1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‌জার্মানির সঙ্গে বাণিজ্যিক গাঁটছড়া বাঁধতে আকুল মমতা

পশ্চিমবঙ্গে জার্মান বিনিয়োগ আনতে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো, জার্মান বিনিয়োগ কেন?‌ কেনই বা পশ্চিমবঙ্গে?‌ উত্তর খুঁজেছেন শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়৷

সিঙ্গুরে কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলনের জেরে টাটা শিল্পগোষ্ঠীর ন্যানো গাড়ির কারখানা পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরে গেছে গুজরাটে৷ এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের যে একটা শিল্পবিরোধী ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, সেটা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই৷ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জিকে গত পাঁচ বছর ধরে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করতে হয়েছে৷ কিন্তু তাতে কাজের কাজ যে বিশেষ হয়নি, পশ্চিমবঙ্গের বেহাল শিল্প পরিস্থিতি দেখলেই সেটা বোঝা যায়৷ গত পাঁচ বছরে কার্যত কোনো বড় শিল্প, কোনো বড় বিনিয়োগ এ রাজ্যে হয়নি৷ সেই জায়গা থেকে একেবারে গাড়ি নির্মাতাদের মধ্যে সর্বোত্তম যারা, সেই বিএমডাব্লিউ-র গাড়ি কারখানা পশ্চিমবঙ্গে আনার চেষ্টা করাটা কিছুটা বামন হয়ে চাঁদে হাত দেওয়ার মতো, বলছে নিন্দুকরা৷ এই যেমন রাজনৈতিক বিরোধীরা বলতে শুরু করেছেন, আসলে সরকারি খরচে বিদেশে বেড়াতে গেছেন রাজনীতিক আর শিল্পপতিরা! না, সমালোচনা দূরে থাক৷ বরং তাকানো যাক ভবিষ্যতের দিকে৷

শেষ পর্যন্ত বিএমডাব্লিউ পশ্চিমবঙ্গে আসবে কিনা, সেটাও পরের প্রশ্ন৷ তার আগে বরং দেখা যাক, ভারতে বিএমডাব্লিউ-র অবস্থান কী৷ ভারতে কোম্পানিটির সদর দপ্তর দিল্লির অদূরে গুরগাঁওয়ে এবং নিজস্ব কারখানা চেন্নাই শহরতলীতে৷ এছাড়া সংস্থার নিজস্ব শোরুম রয়েছে সারা দেশ জুড়েই৷ তার মধ্যে সংখ্যায়, অর্থাৎ গুরুত্বে বেশি উত্তর, দক্ষিণ এবং পশ্চিম ভারত৷ এ ব্যাপারে বিএমডাব্লিউ-র মনোভাবের আঁচ পাওয়া যাবে একটি সিদ্ধান্ত থেকেই৷ ১০ বছর আগে বিশ্ববিখ্যাত এই জার্মান গাড়ি নির্মাতা সংস্থা প্রথম যখন ভারতে আসে, রাজধানী দিল্লি ছাড়া তাদের নজরে ছিল মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ৷

তার মানে তাদের বাণিজ্য মানচিত্রের বাইরে ছিল কলকাতাসহ গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত৷ দশ বছরে যদিও কলকাতায় এবং ওড়িশা-ঝাড়খণ্ডে নিজেদের গাড়ি বিক্রির নিজস্ব কেন্দ্র তারা খুলেছে, কিন্তু এখনও গুরুত্বহীন উত্তর-পূর্বাঞ্চল৷

ঠিক এই জায়গা থেকেই বিএমডাব্লিউ-র সামনে প্রস্তাব রেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, যে শুধু উত্তর-পূর্ব ভারত নয়, গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজার ধরার কাজটা কোম্পানিটির পক্ষে নাকি অনেক সহজ হয়ে যাবে, যদি পশ্চিমবঙ্গে তাদের কারখানা তৈরি হয়৷ তার ওপর মিউনিখে বিএমডাব্লিউ-র কর্তারা যতটা সময় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে, একটা সম্ভাবনা হয়ত সত্যিই তৈরি হয়েছে৷ অর্থাৎ কিনা সত্যিই হয়ত ন্যানোর বদলে বিএমডাব্লিউ হাতে পাবে পশ্চিমবঙ্গ৷ আর শেষ পর্যন্ত সেটা যদি হয়, সরকারের স্থায়িত্ব, দক্ষ মানবসম্পদ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার সাহায্যে শিল্পায়ন প্রচেষ্টার সাফল্যে এক ধাক্কায় অনেক দূর এগিয়ে যাবেন মমতা৷

অবশ্য শুধু গাড়ি কারখানাই নয়, জার্মানির মাঝারি ও ছোট শিল্পকেও সাদরে ডাকছে পশ্চিমবঙ্গ৷ এবং যেহেতু এই রাজ্যে যে কোনো শিল্পস্থাপনের ক্ষেত্রেই অবধারিত উঠে আসবে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের প্রসঙ্গ, মমতা নিজের সঙ্গে নিয়ে গেছেন এমন এক ঝাঁক শিল্পপতিকে, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে নিরুপদ্রবে ব্যবসা করে চলেছেন৷ মিউনিখের বণিকসভায় এই শিল্পপতিদের দিয়ে মমতা বলিয়েছেন, যে লগ্নির জন্য পশ্চিমবঙ্গ কতটা নিরাপদ ও শিল্পবান্ধব৷ হ্যাঁ, মমতার সরকার কতদূর সহায়ক ভূমিকা নিতে পারে নতুন শিল্পস্থাপনের ক্ষেত্রে, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা অথবা পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের মতো বাঘা বাঘা শিল্পপতি এই সার্টিফিকেটই দিয়েছেন৷

এর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য বোধহয় টাটা শিল্পগোষ্ঠীর এক কর্তার উপস্থিতি, যিনি বলেছেন, তাঁরাও এই নতুন পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহী৷

পাশাপাশি জার্মানি-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলার সঙ্গে জার্মানির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এমনকি দুই জাতির অসম্ভব ফুটবলপ্রীতির কথাও বাদ দেননি তিনি৷ সব মিলিয়ে পরিষ্কার যে, শিল্পায়নের ময়দানে মমতা এবার গোল করে দেখাতে চান৷ সেক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ তাঁর কাম্য, এবং সেখানে তিনি জার্মানিকেই স্বাভাবিক বাণিজ্য সহযোগী হিসেবে দেখতে চান৷ এ প্রসঙ্গে নেতাজী সুভাষ বসুর জার্মানিতে গিয়ে সাহায্য চাওয়ার ঐতিহাসিক প্রসঙ্গেরও উল্লেখ করেছেন মমতা৷

মিউনিখ ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর শিল্প প্রতিনিধিদল গেছেন ফ্রাংকফুর্ট, ড্যুসেলডর্ফে বিনিয়োগের খোঁজে৷ জার্মানির সঙ্গে বাণিজ্যিক গাঁটছড়া বাঁধতে মমতার এই যে আকুলতা, তার একটা কারণ সম্ভবত জার্মানদের স্বভাবগত সৌজন্যবোধ এবং সততা৷ মমতা ব্যানার্জি ২০১১ সালে প্রথম যেবার ক্ষমতায় এলেন, যে বিদেশি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা করতে যায়, সেটাও ছিল জার্মানির৷ সেসময় সদ্য সিঙ্গুর আন্দোলন সেরে আসা তৃণমূল নেত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রাজ্যে শিল্পের অনুকূল পরিস্থিতি যাতে তৈরি হয়, তার ব্যবস্থা তিনি করবেন সত্বরই৷ তিনি যে কথা রেখেছেন, সেটাই সম্ভবত জার্মানিতে গিয়ে মনে করিয়ে দিলেন মমতা ব্যানার্জি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়