জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে ২০১৪ সাল | জার্মানি ইউরোপ | DW | 01.01.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে ২০১৪ সাল

জার্মানির নতুন মহাজোট সরকার সদ্য যাত্রা শুরু করলো৷ ২০১৪ সালে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে এই সরকার৷ ইউরো রক্ষা কর্মসূচি, ইন্টারনেটে আড়ি পাতা, বিশ্ব আর্থ সংকট – এই সব কিছুই করতে হবে এ সরকারকে৷

বৃহৎ কোয়ালিশনের বড় বড় কাজেরও সুরাহা করা উচিত৷ তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসীন হয়ে এ কথা বললেন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ তবে আলৌকিকভাবে কিছু ঘটে যাবে, এমনটি আশা করা ঠিক হবে না৷ ২০১৪ সালে পা দিয়েও গত বছরের মতো অনেক কিছু করতে হবে৷ সামলাতে হবে অনেক সমস্যা৷

কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে

চ্যান্সেলর ম্যার্কেল কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন৷ যেমন শক্তিশালী অর্থনীতি, সুশৃঙ্খল বাজেট, ঋণ ভারের রাশ টানা ইত্যাদি৷ অর্থমন্ত্রী শয়েবলে ছয় বিলিয়ন ইউরোর বেশি ঋণ করবেন না বলে জানিয়েছেন৷ ২০১৫ সালে নতুন কোন ঋণ করা হবে না বলে আশা করেন তিনি৷ তবে অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াটা যদি এইভাবেই চলতে থাকে৷

Bundeswehr-Einsatz in Afghanistan

আফগানিস্তান থেকে জার্মান সেনা প্রত্যাহারের কাজ শেষ করা হবে ২০১৪ সালে

পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি থেকে সরে আসা ও বিকল্প জ্বালানি শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কিছুটা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে সরকার৷ জার্মানির আগের সরকার বৃহৎ শিল্প কারখানাগুলিকে পরিবেশ বান্ধব জ্বালানিতে উত্তরণের ব্যাপারে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল৷ এটি দিতে রাজি নয় ব্রাসেলস-এর ইউরোপীয় কমিশন৷ অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বিদ্যুতের মূল্য কমানো হবে৷ এইসব কারণে আগামী ইস্টারের মধ্যে বিকল্প-জ্বালানি-আইনের সংস্কার করতে হবে৷

প্রতিযোগিতার বাজারে শক্তিশালী হবে অর্থনীতি

জার্মান অর্থনীতিকে প্রতিযোগিতার বাজারে শক্তিশালী হতে হবে৷ ইন্টারনেটের প্রসার ঘটিয়ে এ জন্য পরিকাঠামো সৃষ্টি করতে হবে৷ এমনটাই আশা সরকারের৷

Aussenminister Frank-Walter Steinmeier 17. Dez. 2013

নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক স্টাইনমায়ার

অর্থনৈতিক সংকটে পড়া দেশগুলিতে বিপুল পরিমাণে অর্থ সাহায্যের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ সেই সব দেশের ক্ষেত্রেই ঝুঁকি নেওয়া হবে, যারা সুশৃঙ্খলিত বাজেট ও প্রতিযোগিতার বাজারে দক্ষতা দেখাতে পারবে৷

ইউরোপে যুব বেকারত্বের হার কমানো ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালাবেন ম্যার্কেল৷ এ জন্য অন্যান্য দেশ থেকে যোগ্য তরুণদের জার্মানিতে আসা, চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সুবিধা করে দেওয়া হবে৷ মে মাসে ইউরোপীয় সংসদের নির্বাচনের আগেই এই পদক্ষেপ নিতে চান ম্যার্কেল৷ কেননা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কট্টর দক্ষিণপন্থি দলগুলি যুব বেকারত্বের সুযোগে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করার চেষ্টা করছে৷

মানুষের কাজের অধিকারকে আধুনিকীকরণ করা হবে৷ কর্মক্ষেত্রে সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে৷ যাঁরা সাময়িকভাবে কাজ করেন তাঁদের প্রতি স্থায়ী কর্মীদের মতোই আচরণ করা হবে৷ ২০১৫ সাল থেকে জার্মানিব্যাপী ন্যূনতম মজুরি ৮.৫০ ইউরো কার্যকর করা হবে৷

জার্মানিতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে৷ মানুষের গড় বয়স এখন ৪৫৷ এ কারণে সরকারকে সেবা শুশ্রূষার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের কথা বেশি করে ভাবতে হচ্ছে৷ বর্তমানে সেবা নির্ভর মানুষের সংখ্যা ২.৫ মিলিয়নের মতো৷ এর মধ্যে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মানুষও রয়েছেন অনেক৷ কিন্তু সেই তুলনায় পর্যাপ্ত সেবক সেবিকা নেই৷ এজন্য বিদেশ থেকে সেবাকর্মী আনার চেষ্টা করা হবে৷ এছাড়া সেবা-পেশার উন্নতি সাধন করার চেষ্টা করা হবে৷

পররাষ্ট্রনীতিতে কয়েকটি বিষয়ে জোর দেওয়া হবে

আফগানিস্তান থেকে জার্মান সেনা প্রত্যাহারের কাজ শেষ করা হবে ২০১৪ সালে৷ এছাড়া নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপিডির ফ্রাংক স্টাইনমায়ারের অধীনে বিদেশে সামরিক কার্যকলাপের ব্যাপারে জার্মানি অনেকটা সংযমী হবে বলে মনে করা হয়৷

দুটি বিষয় নতুন সরকারকে ব্যতিব্যস্ত রাখবে আগামী বছরে৷ একটি হলো অ্যামেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক আড়িপাতার বিষয়টি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক৷ এই ঘটনাটির মিটমাটের ব্যাপারে বার্লিন ওয়াশিংটনের কাছ থেকে একটা ইঙ্গিত পাওয়ার আশা করছে৷ উল্লেখ্য, আগামী জুন মাসে জি৮ শীর্ষ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে ম্যার্কেলের দেখা হওয়ার কথা৷

দ্বিতীয়টি হলো গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিষয়টি৷ ২০১৪-এর ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়ায় শীতকালীন অলিম্পিক খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷ সেখানে শুধু খেলাধুলাই নয়, মানবাধিকারের মতো রাজনৈতিক বিষয়গুলিও কিছুটা উত্তাপ ছড়াবে৷ যা হয়ত বার্লিন ও মস্কোর সম্পর্ককে নতুন পরীক্ষার সম্মুখীন করবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়