1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানিতে স্বেচ্ছাসেবীদের ঐতিহ্য দু'শো বছরের

ভলান্টিয়ার, ভলান্টিয়ারি, জার্মানিতে যাকে বলে ‘এহরেনআম্ট', অর্থাৎ সাম্মানিক চাকুরি৷ জার্মানিতে লাখ লাখ মানুষ এভাবে বিনা বেতনে কাজ না করলে এখানে সমাজসেবা বা সমাজকল্যাণের চেহারা অন্যরকম হতো৷

কারা এই সব ভলান্টিয়ার? তাঁরা করেনই বা কি? ধরুন জার্মান রেড ক্রসের মতো কোনো ত্রাণ সংগঠনে প্যারামেডিক হিসেবে কাজ করেন৷ কিংবা স্থানীয় ফুটবল ক্লাবে ছোটদের ফুটবলের ট্রেনিং দেন৷ সারা জার্মানিতে প্রায় তিন কেটি মানুষ এভাবে স্বেচ্ছাসেবী বা ভলান্টিয়ার হয়ে কাজ করেন: মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ৷

খ্রিষ্টীয় প্রথা থেকে সূচনা

দীনদরিদ্রের সেবা করার প্রথাটা খ্রিষ্টধর্মের অঙ্গ৷ কিন্তু ১৭৮৮ সাল পর্যন্ত যে যার নিজের মতো ও ইচ্ছে অনুযায়ী দরিদ্রের সেবা করত৷ জার্মানিতে সংগঠিতভাবে দরিদ্রের সেবা শুরু হয় ঠিক ঐ সালে, স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে৷ হামবুর্গের ব্যবসায়ী কাস্পার ফোগ্ট দরিদ্রদের জন্য একটি আবাস প্রতিষ্ঠা করেন৷ দরিদ্রদের সাহায্য করাটা গোটা সমাজের কর্তব্য বলে মনে করতেন ফোগ্ট৷

ফোগ্টের বিশাল সংগঠনে মোট ২০০ স্বেচ্ছাসেবী কাজ করতেন: তাঁদের মধ্যে সেনেট এবং পৌরসভার সদস্য থেকে শুরু করে চিকিৎসক, শিক্ষক, সবাই ছিলেন৷ হামবুর্গের বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক সাহায্যের ব্যবস্থা করতেন তাঁরা৷ স্বেচ্ছাসেবীদের এই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা সরকারি কর্মসূচিকে পূর্ণাঙ্গ করে তুলবে: সেই ধারণা থেকেই আজকের ‘ওয়েলফেয়ার স্টেট'-এর জন্ম৷

Ehrenamt Picture Teaser

এহরেনআম্ট

রাজনীতির মেজাজ-মর্জি

১৮০৬ সাল৷ নেপোলিয়নের সেনাবাহিনী তখন সবে প্রাশিয়া জয় করেছে৷ প্রশিয়ার রাজা তৃতীয় ফ্রিডরিশ উইলহেল্ম তাঁর কেটে-ছেঁটে ছোট হয়ে যাওয়া, দুর্বল রাজ্যটাকে স্থিতি দিতে ব্যস্ত৷ সরকারের খরচ বাঁচাতে তিনি ধনি, সম্ভ্রান্ত নাগরিকদের পৌর প্রশাসনে অবৈতনিক চাকরি নিতে বাধ্য করেন৷ প্রাশিয়ায় পৌর প্রশাসন সংক্রান্ত অনুশাসনে ১৮০৮ সালে কথাটি প্রথম দেখতে পাওয়া যায়: ‘এহরেনআম্ট', সাম্মানিক দপ্তর কিংবা চাকুরি৷

ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি জার্মানিতে ‘ভেরাইন' বা সমিতির সংখ্যা বাড়তে থাকে: জনকল্যাণ সমিতি, খেলাধুলার সমিতি, মহিলা সমিতি, শ্রমিক সমিতি – যে কারণে জার্মানিতে তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে এই সংঘবদ্ধ সমিতি কালচারের একটা বিশেষ যোগ আছে৷ তবে এহরেনআম্টের বিপর্যয় ডেকে আনে নাৎসি অপশাসন৷ নাৎসিরা যখন ১৯৩৩ সালে ক্ষমতায় আসে, তখন তারা সমিতি ও ক্লাবগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলির মতোই বাতিল করে দেয়৷

নাৎসি আমলে শুধুমাত্র রণাঙ্গণে সৈন্যদের কল্যাণের জন্য – এবং কিছুটা দরিদ্রদের জন্য দান করার উপায় ছিল৷ কিন্তু তথাকথিত ‘শীতকালীন ত্রাণ কর্মসূচির' জন্য যারা চাঁদা তুলতে বেরতো, তাদের ঠিক ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবী বলা চলে না৷ ভলান্টিয়ার হতে, কিংবা চাঁদা দিতে অস্বীকার করার বিপদ ছিল৷ ক্ষেত্রবিশেষে অর্থদণ্ড এমনকি কারাদণ্ড দেওয়ারও ঘটনা ঘটেছে৷

Picture Teaser Einer für alle! Ehrenamt in Deutschland Fußballtrainer

স্বেচ্ছাসেবী ট্রেনার ফুটবল ক্লাবে ছোটদের ফুটবলের ট্রেনিং দেন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পঞ্চাশের দশকে আবার সেই সব পুরনো সমিতির দর্শন পাওয়া যায়, ভলান্টিয়ারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে চাঁদা তুলতে দেখা যায়৷ কিন্তু নাৎসি আমলের অভিজ্ঞতার পর জার্মানরা আজও চাঁদা তোলার এই পন্থা – কিংবা অন্য কোনোরকম পন্থা সম্পর্কে সন্দিহান৷ তাই সমিতির হয়ে চাঁদা তোলার কাজটা প্রয়োজনীয় হলেও, আজও সমাজে তার বিশেষ স্বীকৃতি নেই৷

এহেরেনআম্ট জিন্দাবাদ!

কিন্তু এহরেনআম্ট তার হৃত ‘এহরে', মানে ‘সম্মান' আবার ফিরে পেয়েছে: খেলাধুলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি, গির্জা কিংবা সমাজকল্যাণ, আর সেইসঙ্গে ভলান্টিয়ার ফায়ার ব্রিগেড, সর্বত্রই স্বেচ্ছাসোবীদের দেখতে পাওয়া যাবে৷ এমনকি আশির দশকে জার্মান শান্তি আন্দোলন কিংবা পরিবেশ আন্দোলনও এই স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগেই গড়ে উঠেছে৷

আর আজ? একবিংশ শতাব্দী মানে ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ৷ এ যুগে সমিতির জায়গা নিতে চলেছে ভলান্টিয়ার এজেন্সি৷ আজ আর মানুষের সময় নেই, সারা জীবনের উদ্যোগের পরিবর্তে আজ সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কোনো প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট হওয়াটাই হলো ‘ট্রেন্ড' কিংবা প্রবণতা৷ কিন্তু ইন্টারনেট যেমন মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রত্যক্ষ সংযোগের বিকল্প হতে পারে না, তেমনই এহরেনআম্ট আজও জার্মান সমাজে তার ভূমিকা পালন করে চলেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়