1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

জার্মানির সহায়তায় ভারতে ‘আপসাইক্লিং'

ইলেকট্রনিক বর্জ্য আলাদা করার ক্ষেত্রে ভারত যথেষ্ট এগিয়ে থাকলেও সেগুলিকে আবার কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে৷ তাই এবার সেই জঞ্জাল থেকে হাই ফ্যাশনের পণ্য তৈরি হচ্ছে ভারতের মধ্যেই৷

পথটা এঁকে বেঁকে যে টিলাটার উপর উঠে গেছে, সেটা আসলে ৪৫ লাখ টন আবর্জনার একটা স্তূপ৷ ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লির কোণ কোণ থেকে ট্রাকে করে এখানে ময়লা আসে দিনে আট হাজার টন!

মোট পাঁচশো ময়লা-কুড়ানির এটাই হল জীবনধারণের একমাত্র উপায়৷ সমাজে তাদের কাজের কোনো মূল্য নেই৷ গাজিপুরের এই ময়লার গাদা সম্পর্কে কারোর কিছু জানবার আগ্রহও নেই৷ সমাজসেবী বিমলেন্দু ঝা এই ময়লা-কুড়ানিদের নিয়ে কাজ করেন৷ বিশেষ করে এখানে যে সব শিশুরা কাজ করে, তাদের নিয়েই তাঁর চিন্তা৷ ‘গ্রিন দ্য গ্যাপ' উদ্যোগের পরিবেশ আন্দোলনকারী বিমলেন্দু ঝা এ বিষয়ে বললেন, ‘‘সরকার প্রায় কোনো রিসাইক্লিং করে না৷ যেটুকু রিসাইক্লিং, তা এই ময়লা-কুড়ানিরাই করে৷ ওরাই ময়লা আলাদা করে বাজারে বিক্রি করে৷ বলা চলে, বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের আর কোনো ব্যবস্থাই নেই, পরিবহন ছাড়া৷ এই পুরানো ট্রাকগুলোই সরকারের একমাত্র অবদান৷ ব্যস, ঐটুকুই৷''

Junge Ukrainer machen Kunst aus Müll Alina Kopytsya

বর্জ্য থেকে ‘আপসাইক্লিং’এর একটি দৃষ্টান্ত

শুধুমাত্র দিল্লিতেই প্রায় তিন হাজার মানুষ ইলেকট্রনিক বর্জ্য রিসাইক্লিং'এর কাজ করে৷ আগে এই বাতিল ইলেকট্রনিক পণ্য সারা দুনিয়া থেকে আসতো৷ আজ ভারতের মধ্যবিত্তরাই তা সৃষ্টি করে৷ কাজ চলে পরিবেশ কিংবা কর্মীদের স্বাস্থ্যের কোনো তোয়াক্কা না করে৷

কাজেই জার্মান জিআইজেড বা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার প্রশ্ন হলো, পরিবেশ কিংবা স্বাস্থ্যগত নিয়মকানুন মেনে এই বেসরকারি সেক্টরটির সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানো যায় কেমন করে? জার্মানির সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড-এর ঊর্ধ্বতন প্রযুক্তিগত উপদেষ্টা আশীষ চতুর্বেদী বললেন, ‘‘রিসাইক্লিং প্রণালির নানা পর্যায় আছে৷ তার মধ্যে প্রথম হল প্রি-প্রসেসিং, অর্থাৎ বিভিন্ন পদার্থগুলোকে আলাদা করা৷ এক্ষেত্রে ভারত অবিশ্বাস্যরকম দক্ষ৷ বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি দক্ষ – এমনকি ইইউ এবং জার্মানির তুলনায়ও৷ কিন্তু আলাদা করা মাল থেকে কাঁচামাল বার করা, সেখানেই গোলমালের শুরু৷''

নতুন ধরনের রিসাইক্লিং কারখানায় ঠিক সেই প্রচেষ্টাই চলেছে৷ মানুষ কিংবা পরিবেশের ক্ষতি না করে ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে সোনা, তামা, অন্যান্য ধাতু উদ্ধার করা৷

আশীষ চতুর্বেদী বললেন, ‘‘এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, এই সব গরীব মানুষেরা এই কাজ করছে৷ কিন্তু এরা না করলে আমাদের পরিবেশের কী দশা হতো? আমার কাছে এই ময়লা-কুড়ানিরা হচ্ছে পরিবেশের মহান যোদ্ধা৷ এরা এদের পরিবেশ সংক্রান্ত কাজের জন্য স্বীকৃতি পায় না৷ অথচ এরা আমাদের পরিবেশ রক্ষায় একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে৷''

তার পরেও যা থাকে, বিমলেন্দু তাকে রিসাইক্লিং না বলে ‘আপসাইক্লিং' বলেন৷ ময়লা থেকে হাই ফ্যাশনের পণ্য তৈরি৷ ‘গ্রিন দ্য গ্যাপের' ধারণাটাই হল তাই৷

এসি/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়