1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানির অবহেলিত শিশুরা

জার্মানির ‘ইউগেন্ডআম্ট’ বা শিশু কল্যাণ দপ্তরগুলো প্রতিবছর অবহেলিত বা নিপীড়িত শিশুদের তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে ইয়ং পিপল্স হোমে রাখে৷ সেটাই হয়তো সঠিক পন্থা, বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷

জার্মানিতে সম্প্রতি শিশুহত্যা, অপরদিকে দুধের শিশুদের নির্মম অবহেলা করার একাধিক ঘটনা শুধু ইয়েলো প্রেসকেই নয়, গোটা সমাজ ও সেই সঙ্গে রাজনীতিকেও সচকিত ও আলোড়িত করেছে৷ আনা নামের একটি ছোট মেয়েকে তার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যে দম্পতির কাছে রাখা হয়েছিল, তাদের অবহেলায় সে বাথটবে ডুবে মারা যায়৷ কেভিন বলে একটি ছোট ছেলের লাশ তার সৎ বাবার রেফ্রিজারেটরে পাওয়া যায়৷ এ সব ঘটনা কোনো সাধারণ খবর নয়৷ জার্মানির মানুষ চেষ্টা করলেও সহজে এগুলো ভুলতে পারবে না৷

ফেডারেল পরিসংখ্যান কার্যালয়ের বিবরণ অনুযায়ী জার্মানির শিশুকল্যাণ দপ্তর ২০১২ সালে ৪০ হাজারের বেশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়েছে, যা কিনা একটা রেকর্ড৷ অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে ৪৩ শতাংশ৷ পরিবারে শিশু-কিশোরদের বিপদ ঘটার সম্ভাবনা দেখলে ‘ইউগেন্ডআম্ট' তাদের নিজের তত্ত্বাবধানে নিতে পারে৷ সাধারণত এটা সাময়িকভাবে করা হয় এবং পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে এলে শিশু-কিশোররা তাদের নিজেদের পরিবারে ফিরে যেতে পারে৷

Renate Schäfer-Sikora ACHTUNG SCHLECHTE QUALITÄT

রেনাটে শেফার-সিকোরা

যখন একা

জার্মানিতে অধিকাংশ বাবা-মায়েরা থাকেন চাপের মুখে – চাকুরির চাপ, দৈনন্দিন জীবনের চাপ, তার উপর আবার সন্তান প্রতিপালনের চাপ৷ তাঁদের পক্ষে সব সময়ে সেই চাপ সামলে ওঠা সম্ভব হয় না, বিশেষ করে কম বয়সের বাবা-মায়েদের পক্ষে৷ এ কথা জানিয়েছেন কোলোন শহরের ইউগেন্ডআম্ট-এর কর্মকর্তা রেনাটে শেফার-সিকোরা৷ তরুণ বাবা-মায়েরা আবার এই আধুনিক সমাজে সত্যিই একা; যৌথ পরিবারের সাহায্য তো দূরের কথা, যে শহরে কাজকর্ম এবং বাস, সেখানে হয়তো কোনো আত্মীয়স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধবের সাক্ষাৎ পাওয়াই ভার৷

কাজেই একা বোঝা সামলাতে হয়তো ধূমপান ও মদ্যপান বাড়ে, এমনকি মাদক সেবন৷ আসে মানসিক অবসাদ, বিষাদ, রোগ৷ সেই অনুপাতে পরিবারের শিশুদের জীবনও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে৷ বিশেষ করে যেখানে বাবা-মায়েরা নিজেরাই সবে কৈশোর ছেড়ে যৌবনে পা দিয়েছেন, তাদেরই সবার আগে ভেঙে পড়ার বিপদ থাকে, দেখেছেন রেনাটে শেফার-সিকোরা৷ তবে সব মিলিয়ে শিশুদের প্রতি অবহেলা কিংবা শিশু নিপীড়ন বেড়েছে বলে মনে করেন না তিনি৷

প্রতিবেশীদের নজর

যেটা বেড়েছে, সেটা হল সাধারণভাবে সমাজে শিশুদের কল্যাণ সম্পর্কে সচেতনতা, বলেন শেফার-সিকোরা৷ প্রতিবেশীরাই প্রথমে খেয়াল করেন যে, কোনো শিশুর চেহারা, পোশাক-আশাকে কোনো গোলমাল আছে৷ কোনো বাড়িতে হয়তো শিশুর কান্না থামছে না৷ প্রতিবেশীদের মধ্যে কেউ শিশু কল্যাণ দপ্তরে টেলিফোন করে ব্যাপারটা জানিয়ে দেন৷ তারপর ইউগেন্ডআম্ট লোক পাঠিয়ে খোঁজ নেয় এবং প্রয়োজনে সেই শিশুকে দূষিত পারিবারিক পরিবেশ থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় – তা সে সাময়িকভাবে হোক আর দীর্ঘমেয়াদি ভাবেই হোক৷

শিশুদের যৌন নিপীড়ন কিংবা অপব্যবহারের ক্ষেত্রেও তাই৷ মিডিয়ায় প্রকাশ্য রিপোর্টিং ও আলোচনার ফলে বিষয়টি অনেকদিন আগেই পারিবারিক ধোঁয়ান্ধকার থেকে বেরিয়ে এসেছে৷ আজ আর কিশোর-কিশোরীরা তাদের যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত খবরাখবর সোজা শিশু কল্যাণ দপ্তরকে জানাতে আগের মতো অতোটা দ্বিধা বোধ করে না৷ শুধু নিজেদের সম্পর্কেই নয়, বাবা-মায়ের সম্পর্ক, বিরোধ ইত্যাদি নিয়েও খোলাখুলি কথাবার্তা বলে এই কিশোর-কিশোরীরা৷

কাজেই জার্মানিতে ‘অনাথ' শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে, সরকারি খরচে তাদের ‘হোম'-এ রেখে মানুষ করতে হচ্ছে – এ ধরনের রগরগে শিরোনামের কোনো প্রয়োজন নেই৷ বাস্তবে ঘটনাটা যা ঘটছে, তা হলো এই যে, প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট শিশুদের এবং পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট বাবা-মায়েদের সাহায্য করা হচ্ছে৷ যার ফলে শেষমেষ উপকৃত হচ্ছে সমাজ ও সংস্কৃতি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়