1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানিতে রমজান মাসের সমস্যা

রমজান মাস শুরু হতে আর দেরি নেই৷ উপযুক্ত পরিবেশের অভাব সহ নানা কারণে জার্মানিতে মুসলিমদের জন্য রোজা রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে৷

default

জার্মানিতে তুর্কি বংশোদ্ভূত মানুষদের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশ রোজা রাখেন

সম্ভবত ১১ই অগাস্ট জার্মানিতে রমজান মাস শুরু হচ্ছে৷ বাংলাদেশ, ভারত সহ অনেক দেশেই বেশ ঘটা করে পালন করা হয় এই মাস৷ ইফতারিতে খাওয়ার জন্য বাজার ছেয়ে যায় ফলমুল, সেমাই, হালিম ইত্যাদি নানা সুস্বাদু খাবার-দাবারে৷ সন্ধ্যায় আলোকিত হয়ে ওঠে জনপদ৷ চারিদিকে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়ে৷

কিন্তু জার্মানি সহ পশ্চিমা দেশগুলিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে মুসলিমদের জন্য রমজান মাসের পরিবেশ একেবারেই আলাদা৷ একমাত্র মসজিদে গেলেই মানুষ পরস্পরের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উঠতে পারেন, রোজার শেষে একসঙ্গে ইফতারি করতে পারেন৷ জার্মানিতে মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ৪০ লক্ষ৷ তাঁদের মধ্যে অনেকেই রোজা রাখেন৷ কিন্তু কাজটা মোটেই সহজ নয় – যেমনটা বললেন আজিমা মুস্তফা ও হায়দার ওমর৷ তাঁরা প্রায় ১৩ বছর আগে সিরিয়া থেকে এসেছিলেন৷ এখন পাকাপাকিভাবে জার্মানিতে বসবাস করেন৷ আজিমা বললেন, ‘‘সিরিয়ায় প্রতি বছর আমি রোজা রাখতাম৷ কিন্তু গত বছর প্রথম বারের মতো আমি একটানা রোজা রাখতে পারি নি৷ কয়েক দিন রোজা রাখার পর সেটা আর সম্ভব হয় নি৷ সূর্যাস্ত হয়েছে অনেক দেরিতে৷ সেইসঙ্গে গরমও কম ছিল না৷ আমার আবার হাঁপানির সমস্যা রয়েছে৷ ফলে রমজান মাসের পুরোটা সময় জুড়ে রোজা রাখতে পারি নি৷''

হায়দারের অভিজ্ঞতাও খুব একটা আলাদা নয়৷ তিনি বললেন, ‘‘সিরিয়ায় থাকলে আমি অবশ্যই রোজা রাখি৷ কিন্তু এখানে রাখতে পারি না৷ খুব ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠি৷ আটটা থেকে নটার মধ্যে কাজে যেতে হয়৷ বেশ কঠিন জীবন৷ কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ করি, বেশ পরিশ্রম করতে হয়৷ থেকে থেকেই তেষ্টা পায়৷ তখন পানি খেতে হয়৷ রোজা রাখতে হলে আমাকে সারাদিন বাড়িতে থাকতে হতো৷ কিন্তু সেটা তো আর সম্ভব নয়৷''

No Flash Ramadan in Deutschland

মসজিদে গেলেই মানুষ পরস্পরের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উঠতে পারেন

জার্মানির দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এক মাসের জন্য কোনো ব্যতিক্রম ঘটানো মোটেই সহজ নয়৷ হায়দার যে সংস্থায় কাজ করেন, তার মালিক নির্মাণ কাজ চলার সময় এক মাসের জন্য কোনো কর্মীকে ছাড়তে পারেন না৷ হায়দারের স্ত্রী আজিমা কোলোন শহরে ছোট্ট একটি কাপড়ের দোকান চালান৷ তাঁকেই সব কাজ করতে হয়, কোনো কর্মী রাখার সামর্থ্য তাঁর নেই৷ ফলে সারাদিন ধরে তাঁকে পরিশ্রম করতে হয়৷ এই অবস্থায় খাওয়া দাওয়া বন্ধ রাখা কঠিন৷ তাছাড়া এমন বিচ্ছিন্নভাবে রোজা রাখতে হলে মনের জোরও কমে যায়৷ সিরিয়ায় থাকতে সবাই মিলে যখন রোজা রাখতেন, তখন আজিমার পক্ষে সারাদিন খাওয়া-দাওয়া না করে থাকতে অসুবিধা হতো না৷

রমজান মাসে মসজিদই হয়ে ওঠে জার্মানিতে বসবাসরত মুসলিমদের মিলনক্ষেত্র৷ ক্রেফেল্ড শহরের মসজিদের ইমাম আবদেল ওয়াহাব আলুই মনে করেন, এবছরেও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটবে না৷ তখন মসজিদে এমন সব মানুষকে দেখা যাবে, যাদের সারা বছর দেখা যায় না৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘রমজান মাসে মসজিদে মানুষের ঢল নামে, যেমনটা বছরের বাকি সময় দেখা যায় না৷ নারী-পুরুষ, ছোট-বড় – সবাই মসজিদে আসে৷ রোজা রাখার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ধর্মীয় দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়, যা সারা বছর ধরেই পালন করা উচিত৷ রমজান আসলে একটা স্কুলের মতো, যেখানে শেখানো হয় – কীভাবে সারা বছর সাচ্চা মুসলিম থাকা যায়৷ এর মধ্যে রয়েছে অন্যদের গালি না দেওয়া, মিথ্যা কথা না বলা, চুরি না করা – এমন সব শিক্ষা৷ বাকি মানুষের ধর্ম যাই হোক না কেন, প্রত্যেক মুসলিমের সর্বদা এই শিক্ষা মেনে চলা উচিত৷''

হায়দার ও তাঁর স্ত্রী আজিমা শারীরিক কারণে রোজা রাখতে পারেন না৷ কিন্তু মহম্মদ আল ইব্রাহিম অত সহজে দমে যাবার পাত্র নন৷ তিনি রমজান শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই মানসিক প্রস্তুতি শুরু করে দেন৷ ৪২ বছর বয়স্ক এই ডাক্তার প্রায় ২ দশক ধরে কোলোন শহরে বসবাস করছেন৷ প্রতি বছর তিনি রোজা রাখেন৷ তিনি বললেন, ‘‘চারিদিকে আমি মানুষজনকে দেখতে পাই, যারা খাওয়া-দাওয়া করছে৷ কোনো খাবারের দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময়ে খাবারের সুগন্ধ নাকে আসে৷ স্বাভাবিক কারণেই তখন আমার খেতে ইচ্ছে করে৷ রমজানের সময় আরেকটা সমস্যাও হয়৷ বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে জার্মানিতে রাস্তাঘাটে নারীদের যে অবস্থায় দেখা যায়, তার ফলে সংযম বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে৷''

মুসলিম হিসেবে রমজানের সময় রোজা না রাখা অনেকেই ভালো চোখে দেখে না৷ জার্মানিতে তুর্কি বংশোদ্ভূত মানুষদের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশ রোজা রাখেন বলে এক সমীক্ষায় জানা গেছে৷ তবে রমজান মাসে যাকাত দেওয়ার মতো বাকি কর্তব্যগুলি কতটা পালন করা হয়, সেবিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ