1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানিতে শিয়াল নিধন নিয়ে বিতর্ক

জার্মানির শিকারিরা প্রতি বছর হত্যা করে পাঁচ লাখেরও বেশি শিয়াল৷ তাদের যুক্তি, শিয়াল মেরে তারা পরিবেশের সাহায্য করছে৷ কিন্তু পরিবেশবাদীরা বলছেন, এটা অমানবিক এবং এভাবে প্রাণীদের স্বাভাবিক সংখ্যা বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে৷

default

প্রাণী অধিকার রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ

শিকারী মার্টিন রেমেলে৷ প্লাস্টিকের থলে থেকে এক টুকরো হরিণের মাংস বের করলেন৷ তারপর খুব সতর্কভাবে সেটিকে শিয়ালের গর্তের মুখে রাখলেন৷ তিনি বললেন, গত রাতে এখানে শিয়াল ছিল৷ সুতরাং, তার একদিন পরে আজ সন্ধ্যায় এখানে শিয়াল পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে৷

রেমেলের বয়স ৩৩ বছর৷ তিনি জীববিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক এবং একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক৷ জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কার্লসরুয়ে শহরের কাছে বনের একটি ছোট অংশে তাঁর শিকার করার অধিকার রয়েছে৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘বনে সময় কাটানো, প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসা, কোন পশুকে গুলি করে শিকার করা এবং সেটাকে রান্নাঘর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া – এসবকিছুর মধ্যে যে উত্তেজনা কাজ করে সেটিকে আমি পছন্দ করি৷''

গত বছর জার্মানিতে শিকারিরা ৫ লাখ ১২ হাজার লাল শিয়াল গুলি করে হত্যা করেছে৷ এদের বেশিরভাগকে হত্যা করা হয়েছে জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে৷ এ সময়টিকে জার্মানিতে ‘শিয়াল সপ্তাহ' বলা হয়৷ এসময় নির্বিচারে এই পশুদের হত্যা করা হয়৷

প্রাণী অধিকার এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন, এমন অনেক সংগঠন অনেকদিন ধরে চলে আসা এই রীতির বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন৷ এনএবিইউ পরিবেশবাদী সংগঠনের কার্লসরুয়ে'র প্রতিনিধি কার্স্টেন ভেবার ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘এমন যদি হয়, একটি শিয়াল দৌড়ে পালাচ্ছে এবং শিকারি সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালালো, শিকারি সেটা করতেই পারে৷ কিন্তু শিয়াল সপ্তাহে স্বল্প সময়ের মধ্যে যেভাবেই হোক এতগুলো শিয়ালকে মেরে ফেলতে হবে – এই লক্ষ্য নিয়ে তাদের শিকার করাটা মেনে নেওয়া যায় না৷''

অন্যদিকে, রেমেলে'র মতো শিকারিরা বলছেন, শিয়াল জংলি হাঁস বা খরগোশের মতো প্রাণীগুলোকে খেয়ে ফেললে কিংবা এরা মরে গেলে, এদের সংখ্যা কমে যাবে৷ কিন্তু শিয়ালের সংখ্যা সেই অনুপাতে কমবে না৷ তাই ইকোলজিক্যাল কারণে বা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য তাঁরা মূলত শিয়াল শিকার করেন৷

প্রতিবেদন: জান্নাতুল ফেরদৌস

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়