1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মান পত্রিকায় দক্ষিণ এশিয়া

ভারতে উপনিবেশ যুগের ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন অ্যাক্ট ১৮৯৪-র বলে শুধু সরকারি নয়, বড় বড় বেসরকারি প্রকল্পের জন্যও জমি গ্রহণ করতে সক্ষম সরকার৷ এই বিতর্কিত প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বাড়ছে৷

default

ফাইল ফটো

সুইজারল্যান্ডের জুরিখ থেকে প্রকাশিত জার্মানভাষী দৈনিক নয় স্যুরশার সাইটুং রাষ্ট্রের এই জমিগ্রহণের প্রথা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে লিখেছে:

পশ্চিমের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জমি নেয়ার ওপর খুবই বড় রকমের সীমা আরোপ করা আছে৷ তাছাড়া অধিকাংশ রাষ্ট্রেই আইন করে জমি অধিগ্রহণের বিনিময়ে খুবই ভাল ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ কিন্তু ভারতের ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন অ্যাক্ট সম্পর্কে সেকথা বলা যাবেনা৷ রাষ্ট্র কোন দামে মালিকের কাছ থেকে জমি কিনবে সেদাম নিরপেক্ষ কেউ ঠিক করেনা, সেদাম ধার্য করে রাষ্ট্র নিজেই৷ ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুবই কম দাম পায় জমির মালিক৷ তাছাড়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির কারণে প্রাপ্য টাকার একটা বড় অংশ অদৃশ্য হয়ে যায় সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক আর আমলাদের পকেটে৷ কার্যত জমির বিনিময়ে প্রায় কিছুই পায়না অনেকে৷ শেষ পর্যন্ত দিনমজুর হিসেবে তারা জায়গা করে নেয় বড় বড় শহরের বস্তি এলাকায়৷

বিগত দশকগুলোতে দেশের শিল্পায়নের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন৷ জমি অধিগ্রহণের বিবেচনাহীন প্রথা সমাজ অর্থনীতির জন্য গুরুতর ফল বয়ে এনেছে বলে মনে করে নয় স্যুরশার সাইটুং৷ পত্রিকা আরও লিখছে:

এই প্রথার কারণে বিশালায়তন অর্থনৈতিক সব প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুধু বাড়ছেই না, নক্সালপন্থীরাও তা থেকে ফায়দা তুলছে৷ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ ক্রমশই মাওবাদী বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বর্ধিত সংখ্যায়, যে-বিদ্রোহীরা হিংসার পথে - তাদের কথায় - ‘‘শোষক সরকার''কে উৎখাত করতে চায়৷ ‘‘ ন্যায্য এক জমি অধিগ্রণ নীতির মাধ্যমে নক্সালবাদের সমস্যাটা পুরোপুরি মেটানো যাবেনা ঠিকই, তবে তা সুস্পষ্টভাবে কমানো যেতে পারে'' - এ কথা বলেছেন বহু বছর ধরে আদিবাসী মানুষদের অধিকারের সপক্ষে সক্রিয় ফয়সাল অনুরাগ৷ তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয় জনসাধারণের মূল্যে রাজনীতিকদের এতটা বিবেচনাহীনভাবে নিজেদের পকেট ভর্তি করা উচিৎ নয়৷ খনিশিল্পের বিভিন্ন প্রকল্প যদি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে পুরোপুরি দরিদ্রদশায় না ফেলে সেখানে কিছুট উন্নয়ন বয়ে আনতে পারে, তাহলে মাওবাদীদের প্রভাব অনেকটা কমে যাবে৷''

ভারত আর চীনে ক্রমবর্ধমান ইলেকট্রনিক ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ক্রমবর্ধমান বর্জ্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে মিউনিখ থেকে প্রকাশিত স্যুদডয়চে সাইটুং৷ অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠছে বাতিল বলে ফেলে দেয়া মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, প্রিন্টার বা ফ্রিজের পাহাড়৷ এই বর্জ্যের পরিমাণ আগামী দশ বছরে আরও বহু গুন বেড়ে যাবে৷ কিন্তু এই দেশগুলো বিপুল পরিমাণ এই ইলেকট্রো বর্জ্যের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেনি বলে মনে করে স্যুদডয়চে সাইটুং পত্রিকা৷

ভাষান্তর: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সম্পাদনা: আবদুস সাত্তার

সংশ্লিষ্ট বিষয়