1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

জার্মানি সিরিয়ায় রাসায়নিক সরবরাহ করেছে

জার্মানি থেকে বেশ কয়েক বছর ধরে সিরিয়ায় নানা ধরনের রাসায়নিক রপ্তানি করা হয়েছে, এবং সেই রাসায়নিক তথাকথিত রাসায়নিক সমরাস্ত্র তৈরির কাজেও ব্যবহার করা চলে৷ সরকারিভাবে অবশ্য তা অ-সামরিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে৷

পৃথিবীতে বহু জিনিষই বেসামরিক কাজে ব্যবহার করা চলে, আবার যুদ্ধ কিংবা নিপীড়নের জন্যও ব্যবহার করা চলে৷ এগুলোকে পরিভাষায় বলে ডুয়াল ইউজ পণ্য৷ এগুলোর রপ্তানি নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু ইউরোপীয় ডুয়াল ইউজ নিয়মাবলী অনুযায়ী এ'ধরনের পণ্য রপ্তানির আগে ফেডারাল সরকারের কাছ থেকে এককভাবে পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে এবং অনুমোদন পেতে হবে৷

দি লিংকে, অর্থাৎ বামদল সংসদে সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলেছিল, ২০০২-০৩ এবং ২০০৫-০৬ সালে জার্মানি থেকে সিরিয়ায় ডুয়াল ইউজ পণ্য রপ্তানি করা হয়েছিল কিনা৷ খবর ছিল, ঐ সময়ে সিরিয়ায় ৯৩ হাজার ৪০ কিলোগ্রাম হাইড্রোজেন ফ্লোরাইড, ৬ হাজার ৪০০ কিলোগ্রাম সোডিয়াম ফ্লোরাইড এবং ১২ হাজার কিলোগ্রাম অ্যামোনিয়াম হাইড্রোজেন ফ্লোরাইড রপ্তানি করা হয়েছে৷ তিনটি পদার্থই স্নায়ুর গ্যাস সারিন তৈরিতে ব্যবহার করা চলে৷

অপরদিকে এই সব রাসায়নিকের অ-সামরিক ব্যবহারেরও নানা উদাহরণ আছে: যেমন দাঁতের মাজন তৈরি কিংবা তেল শিল্পে৷ জার্মানি থেকে এই ধরনের রাসায়নিক সিরিয়ায় রপ্তানির অনুমতি দেয় প্রথমে গেরহার্ড শ্রোয়ডারের সরকার, যা কিনা সামাজিক গণতন্ত্রী ও সবুজদের জোটে সৃষ্ট৷ পরে এসপিডি ও সিডিইউ দলের জোট সরকারও অনুমতি দেন, যে সরকারের প্রধান ছিলেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷

Syrien UN-Kontrolleure überprüfen Vorwürfe zu Giftgasangriff

জার্মানির বামদল সংসদে প্রশ্ন তুলেছিল, ২০০২-০৩ এবং ২০০৫-০৬ সালে জার্মানি থেকে সিরিয়ায় ডুয়াল ইউজ পণ্য রপ্তানি করা হয়েছিল কিনা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জার্মানি থেকে রপ্তানিকৃত রাসায়নিকগুলি বিষাক্ত গ্যাস সারিন তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, সে কথা সত্যি৷ কিন্তু সেই সঙ্গে আরো নানা ধরনের রাসায়নিক লাগবে - যা আবার বিশ্বের বাজারে পাওয়াটা খুব শক্ত নয়৷ সবচেয়ে বড় যুক্তি হল: সিরিয়ার যদি সত্যিই বিষাক্ত গ্যাস তৈরির জন্য এই সব রাসায়নিকের প্রয়োজন পড়ে থাকে, তবে সিরিয়া তা সহজেই চীন থেকে যোগাড় করতে পারত - বিশেষ করে চীন যখন সে সব পদার্থের ব্যবহার সম্পর্কে কোনো বিব্রতকর প্রশ্ন তুলত না বলে ধরে নেওয়া যায়৷

সংসদীয় নির্বাচনের অব্যবহিত আগে বিষয়টি গণমাধ্যমে ঢেউ তোলে, কিন্তু তার পরেই আবার হারিয়ে যায়৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলেন, ‘‘তাঁর কাছে যে সব খবরাখবর আছে'', তা অনুযায়ী রাসায়নিকগুলি বেসামরিক কাজেই ব্যবহার করা হয়েছে৷ ম্যার্কেল এর বেশি কোনো উচ্চবাচ্য করেননি৷ সবুজরা এবং মুক্ত গণতন্ত্রীরা বিষয়টিকে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ বানাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে৷

তাদের ব্যর্থ হবার দু'টি মূল কারণের একটি হল: জার্মানি একটি রপ্তানিকারক দেশ; এখানে রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে - নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া - বিবেকের প্রশ্ন জড়ানোর চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই৷ অপরদিকে সিরিয়ায় রপ্তানিকৃত রাসায়নিকগুলির মোট মূল্য হলো: এক লাখ চুয়াত্তর হাজার ইউরো, যেখানে ২০১২ সালে জার্মানির মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল এক দশমিক এক ট্রিলিয়ন ইউরো৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়