1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানিতে শিশু নির্যাতন: মা-বাবাই যখন অপরাধী

ফরেনসিক ডাক্তার মিশায়েল সোকস যখন ঘটনাস্থলে আসেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে৷ ইন্টেনসিভ কেয়ারে বড় বড় যন্ত্রপাতির মাঝখানে ছোট্ট এক অচেতন দেহ৷ তাঁর কাছে বিষয়টি পরিষ্কার, আর কখনও জ্ঞান ফিরবে না বাচ্চাটির৷

‘‘প্রায়ই বলা হয় শিশুটি সোফা থেকে পড়ে গিয়েছে৷ কিন্তু এটা হতে পারে না, একথা বলা হলে তখন আর একটি ব্যাখ্যা শুনতে হয়: বাচ্চাটি শেল্ফ বেয়ে উঠেছিল, তারপর ওপর থেকে পড়ে যায়৷''

ডা. মিশায়েল সোকসের কাছে এই ধরনের ব্যাখ্যা পরিচিত৷ তিনি বলেন, ‘‘২০ বছর আগে তরুণ সহকারী ডাক্তার হিসাবে ফরেনসিক বিভাগে যখন কাজ শুরু করি, তখন মনে হতো এ সব বিচ্ছিন্ন ঘটনা৷ কিন্তু তারপর মাঝে মাঝেই একই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকে৷''

বহু শিশুর ময়না তদন্ত করেছেন

আজ ডা. মিশায়েল সোকস বার্লিনের ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের ফরেনসিক ইন্সটিটিউটের পরিচালক৷ কর্মজীবনে ৮০টি শিশুর পোস্ট মর্টেম বা ময়না তদন্ত করেছেন তিনি৷ এইসব শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে৷ অনেক শিশু আবার নির্যাতনের ফলে প্রতিবন্ধীও হয়ে যায়৷

এক সময় সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যায় ডা. সোকসের৷ বিষয়টিকে জনসমক্ষে তুলে ধরতে চান তিনি৷ আর তাই সহকর্মী সাসকিয়া গুডাটের সঙ্গে এই সব অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লেখেন৷ শিরোনামটাও অর্থবোধক, ‘‘জার্মানি তার শিশুদের নির্যাতন করে''৷

Rechtsmediziner Michael Tsokos

ইওয়াখিম মার্শাল জানান,২০১২ সালে বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে ৩০,২০০ শিশুকে পরিবার থেকে বের করে আনা হয়েছে

অপরাধীরা প্রায় ক্ষেত্রেই নিকট আত্মীয়

অপরাধ বিষয়ক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জার্মানিতে সপ্তাহে তিনটি শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যায়৷ অপরাধীরা নিকট আত্মীয়: মা-বাবা কিংবা তাঁদের নতুন সঙ্গী৷ ২০১২ সালে ৩৪৫০টি শিশু অত্যাচারের শিকার হয়৷ তবে পুলিশ বিভাগের মতে পরিসংখ্যানের বাইরে থাকা সংখ্যাটা আরো বেশি৷

ডা. মিশায়েল সোকস ও সাসকিয়া গুডাট তাঁদের বইতে শিশুরক্ষা সমিতির সূত্র ধরে নির্যাতিত বাচ্চার সংখ্যা প্রতিবছর ২০০,০০০-এর মতো হবে বলে উল্লেখ করেন৷

মুন্সটার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইওয়াখিম মার্শালের মতে সংখ্যাটা উঁচু করে ধরা হয়েছে৷ তিনি মনে করেন, বিপদাপন্ন যে সব বাচ্চাকে পরিবার থেকে বের করে আনা হয়, তা থেকে সংখ্যাটা অনুমান করা হয়৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘২০১২ সালে বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে ৩০,২০০ শিশুকে পরিবার থেকে বের করে আনা হয়েছে৷''

মা-বাবারা সন্তাদের কঠোর সাজা দেন

পুলিশের এক সমীক্ষার ফলাফল থেকে জানা যায়, ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মা-বাবা প্রায়ই সন্তাদের কঠোর সাজা দেন৷

২০০০ সালের নভেম্বর মাস থেকে জার্মানিতে শিশু-অধিকার আইনত সুরক্ষিত৷ তাদের শারীরিক, মানসিক ও অবমাননাকর কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না৷ কিন্তু প্রায়ই পুলিশ ও যুব কল্যাণ দপ্তরের কর্মীরা আসার আগেই সহিংসতা চরমে ওঠে পরিবারে৷

সংশ্লিষ্ট দপ্তর হস্তক্ষেপ করলেও জার্মানিতে বাচ্চাদের অধিকার সবসময় নিশ্চিত করা যায় না, বলেন এই ফরেনসিক চিকিৎসক৷

Joachim Merchel

বার্লিনের ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের ফরেনসিক ইন্সটিটিউটের পরিচালক ডা. মিশায়েল সোকস

গণমাধ্যমেও প্রায়শ নির্যাতিত ও নিহত শিশুদের কথা উঠে আসে৷ এমনকি অনেক দিন ধরে পারিবারিক লাঞ্ছনার কথা যুব ও শিশু কল্যাণ দপ্তরকে জানানো সত্ত্বেও৷ কিছুদিন আগে ছোট্ট ইয়াগমুরের ঘটনা মানুষকে স্তম্ভিত করেছে৷ তিন বছরের মেয়েটি লিভারে আঘাত পেয়ে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মারা যায়৷ তদন্তে জানা যায় নিজের বাবার হাতেই গুরুতর আঘাতের সম্মুখীন হয়েছিল সে৷ এর আগেও বাচ্চাটিকে অত্যাচার করা হয়েছে বলে মা-বাবাকে সন্দেহ করা হয়৷ কিছুদিনের জন্য এক পালক মায়ের কাছে রাখাও হয় তাকে৷ কিন্তু তারপর আবার নিজের মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয় শিশুটিকে৷

মা-বাবা হতে হলে ‘লাইসেন্স'

শিশু নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে রাজনীতিবিদরাও এখন চিন্তাভাবনা করছেন৷ বার্লিন সিডিইউ-এর জেনেরাল সেক্রেটারি কাই ভেগনার হবু মা-বাবার জন্য ‘লাইসেন্স'-এর ব্যবস্থা করার কথা বলছেন৷ তাঁদের জন্য সন্তান লালন পালনের বিশেষ কোর্স প্রবর্তণের প্রস্তাব দিয়েছেন৷

ফরেনসিক চিকিৎসক সোকোস মনে করেন, এক্ষেত্রে আর্থিক প্রণোদনাও একটা বড় বিষয়৷ যে কারণে বিপদাপন্ন বাচ্চাদের যতদিন সম্ভব তাদের নিজেদের পরিবারে রাখা হয়৷

যুব কল্যাণ দপ্তরগুলি সমস্যা জর্জরিত পরিবারকে দেখাশোনার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়৷ আর এই সব প্রতিষ্ঠান ততদিনই অর্থ পেয়ে থাকে যতদিন বাচ্চারা তাদের নিজেদের পরিবারে থাকে৷ ‘‘অন্যকথায় বাচ্চাদের দুঃখ দুর্দশা থেকে অর্থ উপার্জন করা হয়'', বলেন ডা. সোকস৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়