1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

জার্মানির নির্বাচন পদ্ধতি ৬০ বছর ধরে অপরিবর্তিত

পদ্ধতি যতই পুরনো হোক না কেন, নির্বাচন সবসময়েই নতুন৷ এবার চ্যান্সেলর কে হবেন, আঙ্গেলা ম্যার্কেল না পেয়ার স্টাইনব্রুক, সে এক প্রশ্ন৷ কিন্তু সংসদীয় নির্বাচনে মুখ্য চরিত্রগুলো হলো রাজনৈতিক দলেরা৷

কী করে এই সংসদের সদস্য হওয়া যায়? বার্লিনে বুন্ডেসটাগ দেখতে এসে এক দর্শক একবার প্রশ্ন করেছিলেন গাইডকে৷ গাইডের উত্তর: বুন্ডেস্টাগে ৬০০টি আসন আছে৷ কিন্তু তার একটা পেতে হলে সর্বাগ্রে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়াটাই বোধহয় ভালো৷

কোনো একক ব্যক্তি – আমরা যাকে বলবো নিরপেক্ষ কিংবা নির্দলীয় – তেমন কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে বুন্ডেস্টাগে আসন জয় করতে হলে বিস্তর ভোট পেতে হবে৷ সংবিধানে যাই থাক না কেন, বস্তুত আজ জার্মানিতে রাজনৈতিক দলগুলিই নির্ধারণ করে, কে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে৷

নির্বাচনের কে ও কা-কে

কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সি জার্মান নাগরিকরা ভোট দিতে পারেন, সব মিলিয়ে বর্তমানে ছ'কোটি আঠেরো লাখ ভোটার৷ এবার তাদের মধ্যে থাকবেন ৩০ লাখ নতুন ভোটার, যারা প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন৷ এ সবই ফেডারাল পরিসংখ্যান কার্যালয়ের দেওয়া খবরাখবর, যার প্রধান যুগপৎ সংসদীয় নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে৷

সব রাজনৈতিক দলকে এই ফেডারাল নির্বাচন পরিচালকের কাছে পেশ হতে হবে৷ সংবিধান, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি আনুগত্য থাকলে কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া চলবে না৷ কাজেই ২২শে সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে মোট ৩৪টি রাজনৈতিক দল ভোটে দাঁড়াচ্ছে৷ বর্তমানে তাদের মধ্যে মাত্র ছ'টি দল সংসদে উপস্থিত: সিডিইউ-সিএসইউ, এসপিডি, এফডিপি, সবুজ দল ও বামদল৷

৬০ বছরে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি

গত শতাব্দীর বিশের দশকে – তথাকথিক ভাইমার রিপাবলিকের আমলে – বহু ছোট রাজনৈতিক দলকে মিলিয়ে জোট সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিভীষণ অভিজ্ঞতার পর ফেডারাল জার্মান প্রজাতন্ত্রের সংবিধান রচয়িতারা একটি পাঁচ শতাংশ ন্যূনতম ভোটের বেড়া রাখার সিদ্ধান্ত নেন৷ এর অর্থ, সংসদে আসনগ্রহণ করার জন্য যে কোনো দলকে প্রদত্ত ভোটের অন্তত পাঁচ শতাংশ ভোট পেতে হবে৷

Wahlkampf Angela Merkel in Seligenstadt

জার্মানির নির্বাচন পদ্ধতি ৬০ বছর আগের তৈরি

অপরদিকে প্রদত্ত ভোটের অনুপাতই যা-তে একমাত্র মাপকাঠি না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচনি এলাকা ও প্রার্থী ভিত্তিক নির্বাচনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ ভোটাররা যেন তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ পায়, এটাই ছিল বুনিয়াদি ধারণা৷ কাজেই প্রতি ‘ভালক্রাইজ' বা নির্বাচনি এলাকা থেকে মাত্র একজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারেন৷ জার্মানিতে প্রায় ২৯৯টি এ ধরনের ‘ভালক্রাইজ' আছে৷

অপরদিকে ভোটাররা তাদের ‘দ্বিতীয় ভোট'-টি দিয়ে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলকে ‘নির্বাচন' করতে পারেন৷ এভাবে প্রদত্ত ভোটগুলিও সংসদে ঐ দলটির আসনে পরিবর্তিত হবে৷ এভাবে ভোটাররা সংসদে রাজনৈতিক দলগুলির মোট আসনসংখ্যার উপর তাদের প্রভাব জারি করতে পারে৷ সংসদে একটি রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত আসনসংখ্যা নির্ধারিত হবে ‘প্রথম ভোট' ও ‘দ্বিতীয় ভোট'-এর পরিমাণ ও অনুপাত থেকে৷ যদিও ‘দ্বিতীয় ভোট'-এর ক্ষেত্রে কে অথবা কারা যে সেই টিকিটে সংসদে আসন নেবে, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা ভোটারদের নেই৷

সমালোচিত নির্বাচন পদ্ধতি

এটা কি ধরনের গণতন্ত্র, যদি রাজনৈতিক দলগুলি সংসদে তাদের অর্ধেক প্রতিনিধিদের নাম-ধাম নিজেরাই ঠিক করতে পারে? এ সমালোচনা বারংবার শোনা গেছে৷ প্রাক-নির্বাচনী দলীয় সম্মেলনে – যেখানে দলের সব সদস্য হাজির নেই, হাজির থাকার সম্ভাবনাও নেই – সেখানে দলের সম্ভাব্য সংসদ সদস্যদের যে তালিকা তৈরি হয়, সেই ‘লিস্টে' ওপরের দিকে নাম না থাকলে, সাংসদ হবার আশা কম৷ কাজেই ভোটার তার ‘দ্বিতীয় ভোট' দিয়ে যে ঠিক কা-কে সংসদে পাঠাচ্ছে, সেটা সে নিজেই জানে না৷

প্রথম আর দ্বিতীয় ভোটের পারস্পরিক প্রভাব নিয়েও গোলমাল আছে৷ কোনো দল হয়ত দ্বিতীয় ভোট বিশেষ পায়নি, কিন্তু প্রথম ভোটে জিতে একাধিক আসন পেয়েছে৷ ওদিকে দ্বিতীয় ভোট কম থাকার ফলে দলটির মোট আসনসংখ্যা কমে যেতে পারে৷ জার্মান সাংবিধানিক আদালত এই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন খুঁটিনাটিকে সংবিধান বিরোধী বলে ঘোষণা করে – তা-ও আজ নয়, ২০০৮ সালে৷ ফলে কিছু কিছু সংশোধনও করতে হয়৷ তবুও সব মিলিয়ে জার্মানিতে আজ ‘পার্টিগুলোর শাসন' চলেছে, বলেই সমালোচকদের অভিযেোগ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়