1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

জার্মানিতে শিক্ষকরা কতটা শ্রদ্ধা পান?

জার্মানিতে শিক্ষকরা স্কুলের পড়ুয়াদের কাছে, তাদের বাবা-মায়েদের কাছ থেকে, সমাজের কাছ থেকে কতটা শ্রদ্ধা পান? স্কুলগুলিতে অবশ্যই উদার, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ – যার মূল্য দিতে হয় প্রধানত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের৷

২০১২ সালের আলেনবাখ স্টাডি নামধারী একটি জরিপ আজও জার্মানিতে শিক্ষকতার পেশা নিয়ে কথা উঠলেই উল্লেখ করা হয়৷ সেটি হলো আলেনবাখ ইনস্টিটিউট ফর ডেমোস্কোপির একটি জরিপ৷ সেই জরিপে জার্মানির সব ধরনের স্কুলের বেশ কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তাঁদের পেশার আদর্শগত ও বাস্তবিক দিকগুলির মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছিল৷

উত্তরদাতাদের ৪৯ শতাংশ বলেন যে, ছাত্র পড়ানো পাঁচ-দশ বছর আগে যা ছিল, আজ (অর্থাৎ ২০১২ সালে) তার চেয়ে অনেক বেশি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ৩৫ শতাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা অমনোযোগী; ৪৪ শতাংশ বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা শৃঙ্খলাবিহীন৷ বিত্ত ও শিক্ষার নিক্তিতে উচ্চবর্গের পরিবার থেকে যে সব ছেলেমেয়ে আসে, তাদের সঙ্গে নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের পার্থক্য ক্রমেই বেড়ে চলেছে, বলে জানান ৬০ শতাংশ শিক্ষক৷ অপরদিকে বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলি থেকে আসা ছেলে-মেয়েরা তাদের বাড়ির নানা সমস্যা স্কুলে বয়ে নিয়ে আসে৷ কাজেই শিক্ষক আর পড়ুয়াদের মধ্যে আসল সম্পর্ক হলো সন্দেহ আর অনাস্থার৷

তারপরে আছেন বাবা-মায়েরা৷ তাদের মধ্যে কিছু বাবা-মায়ের মতে শিক্ষকরা বড় বেশি সদয় ও সহিষ্ণু হয়ে পড়েছেন; সাজা না দিলে শৃঙ্খলা রক্ষা করা যায় না৷ আরেকদল বাবা-মায়ের মতে ছাত্র-ছাত্রীদেরই উচিত,তাদের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ঠিকমতো পড়াচ্ছেন কিনা, নিয়মিত তার মূল্যায়ন করা৷ অর্থাৎ অভিভাবকদের সাথে শিক্ষকদের সম্পর্কও সহজ নয়৷

এর ওপর যখন সাবেক সামাজিক গণতন্ত্রী গেরহার্ড শ্রোয়ডার-এর মতো রাজনীতিকরা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ‘‘ফাউলে জেকে'' বা ‘কুঁড়ের বাদশা' বলে অভিহিত করেন, তার ওপর বাজারে ধুয়ো ওঠে যে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সরকারি কর্মকর্তার মর্যাদা না দিয়ে, করণিকের মর্যাদা দেওয়া উচিত – যার ফলে তাদের মাসমাইনে প্রায় ৫০০ ইউরো কমে যাবে – তাহলে জার্মানিতে শিক্ষকতার পেশা যে তার প্রথাগত আকর্ষণীয়তা হারাচ্ছে, তা বলা বাহুল্য৷

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আরেকটি অভিযোগ হলো ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা বড় বেশি৷ সেই সঙ্গে শৃঙ্খলাহীনতা৷ সব মিলিয়ে বিশেষ করে ‘গিমনাজিয়ুম' বা হাইস্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে অসুখে পড়ার প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে বেশি, যার ফলে নাকি বছরে দশ লাখ ঘণ্টা ক্লাস বাতিল করতে হয়! ওদিকে শিক্ষাব্যবস্থা হল রাজ্য সরকারের অধীনে ও তারা আরো বেশি শিক্ষক নিয়োগ করতে অনিচ্ছুক৷

এ সব বলার পরেও প্রশ্ন থেকে যায়: তাহলে কি জার্মানির স্কুলগুলিতে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়েছে, না কমেছে? আসল উত্তর সম্ভবত এই যে, অন্য সব সমাজের মতোই জার্মান সমাজেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি শ্রদ্ধা নির্ভর করছে সাধারণভাবে সমাজে বয়ঃকনিষ্ঠরা বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কিরকম ব্যবহার করছে,তার উপর৷ সমাজে যদি শিশু-কিশোরদের দাপট, স্বাধীনতা, ঔদ্ধত্য, অভব্যতা বাড়ে, তবে তার ঢেউ শ্রেণিকক্ষ অবধি এসে পৌঁছবে বৈকি৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

মনে রাখতে হবে, জার্মানিতে শিক্ষকদের কোনো ধরনের শারীরিক শাস্তি দেবার অধিকার নেই৷ অথচ বিচ্ছিন্নতার সমাজে বিচ্ছিন্ন পরিবারবর্গের সন্তানরা আজ আরো বেশি করে এমন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ খোঁজে, যার কাছে তারা তাদের বয়ঃসন্ধিসুলভ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, ক্ষেত্রবিশেষে দুই সংস্কৃতির সংঘাত নিয়ে কথাবার্তা বলতে পারে – অথবা শুধুই উচ্ছৃঙ্খলতা করে তাদের বিষাদকে অভিব্যক্তি দিতে পারে৷ এ সবের বোঝা বইতে হয়, ধাক্কা সামলাতে হয় – শিক্ষককে৷

শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা বা অশ্রদ্ধা নয়, শিক্ষকের প্রতি আচরণ হলো এই কিশোর-কিশোরীদের মানসিক পরিস্থিতি, আশা-আকাঙ্খা-হতাশার মুকুর বা প্রতিবিম্ব৷ এ হলো যেন একটা রোগের লক্ষণ – সিম্পটম – বুদ্ধিমান ডাক্তার যা চেপে দেবার চেষ্টা না করে, বোঝার চেষ্টা করবেন৷ কিন্তু রোগনির্ণয়ের পর রোগ নিরাময়ের পদক্ষেপ নেবার দায়িত্বটা হবে শুধু চিকিৎসকের নয়, অভিভাবক, সমাজ, সরকার, সকলের৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়