1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

জার্মানিতে বিদেশি বিদ্বেষের রেশ আজও কি সুপ্ত?

ঠিক ২০ বছর আগে, অর্থাৎ ১৯৯৩ সালের ২৯শে মে জার্মানির সোলিঙেন শহরে বিদেশিদের উপর উগ্র দক্ষিণপন্থিদের হামলার এক ভয়াবহ ঘটনা গোটা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল৷ দুই দশক পরে জার্মানি আজ কোথায় দাঁড়িয়ে?

Ausländer raus und Hakenkreuz. Fremdenfeindliche Graffiti an der ehemaligen Polizeiwache in Solingen-Wald. Coypright: Heinz Siering/1992.

Reportage Solingen Fremdenfeindlichkeit

ভয়াবহ সেই দিনটির কথা মনে হলে আজও শিউরে ওঠেন সেচিল চাকিচি৷ ‘‘এই ঘটনার শিকার আমিও তো হতে পারতাম৷'' এইভাবে প্রকাশ করেন তিনি মনের কথা৷

‘‘আমরা আতঙ্কে মাটিন নীচে সেলারে লুকিয়েছিলাম৷ ঘটনার পর এক সপ্তাহ বাচ্চাদের স্কুলে আনা নেওয়া করতাম আমরা৷'' ২০ বছর পর সোলিঙেন শহরের সেই ভয়ানক ঘটনার স্মৃতি চারণ করে জানান আরেক জন, মাইডে কুলাক৷

ভয়াবহ দিনটি

সোলিঙেন ১৯৯৩ সালের ২৯ মে৷ অন্যান্য দিনের মতই একটি দিন ছিল গেঞ্চ পরিবারের জন্য৷ হঠাৎ রাতের আঁধারে আগুন লেগে তছনছ হয়ে যায় সব কিছু৷ তুর্কি বংশোদ্ভূত গেঞ্চদের বাড়িটিতে আগুন লাগিয়ে দেয় বর্ণবাদী সন্ত্রাসীরা৷ মর্মান্তিক ভাবে মারা যায় পাঁচ জন৷ এর আগে বেশ কিছুদিন ধরেই জার্মানির পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে নব্য নাৎসিদের তাণ্ডব ও হামলার কথা শোনা যাচ্ছিল৷ সোলিঙেন-এ আগুন লাগানোর মধ্য দিয়ে পশ্চিমাঞ্চলে এসে পড়ে বিদেশি বিদ্বেষের ঢেউ৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিদেশিদের ওপর জঘন্যতম হামলা ছিল সেটি৷

এই ঘটনার পর আশেপাশের তুর্কি পরিবাররা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন৷ দরজার নেমপ্লেটে তুর্কি নাম বদলে ফেলেন৷ বাচ্চাদের বাইরের কাপড় চোপড় পরিয়ে বিছানায় পাঠানোর অভ্যাস করেন৷ যদি দ্রুত পালাতে হয়৷ সবাই বাড়িতে অগ্নিপ্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে মাথা ঘামাতে শুরু করেন৷ যাতে আগুন লাগলে তাড়াতাড়ি নেভানো যায়৷

আজও ভয় কাটেনি

আজ ঘটনার ২০ বছর পরও ভয় কাটেনি তাদের৷ সোলিঙেন-এর তুর্কি বংশোদ্ভূত মেয়েরা নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ করেন, করেন ভাবের আদান প্রদান৷ ‘‘এই আতঙ্ক নিয়ে তো বেশিদিন থাকা যায় না৷'' বলেন এই আসরের একজন সেচিল চাকিচি৷ মাথা নেড়ে সায় দেন আইলা উজুন৷ পেশাশিক্ষা স্কুলের শিক্ষিকা তিনি৷ স্থানীয় রাজনীতিতেও সক্রিয়৷ ঐ ঘটনার পর অভিবাসীদের মধ্যে যে প্রচণ্ড ভীতি বিরাজ করছিল, তা লক্ষ্য করেছেন তিনি৷ ‘‘আবার এরকম কিছু ঘটতে পারে, এই ভয়টি এখনও রয়ে গেছে৷'' জানান আইলা উজুন৷ কোথাও এই ধরনের দুর্ঘটনায় তুর্কি পরিবার জড়িত থাকলে আঁতকে ওঠেন আইলা৷ মনে মনে দোয়া করেন, ঘটনাটি যেন যান্ত্রিক কোনো গোলযোগ থেকে হয়, বর্ণবাদী আক্রমণ থেকে নয়৷

চাঞ্চল্যকর নব্য নাৎসি মামলার শুনানি শুরু হওয়ায় বর্ণবাদ ও বিদেশি বিদ্বেষের বিষয়টি আবার সামনে চলে আসে ভুক্তভোগীদের৷ উল্লেখ্য বিদেশি ও অভিবাসীদের হত্যায় মেতে উঠেছিল জার্মানির পূর্বাঞ্চল সুইকাউ শহরের তিন জার্মান নব্য নাৎসি, দু'জন তরুণ ও একজন তরুণী৷ সেই সাথে ব্যাংক ডাকাতিও চালাতো তারা৷ ১০ বছর পর ধরা পড়ে তাদের এই অপতৎপরতা৷ এতদিন কী করে তারা চোখের আড়ালে থাকতে পারলো তা বুঝে উঠতে পারেননা আইলা উজুন৷ ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন করেন তিনি, ‘‘কর্তৃপক্ষ কী করছিল, যারা আমাদের করের টাকায় চলে?''

নাগরিকত্ব নিলেও বৈষম্য থাকে

অনেক দিন আগেই জার্মান নাগরিকত্ব নিয়েছেন আইলা উজুন৷ মাইডে কুলাকেরও আছে জার্মান পাসপোর্ট৷ ১২ বছর বয়সে জার্মানিতে এসেছেন তিনি৷ জার্মান ভাষাটা রপ্ত করার জন্য বাবা-মা প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পাঁচ বছর পড়িয়েছেন তাঁকে৷ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ওষুধের দোকানের সহকারী হিসাবে৷ তবু নিজেকে তিনি একজন মুসলমান জার্মান বলে মনে করেন মাইডে৷

আইলা উজুনও লক্ষ্য করেছেন, নাম, চেহারা, পোশাক আশাক, ধর্ম, ভাষা ইত্যাদির কারণে মানুষ কীভাবে বৈষম্যের শিকার হয়৷ ‘‘আমি নিজে কোনো হেজাব পরি না৷ কিন্তু কাউকে হেজাব দিয়ে বিচার করি না, যা এই সমাজের অনেকেই করে থাকে৷ তবে আমি যে কোনো কট্টরপন্থার বিরোধী৷ এ দেশে থাকতে হলে তো আমি আমার নামকে বদলাতে পারবো ন৷'' আক্ষেপ করে বলেন আইলা৷

Reportage Solingen Fremdenfeindlichkeit

সোলিঙেন-এর তুর্কি বংশোদ্ভূত মেয়েরা নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ করেন, করেন ভাবের আদান প্রদান

নামের কারণে প্রত্যাখ্যান

সেচিল চাকিচির ছেলেকে এই নামের কারণেই বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে৷ সেচিল জানান, ‘‘আমার ছেলে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য নানা জায়গায় আবেদন করেছিল৷ কিন্তু প্রত্যেক বারই প্রত্যাখ্যান পত্র পায়৷ যখন সে জার্মান নাম নিয়ে আবেদনপত্র পাঠালো, তখনই তাকে ইন্টারভিউর জন্য ডাকা হলো৷''

সোলিঙেনে ১৩০ জাতির লোকজন বসবাস করেন৷ ‘‘জার্মানিতে জন্ম নেয়া ৪০ শতাংশ ছেলেমেয়ে বিদেশি বংশোদ্ভূত৷'' আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানান তুর্কি মহিলা সমিতির আইলা উজুন৷ অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ছে এখানে৷ জার্মানিরও প্রয়োজন রয়েছে এই সব মানুষকে৷ কেননা দেশটিতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে টানাটানি চলছে কর্মক্ষম মানুষের৷ তাই এখনই চিন্তাভাবনা করতে হবে, কীভাবে জার্মানির সকল মানুষ মিলেমিশে থাকতে পারে৷ সবাই পরস্পরের পাশে এসে দাঁড়াতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন