1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

জার্মানিতে মুসলমান মেয়েদের জন্য সাময়িকী

‘মুসলিম নারী’ বলতে ইউরোপে অনেকের মনেই ভেসে উঠবে মাথা স্কার্ফে ঢাকা বা বোরখা পরা মহিলার ছবি৷ এর জবাব দিতে জার্মানিতে বের হয়েছে মুসলমান নারীদের জন্য সাময়িক পত্র ‘ইমরাহ’৷

default

জার্মানিতে বসবাসরত মুসলিম নারী

মুসলিম মেয়েরা পরিবারের ভিতরে নানা অত্যাচার অবিচারের মুখে জীবন কাটাচ্ছে তা ফুটিয়ে তুলতে তৎপর বার্তা মাধ্যম৷ অথচ কোন মুসলমান নারী যদি ক্যারিয়ার, স্বামী-সংসার নিয়ে সুখে থাকে তা নিয়ে কোন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় না৷

‘ইমরাহ' সাময়িক পত্রিকার প্রথম কপির প্রচ্ছদে দেখা যাবে অত্যন্ত আধুনিক এক মুসলিম তরুণীর ছবি৷ গাড় নীল রঙের স্কার্ফ দিয়ে মাথা ডাকা, পরনে নীল বুটি দেওয়া পা-পর্যন্ত লম্বা পোশাক৷ ফ্যাশন শো-র মেয়েদের মতই পোজ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি৷ মেক-আপেরও কমতি নেই৷ চেহারায় আত্মবিশ্বাস ঝকঝক করছে৷

জার্মানিতে এই প্রথম মুসলিম বংশোদ্ভূত মেয়েদের জন্য কোন পত্রিকা বাজারে এসেছে৷ শুধু জার্মান নয় ইংরেজি বেশ কিছু প্রতিবেদনও ছাপা হয়েছে ইমরাহ-তে৷ এই প্রথম একটি পত্রিকাতে দুটি ভাষায় প্রতিবেদন লেখা হচ্ছে৷ যারা জার্মান জানে না তাদের জন্য ইংরেজি আর যারা ইংরেজি জানে না তাদের জন্য জার্মান প্রতিবেদন৷

‘ইমরাহ' আরবি শব্দ৷ এর অর্থ নারী৷ ইমরাহ সাময়িকীতে শুধু রান্না আর সাজ-গোজের বিষয় নিয়ে লেখালেখি করা হয় না বরং জার্মানিতে তথা ইউরোপে মুসলমানদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও উল্লেখ থাকে৷ জার্মান সমাজে তাদের একাত্ম হওয়ার ইস্যু নিয়ে বিতর্ক, তাদের বিভিন্ন সমস্যা – সবকিছুই তুলে ধরা হয়েছে ‘ইমরাহ'-তে৷

10. Tag der Offenen Moschee 2006 Moschee in Kreuzberg

মুসলিম নারীদের সুখি জীবনের ছবি তুল ধরবে ‘ইমরাহ'

‘ইমরাহ'-র সম্পাদক কোন আরব বা তুর্কি নারী নন৷ তিনি একজন জার্মান নারী – সান্ড্রা আডেওয়ে৷ সান্ড্রার মা জার্মান আর বাবা নাইজেরিয়ার৷ তিনি মুসলিম নারীদের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর৷ কারণ তিনি দেখেছেন, অনেক মুসলমান মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে স্বামী সংসার নয় বরং চাকরি বা ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে৷ তারা নিজেদের আরব বা তুর্কি হয়ে থাকার চেয়ে জার্মানই মনে করছে বেশি৷ বেশ জোর দিয়েই তারা জানাচ্ছে, তারা জার্মান, জার্মানি তাদের দেশ, জার্মান তাদের মাতৃভাষা৷

সান্ড্রা আডেওয়ে আধুনিক মুসলমান নারীর ছবি তুলে ধরতে চান সবার সামনে৷ তিনি জানান, ‘‘ বিভিন্ন ধরণের পত্র-পত্রিকা এবং প্রচার মাধ্যমগুলোতে ইসলাম ধর্মকে শুধু তুলে ধরা হয় নেতিবাচকভাবে৷ আমি তা পাল্টাতে চাই৷ মুসলিম মেয়ে মানেই জোর করে তাঁকে হিজাব পরানো হয়েছে – আমি বলতে চাই তা সত্যি নয়৷ আমি এসব মহিলাকে সাহায্য করতে, আমি ইসলাম ধর্মের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে চাই৷''

অল্প সংখ্যক কিছু সহকর্মী নিয়ে সম্পাদিকা সান্ড্রা শুরু করেছেন তাঁর যাত্রা৷ ইসলাম ধর্ম নিয়ে তথাকথিত যে সব বিশ্বাস এবং ধারণা প্রচলিত তা তিনি ভাংতে চান৷ মুসলিম দেশগুলোতে যে সব বিষয় নিয়ে কথা বলা নিষিদ্ধ তা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন৷ ইমরাহ-র প্রচ্ছদের মেয়েটির মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন একটি মেয়ে একই সঙ্গে অত্যন্ত আধুনিক এবং অত্যন্ত ধার্মিক হতে পারে৷ সান্ড্রা আরো বলেন,‘‘ ইমরাহ অত্যন্ত আধুনিক একটি পত্রিকা একারণেই যে, এখানে আধুনিক জীবন-যাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বলা হয়েছে৷ আগে দেখা যেত একটি মেয়ে কোন রকমে স্কুল শেষ করে অপেক্ষা করছে কবে তার বিয়ে হবে, স্বামী হবে এবং সংসার নিয়ে সে মেতে থাকবে৷ দিন পাল্টেছে৷ এখন কোন মেয়েই এভাবে নিজেকে দেখে না৷ আমরা বেশ কিছু মহিলার সাক্ষাৎকার তুলে ধরেছি যারা পেশাগত জীবনে অত্যন্ত সফল৷ তারা কোন ধরণের চাপ বা বৈষম্যের সম্মুখীন হননি তাদের জীবনে৷ এসব মহিলাই অন্যান্যদের স্বাবলম্বী হতে প্রেরণা যোগাবে বলে আমাদের বিশ্বাস৷''

‘ইমরাহ' সাময়িকী শুধু ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেনা যাচ্ছে৷ ইমরাহ-র প্রথম কপি ছাপা হয়েছে আড়াই হাজার৷ এর পাশাপাশি এসেছে ইন্টারনেট অর্ডার৷ তবে সম্পাদিকা আশাবাদী৷ কিছুদিনের মধ্যে ইমরাহ যে কোন পত্রিকার দোকানেও পাওয়া যাবে৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়