1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

জার্মানির রহস্যময় গুহাজগতের রোমাঞ্চ

আজকের যুগেও পৃথিবীর অনেক প্রান্তে মানুষের পা পড়েনি, এমনটা বিশ্বাস করা কঠিন৷ জার্মানির মধ্যে এক আশ্চর্য জলাধারকে ঘিরে এমনই এক রহস্যজনক জগত রয়েছে৷ ডুবুরি গবেষকরা ধীরে ধীরে সেখানে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন৷

জার্মানির অন্যতম রহস্যময় জলাধারগুলির একটি হলো ব্লাউটফ৷ সেখানে আজও নতুন করে অনেক কিছু আবিষ্কার করার আছে৷ উপর থেকে যা দেখা যায় না, তা হলো, পানির গভীরে এক লুকানো জগত রয়েছে৷ অসংখ্য গুহা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত৷ এখনো সব অংশে মানুষ প্রবেশ করেনি৷

জার্মানির সেরা ডুবুরি গবেষকদের অনেকেই সেই রহস্য সমাধান করতে চান৷ এমনিতে তাঁরা মিস্ত্রী, ডাক্তার বা অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেন৷ কিন্তু সময় পেলেই তাঁরা এই গুহারাজ্যের রহস্য উন্মোচনে ডুব দেন৷ গুহা গবেষক ইয়খেন মালমান বলেন, ‘‘যেখানে কেউ কখনো যায়নি, সেখানে যাবার রোমাঞ্চই আলাদা৷ সেই সব জায়গা আবিষ্কারই হয়নি৷ ফলে রোমাঞ্চ তো থাকবেই৷’’

পানির নীচে গুহার মধ্যে ডুবুরি হিসেবে বিচরণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ৷ সরু পথে বারবার ওঠানামা করলে চাপ সামলানো মুশকিল হয়ে পড়ে৷ সমস্যা দেখা দিলে ডুবুরিকে সেই পথ দিয়েই আবার ফিরে আসতে হয়৷ বেশ কয়েকজন ব্লাউটফে এভাবে মারা গেছে৷ গুহা গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্যুশা বলেন, ‘‘মানুষ নিজেই সবচেয়ে বড় বিপদ, বিশেষ করে তার মাথার মধ্যে যা চলে৷ মানসিকভাবে সে যদি এমন পরিস্থিতি সামলাতে না পারে, তখন মারাত্মক ভয়ের এক চক্র তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে৷’’

গবেষকরা এই গুহা ও পানির পথ সম্পর্কে আরও জানতে চান৷ গোটা এলাকার আয়তন ১৬০ কিলোমিটারের বেশি৷ বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে ব্লাউটফে জমা হয়৷

ডাইভার প্রোপালশন ভেহিকেলে চেপে পানির নীচে ২০ মিটার গভীরে যাওয়া যায়৷ সেখানে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ গুহার প্রবেশপথ৷ উলটো দিকের স্রোত সেখানে বেশ শক্তিশালী৷ তার চাপে ডুবুরিদের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ প্রবেশপথের অন্যদিকে অন্ধকার৷ প্রায় এক ঘণ্টা পর ডুবুরিরা প্রথম বার মাথা তুললেন৷

বিশাল খোলা জায়গাটির নাম ম্যোরিকে ক্যাথিড্রাল৷ মাটির ৪০ মিটার নীচে এই জায়গাটি বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন৷ ডুবুরিদের কিছু হলে বাইরে থেকে সাহায্য পাবার কোনো আশা নেই৷ কিন্তু কৌতূহলের বশে তাঁরা এগিয়ে চলেছেন৷ তাঁরা নতুন পথ ও অন্যান্য গুহার সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পেতে চান৷ কয়েক বছর আগে গবেষকরা প্রথমবার এই গোপন পথের অস্তিত্ব জানতে পারেন৷

পাথরের অদ্ভুত কারুকর্যভরা জাদুময় এক জগতের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলার রোমাঞ্চই আলাদা৷ আন্দ্রেয়াস ক্যুশা বলেন, ‘‘মনে সব সময়ে উত্তেজনা কাজ করে৷ বিশাল এই প্যাসেজের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে প্রথমে কোনো উপলব্ধি হয় না৷ আবিষ্কারের দু-একদিন পর মনে সেই বোধ আসে৷ কারণ, এখানে যে এমন অপরূপ সুন্দর কিছু থাকতে পারে, কেউ তা ভাবেনি৷’’

অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় এই মানুষগুলি এই পাতাল জগতের সামগ্রিক পরিমাপ করতে চান৷ তার জন্য জমির উপর থেকে প্রবেশের এক পথের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে সব সাজসরঞ্জাম পৌঁছানো যায়৷ বিশেষ ড্রিলিং যন্ত্রের সাহায্যে মাটিতে প্রায় ২০ মিটার গভীর এক গর্ত খোঁড়া হয়েছে৷ ‘স্টেয়ারওয়ে টু হেভেন’ নামের এক সদ্য-আবিষ্কৃত গুহায় বেরিয়ে আসতে চান তাঁরা৷ সেই লক্ষ্য কি সফল হবে?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক