1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

জার্মানির এখন ঠিক যা প্রয়োজন

ইদানীং জার্মানির আচরণের মধ্যে বেশ কিছু পরস্পরবিরোধী অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ শরণার্থীদের জন্য সহায়তার পাশাপাশি হিংসার ঘটনাও ঘটছে৷ ফেলিক্স স্টাইনার মনে করেন, অবশেষে চ্যান্সেলর ম্যার্কেল এ বিষয়ে মুখ খুলে ভালো কাজ করেছেন৷

গত দুই সপ্তাহ আগে গোটা বিশ্ব জার্মানির মানুষের মতিগতি জানতে পেরেছে৷ নামকরা এক প্রতিষ্ঠান ৫০০টি জনমত সমীক্ষার ফলাফলের এক সংকলন প্রকাশ করেছে৷ তার অনেক অংশ পড়লে হাসি পেতে পারে৷ যেমন জার্মানরা কুকুরের তুলনায় বিড়াল বেশি ভালোবাসে৷ বিয়ারের তুলনায় তারা ওয়াইন পান করতেই পছন্দ করে৷ বাইরে নয়, বাড়ির মধ্যেই তারা উৎসব পালন করতে চায়৷ জার্মানদের সম্পর্কে অনেক প্রচলিত ধারণাই ভুল বলে তুলে ধরা হয়েছে এই সমীক্ষার ফলাফলে৷ তবে একটি বিষয়কে ঘিরে অস্বস্তি রয়ে গেছে৷ সমীক্ষায় একটি বাক্য সম্পর্কে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল৷ আর তা হলো, ‘জার্মানির বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাই এ পর্যন্ত সেরা'৷ মাত্র তিনটি রাজ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষ এ বিষয়ে একমত৷ জার্মানির পূর্বাঞ্চলের তিনটি রাজ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ একমত পোষণ করে৷ পশ্চিমের তিনটি জনবহুল রাজ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ এই বাক্যটি মেনে নিতে প্রস্তুত৷

Felix Steiner

ফেলিক্স স্টাইনার, ডয়চে ভেলে

অনেকেই মৌলিক মূল্যবোধ আত্মস্থ করেনি

এই সমীক্ষার একটি দুর্বলতা অবশ্য স্পষ্ট৷ যারা বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সন্তুষ্ট নয়, তারা ঠিক কী ধরনের শাসন ব্যবস্থা চায়? – জার্মানির সম্রাট, ‘ফ্যুয়রার' বা নাৎসি শীর্ষ নেতা, নাকি কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতার হাতে তারা ক্ষমতা তুলে দিতে চায়? এই প্রশ্নটিও করা উচিত ছিল৷ তবে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে, সেটা হলো – জার্মানির অসংখ্য মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রের এক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে৷ সে কারণে তারা সেই রাষ্ট্রের মূল্যবোধের সঙ্গেও তেমন একাত্ম বোধ করে না৷

স্যাক্সনি রাজ্যের হাইডেনাউ শহরে এই মুহূর্তে সেটা অত্যন্ত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে৷ সেখানে উগ্র দক্ষিণপন্থিরা বহিরাগত শরণার্থীদের দিকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও আতশবাজি ছুড়ছে এবং সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে সেই দৃশ্য দেখছে এবং কার্যত নীরব সমর্থন জানিয়ে চলেছে৷ অসহায় মানুষের উপর হিংসাত্মক হামলা চলছে, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে৷ তাদের মধ্যে অনেকে ভয়াবহ যুদ্ধের নারকীয় পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে এসেছে৷

সমস্যাটা শুধু একটি শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়৷ জার্মানির অনেক অঞ্চলে গত ৪৮ ঘণ্টায় শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে৷ এই অবস্থায় জার্মান চ্যান্সেলর বুধবার হাইডেনাউ সফর করছেন৷ এটা সত্যিই সুখবর৷ গত সপ্তাহান্ত থেকে এই শহরটি ঘৃণা ও চরম দক্ষিণপন্থি হিংসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

আঙ্গেলা ম্যার্কেল বুদ্ধিমতী হলে তিনি তাঁর ভাইস চ্যান্সেলর সিগমার গাব্রিয়েল-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন না৷ গাব্রিয়েল সোমবার হাইডেনাউ গিয়ে ঢালাওভাবে সব বিক্ষোভকারীদের একই পাত্রে ঢেলে তাদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেছেন৷ আবেগের ভিত্তিতে এমন প্রতিক্রিয়া অপ্রত্যাশিত নয় – কিন্তু একই সঙ্গে অর্থহীন৷ কারণ গালি দেওয়ার অর্থ বিচ্ছিন্ন করা, সরিয়ে দেওয়া৷ জার্মানির সামনে এই মুহূর্তে বিশাল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে রয়েছে৷ এই কাজে নাগরিকদেরও মন জয় করতে হবে৷ বিশেষ করে সেই সব মানুষকে, যাঁরা এতকাল উদাসীন ছিলেন৷

চ্যান্সেলরকে মানুষের মন জয় করতে হবে

এ কারণে আঙ্গেলা ম্যার্কেলকে কথা বলতে হবে, আবেগ-অনুভূতি দেখাতে হবে৷ সবার আগে ভীত শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে৷ তারপর সাহায্যকারীদের সঙ্গে – যাঁদের অনেকে পেশাদারী ভিত্তিতে কাজ করছেন, অনেক স্বেচ্ছাসেবীও তাঁদের মধ্যে রয়েছেন৷ হাইডেনাউ শহরের সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলতে হবে, যাঁদের মনে অনেক সন্দেহ ও সংশয় রয়েছে৷

ম্যার্কেল-এর সফর সফল হলে শহরের সাধারণ মানুষের চিত্তে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে৷ জনপ্রিয় ‘বিল্ড সাইটুং' সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে এমন চিত্তশুদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ ‘শরণার্থীদের বন্যা' বা ‘শরণার্থীদের ডেউ'-এর মতো শব্দ আচমকা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ তার বদলে শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘শরণার্থীদের সহায়তা – আমি এখন কী করতে পারি'৷ এই মুহূর্তে জার্মানির ঠিক এই সুরের প্রয়োজন রয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়