1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য

সেপ্টেম্বরে সংসদ নির্বাচন হবে জার্মানিতে৷ এবার প্রতিদ্বন্দিতা এমন তীব্র হতে পারে, যা চ্যান্সেলর ম্যার্কেল কখনোই প্রত্যাশা করেননি৷ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগে জার্মান রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্কে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য৷

খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী ইউনিয়ন (সিডিইউ)/খ্রিষ্টীয় সামাজিক ইউনিয়ন (সিএসইউ)

রং: কালো

চেয়ারপার্সন: আঙ্গেলা ম্যার্কেল

সদস্য সংখ্যা: ৪ লাখ ৩০ হাজার

ভোটার: ধার্মিক খ্রিষ্টান, গ্রামের অধিবাসী, ৬০-এর বেশি বয়সিদের মধ্যে এই দুই দলের প্রচুর সমর্থক রয়েছে৷ বিশেষ করে দক্ষিণ জার্মানির গ্রামাঞ্চলে এরা বেশ জনপ্রিয়৷ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মধ্যম মানের শিক্ষিত মানুষেরাও সিডিইউকে পছন্দ করেন৷

২০১৩ সালের সংসদ নির্বাচনের ফল: প্রাপ্ত ভোট ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ (৬৩০ আসনের মধ্যে ৩১১ আসন)

ইতিহাস: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়৷ উদ্দেশ্য ছিল, জার্মানি জুড়ে রক্ষণশীল খ্রিষ্টান ভোটারদের একত্রে আনা৷ যুদ্ধ পরবর্তী পশ্চিম জার্মানিতে এটা সবচেয়ে ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়৷ পুনরেকত্রীকরণের পরে দলটি গোটা জার্মানিতেই শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলে৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম ৬৭ বছরের মধ্যে ৪৭ বছর দলটি জার্মানিকে নেতৃত্ব দেয়৷ দলটির নেতা কনরাড আডেনাওয়ার ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন৷ তিনি এবং তাঁর অর্থমন্ত্রী লুডভিগ এরহার্ড মিলে পশ্চিম জার্মানিতে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটান৷ এই দল ক্ষমতায় থাকার সময়ই জার্মানি একত্রিত হয়৷

বাভারিয়া রাজ্যে সিডিইউ নেই৷ সেখানে শুধু সিডিইউ-এর দল খ্রিষ্টীয় সামাজিক ইউনিয়ন (সিএসইউ) কাজ করে থাকে৷ তবে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বাস্তু ইস্যু নিয়ে দুই দলের মতভেদ স্পষ্ট হয়েছে৷

প্ল্যাটফর্ম: আঙ্গেলা ম্যার্কেল নিজের মতো করে একদিকে যেমন সিডিইউ-র মূল্যবোধ রক্ষা করেছেন, আবার ভেঙেছেনও৷ অর্থনীতিকে শৃঙ্খলায় রাখতে ভোটাররা তার উপর আস্থা রাখে৷ তিনি এখনো সমলিঙ্গের বিয়ের বিরুদ্ধে৷ তবে অভিবাসীদের প্রতি উদার দৃষ্টিভঙ্গি সিডিইউ-র সাধারণ প্রবণতার ব্যতিক্রম৷

সম্ভাব্য জোটসঙ্গী: এফডিপি, এসপিডি, সবুজ দল

সামাজিক গণতন্ত্রী দল (এসপিডি)

রং: লাল

চেয়ারপার্সন: মার্টিন শুলৎস

চ্যান্সেলর প্রার্থী: মার্টিন শুলৎস

২০১৩ সালের সংসদ নির্বাচনের ফল: ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ (৬৩০ আসনের মধ্যে ১৯৩ আসন)

সদস্য সংখ্যা: ৪ লাখ ৪০ হাজার

ভোটার: এসপিডি ঐতিহ্যগতভাবেই শ্রমজীবী মানুষের দল৷ ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে সংগঠিত শ্রমিকরাও এই দল করে৷ পশ্চিম জার্মানির ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে এই দলটির শক্ত ভিত রয়েছে৷

ইতিহাস: এসপিডি জার্মানির সবচেয়ে পুরাতন রাজনৈতিক দল৷ ১৮৭৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়৷ বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে এটি বাম আন্দোলন, ট্রেড ইউনিয়ন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং কমিউনিস্টদের ছাতা সংগঠন হিসাবে কাজ করে৷ তবে ১৯১৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অফ জার্মানি (কেপিডি) প্রতিষ্ঠিত হলে এসপিডি পাকাপাকিভাবে সংস্কারবাদীদের দলে পরিণত হয়৷

এই দল থেকে নির্বাচিত ভিলি ব্রান্ট ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন৷ এর আগে সিডিইউ-র সঙ্গে জোট সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় যুদ্ধ পরবর্তী পূর্ব ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রেখে আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম কুড়ান তিনি৷

৬৭ বছরের মধ্যে ২১ বছর দলটি জার্মানির নেতৃত্ব দেয়৷ মোট ৩৪ বছর ক্ষমতার অংশীদার হিসাবে ছিল৷

প্ল্যাটফর্ম: দলটি সব শক্তিশালী সামাজিক অবকাঠামোয় সক্রিয়৷ এই দলই জার্মানিতে প্রথম ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে৷ ২০১৫ সালে এসে ৮ দশমিক ৮৪ ইউরো৷

তবে দলটি এখন সামাজিক ন্যায় বিচার ও কর পুনঃনির্ধারণের মতো ইস্যুগুলোর দিকে যাচ্ছে৷

সম্ভাব্য জোটসঙ্গী: সিডিইউ, সবুজ দল, বামদল 

                                                    

বামদল

রং: লাল (এসপিডির সাথে পার্থক্য বোঝাতে নির্বাচনে কখনো কখনো ম্যাজেন্ডাও ব্যবহার করে)

চেয়ারপিপল: কাটিয়া কিপিং, ব্যার্ন্ড রিকসিঙ্গার

চ্যান্সেলর প্রার্থী: সারা ভাগেনক্নেশ্ট, ডিটমার বার্টশ

২০১৩ সালের সংসদ নির্বাচনের ফল: ৮ দশমিক ৬ শতাংশ (৬৩০ আসনের মধ্যে ৬৪ আসন)

সদস্য সংখ্যা: ৬০ হাজার

ভোটার: সাবেক পূর্ব জার্মানির প্রদেশগুলোতে বামদল বেশ শক্তিশালী৷

ইতিহাস: যদিও বামদল ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, কিন্তু এর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে৷ এটাকে সমাজতান্ত্রিক ঐক্য দলের (এসইডি) সরাসরি বংশধর বলে মনে করা হয়৷ দলটি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পূর্ব জার্মানি শাসন করেছে৷

এসইডির উত্তরসূরি পিডিএস, ডব্লিউএএসজি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দল গঠিত হয়৷ কল্যাণ কর্মসূচী কেটে ফেলার পর সাবেক চ্যান্সেলর শ্র্যোডারের দল থেকে বের হয়ে ডব্লিউএএসজি গঠিত হয়৷

পূর্ব জার্মানিতে একনায়কতন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকায় মূল ধারার অন্য দলগুলো এই দলকে কিছুটা এড়িয়েই চলে৷ এ কারণে অন্য কারো সঙ্গে দলটির জোটও হয়নি৷ তবে রাজ্য পর্যায়ে শাসন করার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে৷

প্ল্যাটফর্ম: জার্মান সংসদে বর্তমানে বড় বিরোধি দল৷ এই দলই জার্মানির একমাত্র বড় দল, যারা বিদেশে জার্মানির সামরিক মিশন পাঠানোর বিপক্ষে৷ তারা ন্যাটো ভেঙে দিতে চায়৷ তারা ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১০ দশমিক ৬০ ইউরোতে উন্নীত করতে চায়৷

অনেকে মনে করেন, এই দলটি পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে উল্টে ফেলতে চায়৷ তবে দলটি বলছে, তারা কেবল বাজারের উপর আরো অধিক নিয়ন্ত্রণ চায় এবং সামাজিক বিনিয়োগ বাড়াতে চায়৷

সম্ভাব্য জোটসঙ্গী: এসপিডি, সবুজ দল

সবুজ দল

রং: সবুজ

চেয়ারপার্সন: চেম ও্যজদেমির, সিমোনে পেটার

চ্যান্সেলর প্রার্থী: চেম ও্যজদেমির, কাটরিন গ্যোরিং-একার্ড

২০১৩ সালের সংসদ নির্বাচনের ফল: ৮ দশমিক ৪ শতাংশ (৬৩০ আসনের মধ্যে ৬৩ আসন)

সদস্য সংখ্যা: ৬০ হাজার

ভোটার: এই দলের মূল সমর্থকদের মূল অংশ শহুরে উচ্চ-শিক্ষিত৷ পশ্চিম জার্মানির যে শহরগুলোতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, সেখানে তাদের অনেক সমর্থন রয়েছে৷ বর্তমানে দলটি শ্রমজীবী মানুষকেও আকৃষ্ট করছে৷

ইতিহাস: যুদ্ধ পরবর্তী জার্মানির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রথাবিরোধি আন্দোলন গড়ে তোলার সাফল্য গ্রিন পার্টির৷ এটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়৷ দলটি আনবিক শক্তির বিরোধিতা থেকে শুরু করে সমকামীদের অধিকার– সবকিছু নিয়েই রাস্তায় নেমেছে, যার মধ্যে বড় জায়গাজুড়ে পরিবেশগত সুরক্ষার বিষয়টা ছিল৷

প্ল্যাটফর্ম: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা দলটিকে দু'ভাবে ভাগ করেন৷ রিয়েলোস – যারা সরকারে প্রভাব খাটাতে দলের উদ্দেশ্যে কিছুটা ছাড় দিতে রাজি আছেন৷ ফান্ডিস – যারা কোনো ছাড় ছাড়াই কাজ করতে চায়৷ তবে উদারপন্থিরাই ধীরে ধীরে দলের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় চলে যাচ্ছেন৷

সম্ভাব্য জোটজঙ্গী: এসপিডি

জার্মানির জন্য বিকল্প (এএফডি)

রং: হালকা নীল

চেয়ারপিপল: ফ্রাউকে পেট্রি, ইয়র্গ ময়টেন

প্রার্থী: টিবিডি

সদস্য সংখ্যা: ২৭ হাজার

ভোটার: দলটি সব বড় দল থেকেই কিছু কিছু ভোটার ভাগিয়ে নিচ্ছে৷ নিম্ন আয়– শিক্ষার মানুষ এই দলের মূল সমর্থক ভিত্তি৷ দলের সদস্যদের মাত্র ১৫ ভাগ নারী৷

২০১৩ সালের সংসদ নির্বাচনের ফল: ভোট ৪ দশমিক ৭ শতাংশ (৬৩০ আসনের মধ্যে দলটি কোনো আসন পায়নি)

ইতিহাস: ডানপন্থি এই জাতীয়তাবাদী দলটি ২০১৩ সালের নির্বাচনের মাত্র পাঁচ মাস পূর্বে প্রতিষ্ঠিত হয়৷ এতেই তারা  সংসদে প্রায় প্রবেশ করে ফেলেছিল৷ অবশ্য পরে সবগুলো রাজ্য সংসদেই তারা যেতে সক্ষম হয়৷ এমনকি ইউরোপীয় সংসদেও তারা প্রতিনিধি পাঠায়৷ ইউরোপের একক মুদ্রার বিরুদ্ধে সরব এক দল লোকের হাতে এই দল প্রতিষ্ঠিত হয়৷

জার্মানির কেবল এই দলটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং বৃটেনের ইইউ ত্যাগকে স্বাগত জানায়৷

প্ল্যাটফর্ম: এএফডি ইউরোপীয় সীমান্ত বন্ধ করে দিতে চায়৷ একইসঙ্গে তারা জার্মানির জাতীয় সীমানায়ও কঠোর তল্লাশি চালু করার পক্ষে৷ যেসব দেশের অভিবাসীরা জার্মানি যেতে চায়, তাদেরকে নিজ দেশে আটকে দিতে সেখানেই ক্যাম্প গড়তে চায় তারা৷ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন খারিজ হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশে পাঠিয়ে দেয়ার দাবি তাদের৷ তারা ঐতিহ্যগত জার্মান সংস্কৃতির উপর গুরুত্ব দেয়৷ ইসলাম জার্মান সংস্কৃতির অংশ নয় বলেও তাদের মত৷ জলবায়ু পরিবর্তনকে এরা মানবসৃষ্ট মনে করে না৷

সম্ভাব্য জোটসঙ্গী: কোনো দলই তাদেরকে সেভাবে বিবেচনা করে না৷ তবে তাদের পলিসি সিডিইউ'র সাথে মিলে যায়৷

মুক্ত গণতন্ত্রী  দল (এফডিপি)

রং: হলুদ

চেয়ারপার্সন: ক্রিস্টিয়ান লিন্ডনার

২০১৩ সালের সংসদ নির্বাচনের ফল: ৪ দশমিক ৮ শতাংশ (৬৩০ আসনের মধ্যে কোনো আসন পায়নি)

সদস্য সংখ্যা: ৫৪ হাজার

ভোটার: এই দলের অধিকাংশ সমর্থক ব্যবসায়ী, ডেন্টিস্ট, আইনজীবী প্রভৃতি স্বাধীন পেশায় নিযুক্ত৷ সমর্থকদের কিছু অংশ শ্রমিক৷

ইতিহাস: দলটি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়৷ ২০১৩ সাল পর্যন্ত সব সংসদেই তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল৷ তবে সর্বশেষ এই নির্বাচনে ৫ শতাংশের নীচে ভোট পেয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বহীন হয়ে যায় তারা৷ ৪১ বছর জোটবদ্ধভাবে তারা কেন্দ্রীয় সরকারে অংশ নেয়, যা যে কোনো দলের চেয়ে বেশি৷

প্ল্যাটফর্ম: ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারই এই দলের মূল কর্মসূচি৷ কর কমানোর জন্যও তারা প্রচারণা চালায়৷ তাদের সর্বশেষ ইশতেহারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার বিষয় ছিল৷

সম্ভাব্য জোটসঙ্গী: সিডিইউ

জার্মানির রাজনৈতিক দল নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷ আমরা উত্তর দেবো...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়