1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জার্মান কমেডিয়ানের বিরুদ্ধে মামলা করলেন এর্দোয়ান

রেচেপ তাইয়েপ এর্দোয়ানের বিরুদ্ধে একটি ব্যঙ্গাত্মক কবিতায় নানা ধরনের অবমাননাকর ও মূলত যৌন ইঙ্গিত করে তুর্কি প্রেসিডেন্টের অপাত্র হয়েছেন জার্মান কমেডিয়ান ইয়ান ব্যোমারমান৷

গত ৩১শে মার্চ সরকারি জেডডিএফ টেলিভিশনের লেট-নাইট ‘‘নিও ম্যাগাজিন রয়াল'' অনুষ্ঠানে ছড়াটি পাঠ করেন ইয়ান ব্যোমারমান৷ দৃশ্যত লক্ষ্য ছিল, এর্দোয়ানের আমলে তুরস্কে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যেভাবে চাপের মুখে পড়েছে, তাকে ব্যঙ্গ করা৷ কিন্তু যে কারণেই হোক, ছড়ায় এর্দোয়ানের যৌন পছন্দ-অপছন্দকে পাশবিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা সে ছাগলদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কেই হোক আর ভেড়াদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কেই হোক৷ সেই সঙ্গে শিশুদের যৌন নির্যাতনের আভাসও বাদ পড়েনি৷ এগুলি যে সমালোচনা নয়, নিছক গালাগালি, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না৷ প্রশ্ন হলো, এই ধরনের গালাগালি কি স্যাটায়ার, অর্থাৎ ব্যঙ্গ, অথবা আর্ট, অর্থাৎ শিল্পের অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা যায়?

এর্দোয়ান স্পষ্টতই তা মনে করেন না৷ কাজেই ব্যোমারমান একজন ‘‘বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিকে অপমান'' করেছেন কিনা, আংকারা জার্মান সরকারকে তা খতিয়ে দেখবার জন্য সরকারিভাবে অনুরোধ করেছে৷ বিদেশি রাষ্ট্রের সরকারি প্রতিষ্ঠান বা প্রতিনিধিকে অপমান জার্মান আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে৷ ওদিকে এর্দোয়ান ব্যক্তি হিসেবে একজন জার্মান উকিলের মাধ্যমে জার্মানি মাইনৎস শহরের আদালতে একটি মামলা দাখিল করেছেন যে, ব্যোমারমান তাঁকে অপমান করেছেন৷ জেডডিএফ টেলিভিশনের মুখ্য কার্যালয় এই মাইনৎস শহরেই৷

টুইটার ব্যবহারকারীরা স্বভাবতই এ ধরনের একটি মুখরোচক বিষয়ের অপচয় করেননি: বিশেষ করে ছাগলদের সঙ্গে এর্দোয়ানের কাল্পনিক সম্পর্কটি ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের খোরাক জুটিয়েছে ও জুটিয়ে চলেছে, বিশেষ করে জার্মানিতে৷ একজন প্রশ্ন তুলেছেন, কেউ কি বেচারা ছাগলদের অনুভূতির কথা ভাবছে?

আরেকজন কল্পনা করেছেন, জার্মানিতে ছাগলদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ ইয়ান ব্যোমারমান-এর বিরুদ্ধে ছাগলদের অপমান করার অভিযোগে মামলা এনেছে!

অনেকেই হয়ত খেয়াল করছেন না যে, এর পিছনে একজন ব্যক্তিকে অকারণে গুরুতরভাবে অপমান করার পটভূমি রয়েছে, যা আপাতত দ্বিবিধভাবে বিচারসাপেক্ষ – মাইনৎস ও বার্লিনে, কেননা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে অপমান করার দায়ে ব্যোমারমানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে জার্মান সরকারকে এবার কোনো না কোনো সিদ্ধান্তে আসতে হবে৷

ডয়চে ভেলের সম্পাদক ক্রিস্টফ হাসেলবাখ মনে করেন যে, ব্যোমারমান তুর্কি প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ানের যে সমালোচনা করেছেন, তা অপ্রয়োজনীয় এবং আদৌ সাহসের পরিচায়ক নয়৷ বরং ব্যোমারমান শুধু আত্মপ্রচারের লোভেই তা করেছেন৷

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল পড়েছেন উভয়সংকটে, কেননা তাঁর উদ্বাস্তু নীতির একটা বড় খুঁটি হলেন এর্দোয়ান; অপরদিকে দেশের মানুষ বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়ে অতিমাত্রায় স্পর্শকাতর৷ কাজেই ম্যার্কেল মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি জার্মানিতে শিল্পীর স্বাধীনতাকে খুবই গুরুত্ব দেন৷ ‘‘সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের ব্যাপারে তুরস্ক একটা খুব বড় বোঝা বহন করছে, কিন্তু সে সবের সঙ্গে জার্মানির বুনিয়াদি মূল্যবোধের কোনো সম্পর্কে নেই'', বলেছেন ম্যার্কেল৷

২০১৪ সালে এর্দোয়ান প্রেসিডেন্ট হবার পর থেকে তুরস্কের সরকারি কৌঁসুলিরা তাঁকে অপমান করার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় দু'হাজারটি মামলা দায়ের করেছেন৷ গতমাসে এর্দোয়ান ছিলেন ওয়াশিংটনে, পারমাণবিক নিরাপত্তা শীর্ষবৈঠক উপলক্ষ্যে৷ সেখান থেকেই তিনি মন্তব্য করেন যে, সমালোচনায় তাঁর কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু তাঁকে অপমান করলে, তাঁর উকিলরা পদক্ষেপ নেবেন৷

এখন সমালোচনাই বা কি, আর অপমানই বা কি; ব্যঙ্গই বা কি, আর কলাই বা কি, তা নিয়ে বিতর্ক না কোনোদিন থেমেছে, না কোনোদিন থামবে৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স, এএফপি)

বন্ধু, আপনি কি ব্যোমারমানকে সমর্থন করেন? জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়