তো সবাই যেন আকাশ থেকে পড়লাম৷ আর তখনই বুঝলাম, কী করে এই জাতির পক্ষে এতো অল্প সময়ে ইউরোপের সবচেয়ে ধনী দেশে এবং একটি সভ্য ও উন্নত দেশে পরিণত হওয়া সম্ভব হয়েছে৷ তখনই বুঝলাম, সত্যিই একজন শিক্ষক কতোটা মহান হতে পারেন, যদি তাঁর মধ্যে সততা থাকে৷

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই
সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়