1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জার্মানির সামরিক খাতে ব্যয় এখন একটি নির্বাচনি প্রসঙ্গ

জার্মানি কি শীঘ্রই সামরিক খাতে ব্যয় বাড়াতে চলেছে? খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রীরা তার পক্ষে; সামাজিক গণতন্ত্রীদের কাছে তা নিরর্থক৷ প্রতিরক্ষা বাজেট এখন নির্বাচনি প্রচারের একটা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

জার্মানির অর্থনৈতিক শক্তি যেমন বেশি, তার সামরিক শক্তি ঠিক সেই পরিমাণে কম৷ জার্মান সেনাবাহিনী ‘বুন্ডেসভের'-এর সৈন্যসংখ্যা মাত্র ১,৭৮,০০০; সেনাবাহিনীর সাজসরঞ্জামের একাংশ মান্ধাতার আমলের৷ কাজেই উন্নততর অস্ত্রসজ্জা ও লোকবল বৃদ্ধির জন্য বছরের পর বছর ‘বুন্ডেসভের'-এর বরাদ্দ বাড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে৷

চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের মন্ত্রীসভার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তাঁর সিডিইউ দলের সদস্য উর্সুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন সামরিক বাজেটের ঘাটতি দূর করতে চান – সরকারের ছোট তরফ এসপিডি দলও তা সমর্থন করে৷ এসপিডির আপত্তি ফন ডেয়ার লাইয়েনের পরিকল্পনার আয়তন নিয়ে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ২০২৪ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়িয়ে দেশের জিডিপির দুই শতাংশ করতে চান৷

ন্যাটোর সদস্যদেশগুলি ২০১৪ সালে ওয়েলস-এ তাদের শীর্ষবৈঠকে ঠিক ঐ মাত্রাই স্থির করেছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারংবার ইউরোপীয়দের সামরিক খাতে জিডিপির দুই শতাংশ ব্যয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন৷ কিন্তু এসপিডির কাছে এই পরিকল্পনা স্রেফ ‘পাগলামো' – ‘আমাদের দিয়ে ও কাজ করানো যাবে না,' বলছে এসপিডি৷

প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ করতে হবে

জার্মানি প্রতিবছর প্রতিরক্ষা খাতে ৩৭ বিলিয়ন ইউরো (৪৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করে থাকে, যা কিনা জার্মানির জিডিপির ১ দশমিক ২৬ শতাংশ৷ জিডিপির দুই শতাংশে পৌঁছাতে জার্মানিকে সামরিক খাতে বছরে ৭০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি ব্যয় করতে হবে, যা কিনা বর্তমান বাজেটের প্রায় দ্বিগুণ৷

এসপিডি প্রতিরক্ষা বাজেট এই পরিমাণে বাড়াতে রাজি নয়৷ দলের চ্যান্সেলর-পদপ্রার্থী মার্টিন শুলৎস এই লক্ষ্যকে অবাস্তব ও ভ্রান্ত বলে অভিহিত করেছেন৷ এর ফলে জার্মানি ইউরোপের বৃহত্তম সামরিক শক্তিতে পরিণত হবে, যা কারো পক্ষেই কাম্য হতে পারে না – শুলৎস স্মরণ করিয়ে দেন৷

এসপিডি দলের রাজনীতিক ও জোট সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গাব্রিয়েলও বাডেন-ভ্যুর্টেমব্যার্গে একটি নির্বাচনি সমাবেশে ভাষণ দেবার সময় সামরিক খাতে জিডিপির দুই শতাংশ ব্যয়কে একটি ‘‘ভ্রান্ত ধারণা'' বলে অভিহিত করেছেন ও পরিবর্তে শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলেছেন৷ কিছুদিন আগে গাব্রিয়েল রসিকতা করে বলেছিলেন যে, ৭০ বিলিয়ন ইউরো খরচা করতে জার্মানিকে কতোগুলো বিমানবাহী পোত তৈরি করতে হবে, তা তিনি জানেন না৷

এসপিডি জার্মান সেনাবাহিনীকে আরো ভালোভাবে সজ্জিত করার উদ্দেশ্য পরিত্যাগ করেছে, বলে ফন ডেয়ার লাইয়েন অভিযোগ করেছেন৷ এসপিডির ‘‘পুরোপুরি লক্ষ্যহীন নির্বাচনি প্রচার অভিযান'' জার্মান সেনাসদস্য ও জার্মানির মিত্রদেশগুলির আস্থার বিনাশ ঘটাচ্ছে, বলে ফন ডেয়ার লাইয়েন মন্তব্য করেছেন৷

ইউরোপে ন্যাটোর অধিকাংশ সদস্যদেশ প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির দুই শতাংশের অনেক কম ব্যয় করে থাকে৷ যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ড সহ মাত্র কয়েকটি দেশ দুই শতাংশের বেশি ব্যয় করে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করে থাকে৷

লক্ষ্য না দায়িত্ব?

জিডিপির দুই শতাংশ ব্যয় সংক্রান্ত ন্যাটো প্রস্তাবটি বাধ্যতামূলক কিনা, তা নিয়েও সিডিইউ-সিএসইউ ও এসপিডি দলগুলির মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে৷ এসপিডি-র কাছে যা একটি লক্ষ্য বা মান নির্দেশ, সিডিইউ দলের কাছে তা একটি দায়িত্ব৷

কাজেই নির্বাচনি প্রচার অভিযানে সিডিইউ-সিএসইউ ‘‘সামরিক খাতে ব্যয় বাড়িয়ে ধীরে ধীরে জিডিপির দুই শতাংশ'' করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে; অপরদিকে এসপিডি কোনো ‘‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যের'' বিরুদ্ধে সাবধান করে দিচ্ছে ও প্রতিরক্ষা খাতে ‘‘পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় ও অবাস্তব'' ব্যয়বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে৷ পরিবর্তে এসপিডি সংকট প্রতিরোধ ও মানবিক সাহায্যে বিনিয়োগ করতে চায়৷

অন্য দলেরা কী চায়?

বাম আর সবুজরাও সামরিক খাতে ব্যয়বরাদ্দ বৃদ্ধির বিপক্ষে৷ সবুজরা কোনো নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা কামনা করে না৷ অপরদিকে বামদল বস্তুত ন্যাটো ভেঙে দেওয়ার সপক্ষে – তারা চায় অস্ত্রসজ্জার পরিবর্তে নিরস্ত্রীকরণ৷

মুক্ত গণতন্ত্রীরা ২০১৩ সালের ভরাডুবির পর এবার জার্মান সংসদে ফেরার আশা করছে৷ তারা ন্যাটো ও ন্যাটো শীর্ষবৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবসমূহের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য পোষণ করে, বলে এফডিপি জানিয়েছে৷ এফডিপি ২০২৪ সাল অবধি ধাপে ধাপে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর সপক্ষে – যদিও তারা জিডিপির দুই শতাংশ লক্ষ্যের কোনো উল্লেখ করেনি৷

দক্ষিণপন্থি এএফডি দল ‘‘সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার'' ডাক দিয়েছে৷ তারা ন্যাটোর অভ্যন্তরে ইউরোপীয় প্রভাব বৃদ্ধি কামনা করলেও, সেজন্য তারা প্রতিরক্ষা খাতে আরো বেশি ব্যয় করতে রাজি কিনা, সে বিষয়ে এএফডি কিছু বলেনি৷

নিনা ভ্যার্কহয়জার/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়