1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

জার্মানিতে সিরীয় শরণার্থীদের প্রতি সংহতি

একটি শিল্পীগ্রুপ ‘সেন্টার ফর পলিটিক্যাল বিউটি’ সিরীয় শরণার্থীদের প্রতি সংহতি জানানোর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে৷ তাদের দাবি, আরো বেশি সংখ্যায় সিরীয় শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া উচিত জার্মানির৷ এই উদ্যোগে সহায়তা করছেন মূলত দু’জন৷

default

জার্মানিতে আসা সিরীয় এক শিশু শরণার্থী

ইহুদি ধর্মাবলম্বী এই দুই ব্যক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনে আশ্রয় পাওয়ায় বেঁচে গিয়েছিলেন৷ তাঁদের মধ্যে একজন ইঙ্গে লামেল৷ তাঁর বয়স এখন ৯০৷ বসবাস করেন বার্লিনে৷ ছোটবেলায় ইংল্যান্ডে যেতে পেরেছিলেন বলে বেঁচে গিয়েছেন ইঙ্গে৷ মা-বাবা তাঁকে ও তাঁর বোনকে ১৯৩৯ সালে তথাকথিত শিশু পরিবহণের মাধ্যমে ব্রিটেনে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন৷ সেখানে এক পরিবার তাঁদের আশ্রয় দেয়৷ জার্মানি থেকে আসা ১০ হাজার ছেলে-মেয়ে এইভাবে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন৷ অন্যদিকে তাঁদের পরিবারের অধিকাংশই নিহত হয়েছিলেন৷

Künstlerkollektiv Politische Schönheit vor dem Kanzleramt Inge Lammel

৯০ বছর বয়সি ইঙ্গে লামেল

ইঙ্গের মা-বাবা আউশভিৎস-এ নিহত হন৷ নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেই তিনি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শিকার বাচ্চাদের সাহায্য করার উদ্যোগ নিয়েছেন৷

ইঙ্গে লামেল-এর সহযোদ্ধা কুর্ট গুটমানের বয়স ৮৭৷ ছোট বেলায় স্কটল্যান্ডে আশ্রয়ে পেয়েছিলেন বলে মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেয়েছেন৷ কিছুদিন আগে (১৬.৫.২০১৪) তাঁরা জার্মান চ্যান্সেলরের দপ্তরে তাঁদের দাবি জানাতে গিয়েছিলেন৷ ইঙ্গে লামেল ওয়াকারে ভর করে, কুর্ট গুটমান হুইল চেয়ারে করে৷ শারীরিক দিক দিয়ে কিছুটা ভেঙে পড়লেও সিদ্ধান্তে অটল তাঁরা৷ দৃঢ় চিত্তে ভবনটির দিকে এগিয়ে যান তাঁরা৷ চ্যান্সেলরের দু'জন কর্মচারী তাঁদের অভ্যর্থনা জানান৷

আরো বেশি শরণার্থী গ্রহণ করা উচিত

মানব দরদি এই দুই ব্যক্তির বার্তা ছিল: আরো বেশি করে সিরীয় শরণার্থী গ্রহণ করা উচিত জার্মানির

Künstlerkollektiv Politische Schönheit vor dem Kanzleramt Kurt Gutmann

৮৭ বছরের কুর্ট গুটমান

‘‘নাৎসি জার্মানি ছাড়তে পেরেছি বলেই ভাগ্যক্রমে আমরা বেঁচে গিয়েছি৷ আমাদের মা-বাবার মতো গ্যাস চেম্বারে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু বরণ করতে হয়নি'', বলেন ইঙ্গে লামেল৷

ব্রিটেনে সাদরে গ্রহণ করা হয়েছিল তাঁদের৷ এই অভিজ্ঞতা থেকে আজ তাঁর সিরিয়ার শরণার্থীদের পাশে এসে দাঁড়াতে চান৷ ‘‘নাৎসি অতীতের কারণে শরণার্থীদের উদারভাবে গ্রহণ করার ব্যাপারে দায়বদ্ধ জার্মানি'', বলেন কুর্ট গুটমান৷

‘‘আমরা চাই অন্ততপক্ষে ৭৫ হাজার সিরীয় শরণার্থী জার্মানিতে আশ্রয় পাক৷'' – এই দাবি গুটমানের৷ তাঁর মা-বাবাকে আজকের পোল্যান্ডের সবিবর নিধন শিবিরে হত্যা করা হয়৷

ব্রিটেনের জনগণ তাঁকে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে বলে তিনি কৃতজ্ঞ৷ তাঁর ভাষায়,‘‘আমাদের দেশের মতো একটি ধনী দেশের অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত৷ আর তাই এই সব মানুষকে জার্মানিতে আশ্রয় দেওয়া উচিত৷''

এই উদ্যোগটি শুরু করে ‘সেন্টার ফর পলিটিক্যাল বিউটি' নামে একটি শিল্পীগ্রুপ৷ কিছুদিন ধরে অভিনব কার্যকলাপের মাধ্যমে সাড়া জাগিয়েছে এটি৷

এ জন্য একটি নকল ওয়েবসাইটও তৈরি করা হয়েছে৷ এতে লেখা হয়েছে জার্মানির পরিবার বিষয়ক মন্ত্রী মানুয়েলা শোয়েসিশ সিরীয় শরণার্থীদের গ্রহণ করার ব্যাপারে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন৷ ৫৫ হাজার বাচ্চাকে জার্মান পরিবারে আশ্রয় দেওয়া হবে৷ উজ্জ্বল মুখে সিরীয় বাচ্চারা মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে৷ এই ধরনের নকল ছবিও ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে৷ দেখতে অবিকল আসলের মতো৷ উদ্যোগের মুখপাত্র জাইনা লিন্ডনার প্রকল্পটির নাম দিয়েছেন ‘হাইপাররিয়েলিটি'৷

তাঁর নিজের নামটিও আসল নয়, এটি শিল্পীনাম৷ ইরাক থেকে এসেছেন তিনি৷ আর এ কারণে সিরিয়ার মানুষদের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করেন তিনি৷ সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে চ্যান্সেলরের দপ্তরের সামনে সিরিয়ার পতাকা তুলে ধরেন তাঁরা৷

সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা

‘সেন্টার ফর পলিটিক্যাল বিউটি'-র পরিচালক ও সিরিয়ান অ্যাকশনের উদ্যোক্তা ফিলিপ রুখ৷ এই ধরনের অ্যাকশনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান তিনি৷

Ankunft Syrien-Flüchtlinge

জার্মানিতে আসা কয়েকজন সিরীয় শরণার্থীকে স্বাগত জানানো হচ্ছে

সিরিয়ার পরিবার ও বাচ্চাদের রক্ষা করার ব্যাপারে জার্মানির নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে৷ তবে তিনি কিছুটা হতাশ যে শিল্পীদেরই এক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে হচ্ছে, যেখানে সরকার অনেকটাই উদাসীন৷

বার্লিন অবশ্য ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে, ১০ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে গ্রহণ করা হবে৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে ৭৬ হাজার সিরীয় জার্মানিতে আসার জন্য আবেদন করেছেন৷ অর্থাৎ, এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার জন্য অদম্য আকাঙ্খা লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷

চ্যান্সেলর দপ্তরে হলোকস্ট বা ইহুদি নিধনযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া দুই বর্ষীয়ান ব্যক্তি তাঁদের অতীত সম্পর্কে বলছিলেন৷ তাতে এটাই স্পষ্ট হয়, বর্তমানের সঙ্গে এই পরিস্থিতির অনেক মিল রয়েছে৷ ‘‘এটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত'', বলেন রুখ৷ সামনের সপ্তাহগুলিতে আরো কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়