1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পুনরএকত্রিত জার্মানি

জার্মানির পুনর্মিলনের ২৪ বছর

দুই জার্মানির পুনর্মিলন ঘটে ১৯৯০ সালের তেসরা অক্টোবর৷ কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানিতে শান্তিপূর্ণ বিপ্লব হিসেবে যার সূচনা, তার সমাপ্তি হয় ঐতিহাসিক পুনর্মিলনে: গ্রেহেম লুকাস-এর অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি৷

পুনরেকত্রিত জার্মানি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত৷ অপরদিকে জার্মানি আজ বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ না হতে পারে – চীন সে স্থান অধিকার করে নিয়েছে – কিন্তু জার্মানি আজও ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতি৷

২০০৮ সালের ব্যাংক সংকটের পর জার্মানি ইউরো মুদ্রাকে স্থিতিশীল রাখায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ বিদেশনীতির ক্ষেত্রে জার্মানি চিরকালই বিরোধের তীব্রতা হ্রাস করায় পটু, এশিয়ার ক্ষেত্রেও জার্মানির যা মূল ভূমিকা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্ত করার পথে প্রথম পা বাড়ান জার্মান কূটনীতিকরা৷ বাংলাদেশে জার্মান বিদেশনীতি আজও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রসারে সচেষ্ট৷

অপরদিকে চীন জার্মানির পক্ষে একটা চ্যালেঞ্জ: কেননা বাণিজ্যের সঙ্গে সঙ্গে মানবাধিকারের প্রশ্নটি ভুললে চলবে না৷ সর্বক্ষেত্রেই জার্মান সরকার গণতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছেন – যার প্রতিদান হিসেবে বার্লিন বিশ্ব নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার ও জার্মানির জন্য একটি স্থায়ী আসনে আগ্রহী৷

‘পুবের' আর ‘পশ্চিমের'

গত ২৪ বছরে জার্মানির সবচেয়ে বড় অর্জন সম্ভবত সাবেক পূর্ব জার্মানি ও তার এক কোটি সত্তর লাখ বাসিন্দাকে অবিভক্ত জার্মানির ‘অবিভক্ত' অঙ্গ করে তোলা – যা-তে ‘অসি আর ‘ওয়েসি', অর্থাৎ ‘পুবের' আর ‘পশ্চিমের' মানুষদের মধ্যে কোনোরকম ফারাক না থাকে৷ অর্থনৈতিক বিচারে জার্মানির পূর্বাঞ্চল পশ্চিমের চেয়ে আজও কিছুটা পিছিয়ে বটে, কিন্তু অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মানের মানদণ্ডে দুই জার্মানির পার্থক্য ক্রমেই কমে আসছে৷

‘দি লিংকে' বা বামদল, এএফডি বা ‘জার্মানির জন্য বিকল্প' দল ইত্যাদি যোগ হওয়ার ফলে যেমন জার্মানির রাজনৈতিক মানচিত্রে কিছু কিছু পরিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে জার্মান রাজনীতিতে স্থিতিহীনতা দেখা দেয়নি – ঠিক সে'ভাবেই বিদেশি-বহিরাগতদের আগমনের ফলে জার্মান সমাজের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে: অভিবাসী ও তাদের সন্তান-সন্ততিদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা জার্মান সমাজের ধারা-প্রকৃতি বদলে দিয়েছে৷

অধিবাসী ও অভিবাসী

২০০৮ সাল যাবৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই অভিবাসীদের প্রিয় গন্তব্য হলো জার্মানি: ২০১২ সালে চার লাখ শিক্ষিত তথা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিবাসী জার্মানিতে আসেন৷

Deutsche Welle Grahame Lucas

গ্রেহেম লুকাস

অভিবাসনের ফলে জার্মান সংস্কৃতি আজ বহুজাতিক সংস্কৃতি হয়ে ওঠার পথে: জার্মানির আট কোটি বিশ লক্ষ নাগরিকদের মধ্যে দেড় কোটি নাগরিক জন্ম বা বংশসূত্রে অভিবাসী৷ এই অভিবাসী ও অভিবাসী বংশোদ্ভূতদের একটা বড় অংশ মুসলিম৷ কিন্তু সেটা যে ‘ইন্টেগ্রেশন' বা অন্তর্ভুক্তির পথে কোনো অন্তরায় নয়, তার সর্বাধুনিক প্রমাণ এক ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক, যিনি আগামীতে বার্লিনের লর্ড মেয়র হতে পারেন৷ রায়েদ সালেহ ওয়েস্ট ব্যাংক থেকে জার্মানিতে আসেন পাঁচ বছর বয়সে এবং পরে সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি দলে যোগদান করেন৷ আজ তিনি লর্ড মেয়র পদে এসপিডি প্রার্থী হওয়ার মুখে৷

অপরদিকে পুনর্মিলনের ২৫ বছর পরে জার্মানি যে সমস্যাটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত, সেটা হলো স্বদেশে ইসলামি জঙ্গিবাদের প্রচার ও প্রসার৷ গুপ্তচর বিভাগের খবর অনুযায়ী, জার্মানি থেকে প্রায় ৫০০ জন তরুণ – ও তরুণী – জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট-এর (আইএস বা আইসিস) হয়ে যুদ্ধ করার জন্য সিরিয়া যাত্রা করেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়