1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

জার্মানিতে বইবিক্রেতা পেশাটাই বিপন্ন

ফ্রাংকফুর্ট বইমেলার কল্যাণে প্রসঙ্গটি নিয়ে প্রতিবছরই কিছুটা হৈচৈ হয়৷ মেলা কেটে গেলে মানুষজন আবার অনলাইনে বইয়ের অর্ডার দেয়৷ অন্যদিকে বইয়ের দোকানদাররা কবে স্থায়ীভাবে ঝাঁপ বন্ধ করবেন, তাই নিয়ে চিন্তা করেন৷

জার্মানির বইয়ের দোকানদারদের কাছে সংকট একটা স্থায়ী পরিস্থিতি, বহু বছর ধরেই চলেছে৷ গোড়ায় টালিয়া, হুগেনডুবেল কিংবা ভেল্টবিল্ড-এর মতো বইয়ের চেনস্টোর-গুলো গোটা দেশটাকে ছেয়ে দেয় একটির পর একটি ব্রাঞ্চ খুলে: যার অর্থ দাঁড়ায়, জার্মানির সব বইয়ের দোকানগুলোর বিক্রির প্রায় ৯০ শতাংশই চলে যায় এই চেনগুলোর হাতে৷

কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে এই বড় চেনস্টোরগুলোর অবস্থাই কাহিল, কেননা গ্রাহকরা ক্রমেই আরো বেশি সংখ্যায় অনলাইন পদ্ধতিতে বই কিনছেন৷ ওদিকে বইয়ের চেনস্টোর আর অনলাইন সরবরাহকারীদের মাঝে জাঁতাকলে পড়ে ছোটখাটো বইয়ের দোকানের মালিকদের প্রাণ ওষ্ঠাগত৷

infografik/2013_10_08_Umsatzentwicklung-Buchhandlungen-gegen-Internet.psd

ইন্টারনেটই আসলে বইবিক্রেতাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে

এ কেমন বৈরী

ইন্টারনেটই আসলে বইবিক্রেতাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ফ্রাংকফুর্ট বইমেলার উদ্যোক্তা ও আয়োজক জার্মান পুস্তক ব্যবসায় সমিতির হিসাব অনুযায়ী দশ বছর আগে বইবিক্রির মাত্র চার শতাংশ হতো ইন্টারনেটের মাধ্যমে; আজ সেই অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ শতাংশে৷ এক্ষেত্রে অ্যামাজন একাই প্রতি চারটি বইয়ের মধ্যে তিনটি বিক্রি করে থাকে, বলে জার্মান মেল-অর্ডার পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির অনুমান৷

অনলাইনের চাপে পড়ে অনেক ছোট পুস্তক ব্যবসায়ীও তাদের নিজস্ব অনলাইন শপ চালু করেছেন, যদিও তা থেকে মোট বিক্রির দেড় শতাংশ হয় কিনা সন্দেহ৷ কাজেই ছোট বইবিক্রেতা এবং বইয়ের দোকানগুলি শুধু একটিমাত্র ক্ষেত্রে অ্যামাজনের চেয়ে বেশি এগিয়ে আছে – এবং সেটি হল, হবু ক্রেতা ও পুস্তকপ্রেমীদের সঠিক বইয়ের সন্ধান দেওয়া, তাই নিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ করা৷

এ কাজটার জন্য যে ধরনের কর্মীর প্রয়োজন – যারা ক্রেতাদের অনেককে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং শুধু তাদের বই সংক্রান্ত পছন্দ-অপছন্দই নয়, খানিকটা ক্রেতাদের হাঁড়ির খবরও রাখেন – তারাই হলেন ছোট বইয়ের দোকানের আসল আকর্ষণ এবং আসল মূলধন৷ ব্যক্তিগত সম্ভাষণ ও সেবা, এর জন্যই ক্রেতারা ভবিষ্যতেও বইয়ের দোকানে আসবেন বলে পুস্তকশিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকের বিশ্বাস৷

Couple studying together, Paar bei gemeinsamer Weiterbildung

ব্যক্তিগত সম্ভাষণ ও সেবা, এর জন্যই ক্রেতারা ভবিষ্যতেও বইয়ের দোকানে আসবেন বলে পুস্তকশিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকের বিশ্বাস

অনলাইন ও অফলাইন

সব সত্ত্বেও গ্রাহকরা ক্রমেই আরো বেশি করে অনলাইনে বই কিনে চলেছেন এবং ছোট বইয়ের দোকানগুলির অকালমৃত্যু ঘটছে৷ ১৯৯৯ সালে জার্মান পুস্তক ব্যবসায় সমিতির সদস্য বইয়ের দোকানগুলির সংখ্যা ছিল ৪ হাজার আটশো', যা ২০১২ সালে কমে দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজারে৷ পুস্তকবিক্রেতা পেশাটির ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য: ২০১২ সালে গোটা জার্মানিতে যে সব তরুণ-তরুণী এই পেশায় প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন, তাদের সংখ্যা ছিল দেড় হাজার৷ অর্থাৎ মাত্র চার বছরের মধ্যে এই সংখ্যা কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ৷

জার্মানিতে আইন করা আছে যে, যে কোনো বই তার লিখিত দামেই সব দোকান থেকে বিক্রি করতে হবে, ইচ্ছে কিংবা সুবিধেমতো দাম কমালে চলবে না৷ এর ফলে চেনস্টোরগুলো প্রকাশকদের কাছ থেকে বিশেষ রিবেট পাবার কিংবা ক্রেতাদের বিশেষ রিবেট দেওয়ার সুযোগ পায় না – ছোট দোকানগুলির পক্ষে যা এক ধরনের সুরক্ষা৷ জার্মানিতে একটি বই সর্বত্র ঠিক একই দামে বিক্রি হবে, তা সাধারণ বইয়ের দোকান, অ্যামাজন কিংবা চেনস্টোর, যেখান থেকেই কিনুন না কেন৷

মুশকিল হল তথাকথিত ই-বুক নিয়ে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ই-বুক বইয়ের বাজারের ২৫ শতাংশ দখল করে নিয়েছে, কিন্তু জার্মানিতে ই-বুক-এর ভাগ তিন শতাংশেরও কম৷ তবে আগামী দু'বছরে ই-বুক-এর কারণে ছাপা বই বিক্রির পরিমাণ ১৬ শতাংশ কমবে, বলে জার্মান পুস্তক ব্যবসায় সমিতির ধারণা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন